Wednesday, September 30Welcome khabarica24 Online

রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট ১৯৯৬ ব্যাচের প্রথম অভিষেক

রাঙ্গুনিয়া থেকে পারভীন আকতার ::  বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৬ সালের এসএসসি ব্যাচের অভিষেক অনুষ্ঠান আড়ম্বরপূর্ণভাবে গত ২৫ শে সেপ্টেম্বর ‘০২৬ খ্রিস্টাব্দ চট্টগ্রাম নগরীর সিইসি সার্কেলের ইউনেস্কো সেন্টারের পঞ্চম তলায় অবস্থিত সাভোরিয়া রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।
দীর্ঘ তিরিশটি বছর পর জীবনের নানা পথ অতিক্রম করে আমরা সংখ্যায় পঞ্চাশোর্ধ ছাত্র ছাত্রী একই জায়গায় এসে একসাথে মিলিত হয়েছি যেন তেরো নদীর অববাহিকায় এক মোহনায়।
বন্ধুদের মাঝে এই দিনটি স্মরণীয় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে ‘৯৬ ব্যাচের সকল বন্ধুরা মিলে।
কবি ও শিক্ষক পারভীন আকতারের মনোজ্ঞ উপস্থাপনায় শুরু হয় অনুষ্ঠান শারদ সন্ধ্যায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিচিতি পর্ব চলে দীর্ঘক্ষণ। ফেলে আসা তিরিশ বছর কে, কোথায় ছিল,পারিবারিক পরিচিত, কর্মস্থলের খোঁজ খবর নেয়া থেকে শুরু করে সবাই উপস্থাপন করে।সকলেই নিজেদের অজানাকে অচেনাকে চিনে নিতে পেরেছে সহজে। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেয় বন্ধু সুলতান মালেক টিপু।তার গঠনমূলক বক্তব্যে সকলেই অনুপ্রাণিত হয়।
তারপর কবি পারভীন আকতার ডেকে আনেন একেক করে সমাজে সংস্কৃতিাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত বন্ধুদের। শিক্ষক ও কণ্ঠশিল্পী বন্ধু রাতুল বৈদ্য পর পর কয়েকটি গান পরিবেশন করে সকলের মন জয় করে নেয়। তার অসাধারণ গায়কীতে মজে আমাদের বন্ধু সেলিম চেয়ারম্যানও উঠে আনন্দে মাতোয়ারা হয়। রাতুলের গানে “পুরোনো সেই দিনের কথা ভুলবি কীরে হায়!”– একসাথে গেয়ে সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে যেন ১৯৯৬ সালের সেই স্কুল মাঠে আমরা ফেরত গেলাম। সকলকে সুমিষ্ট কন্ঠে আবৃত্তি শোনায় প্রতিভাধর বন্ধু শিউলী বড়ুয়া। তার কবিতা শুনে সকলে পিনপতন নিরবতায়। এরপর কবি পারভীন আকতার হাত ধরে কবির বই পৌঁছে যায় তার বন্ধুদের কাছে। সাথে কবি কন্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ হয়। তারপর বন্ধু কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আল আজাদের কন্ঠে দারুণ গান শুনে সবাই ভীষণ খুশি হয়। তার এমন প্রতিভা আগে দেখার সৌভাগ্য হয়নি অনেকের। অনেকটা অবাক করার মতো হয়েছে সালাউদ্দীনের গায়কীটা। তারপর স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ করার পালা এসে যায়। আজাদ থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন স্মৃতি চারণ করে যা ১৯৯১-১৯৯৬ সাল হাই স্কুল সময়টা আরো উজ্জীবিত করে তুলেছিল সকলকে। বন্ধুদের মাঝে যারা উপস্থিত ছিল তারা হলো প্রকৌশলী আতিকুর রহমান,প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার চৌধুরী,প্রকৌশলী সুকান্ত বড়ুয়া,ব্যাংকার রুবেল তালুকদার,ব্যাংকার সোইয়াব হাশেমী, মো:সেলিম চেয়ারম্যান,কর্পোরেট কর্মকর্তা টিটু,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন পারভেজ,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুলতান মালেক টিপু,সরকারী কর্মকর্তা শিউলী বড়ুয়া,সুমিত্রা বড়ুয়া,নন্দিনী মুৎসুদ্দী,সুচিতা মুৎসুদ্দী,অপি,পাপিয়া,রেশমা,আকতার,শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক পারভীন আকতার,মুনমুন,,রাজ্জাক,ফয়েজ,ইকবাল,দিদার,ওমর শরীফ, সালাউদ্দীন,লোকমান,আজাদ,হুমায়ুন,হাজী গিয়াস,হিরু,ইরাক, সুমেধ,দেবাশীষ,মেজবাহ,হারুন, ইরশাদ নূর সুমন,পূর্ণিমা,রাজন,সুমন মুৎসুদ্দি, জাবেদ,মোঃ বেলাল,জাহাঙ্গীর,শংকর,মোস্তফা রেজা,রূপন,রাতুল,মোয়াজ্জেম, মনসুরসহ আরো অনেকে। অনলাইনে যুক্ত ছিল কানাডা প্রবাসী বন্ধু জোনায়েদ মুরাদ জনি,আমেরিকা থেকে শিরিন আকতার,আবীর দাশ,শাহ ইমরান, ইউই থেকে গিয়াস ওমান থেকে সুজনসহ অনেকে।
প্রবাসী বন্ধুদের অনেকেই যাদের কথা স্মরণ না করলেই নয় তারা দারুণ সব প্রয়োজনীয় পরামর্শ,মূল্যবান সময় ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে এই অভিষেক অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। মনে হলো তারা প্রবাসে থাকলেও তাদের আত্মাটা আমাদের সাথেই সারাক্ষণ আছে। এ ভালোবাসা অমূল্য ও তুলনাহীন এক মায়ার বন্ধন সৃষ্টি করেছে আমাদের সকল বন্ধুদের মাঝে।
কিছু মহৎ উদ্যোগকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে আমরা তা আমাদের কথা,কবিতা,গানের ব্যন্জনায় উপস্থাপন করেছি,সাথে দুস্থ বন্ধুদের পাশে থাকারও অঙ্গীকার করেছি।
প্রিয় সহপাঠীরা ডিনার করে ফের বসলো,অনেক অনেক ছবি তোলা হলো।ভালো ফটোগ্রাফির ছবি উপহার দিল কবি ও শিক্ষক পারভীন আকতারের ছেলে ও মেয়ে রোহান ও রেহনুমা। সাথে ছিল বন্ধু পারভেজের দুই ছেলেমেয়ে ইফাজ ও ওর ছোট মেয়েটা। আতিকের ছেলে আহিয়ান রহমান সাথে থেকে আমাদের আনন্দ আরো বাড়িয়েছে। বন্ধু রেশমা ও পাপিয়ার স্বামীও সাথে ছিল।
আমাদের ‘৯৬ এসএসসি ব্যাচের এই ঐতিহাসিক মুহুর্তকে চিরস্মরণীয় রাখতে আমরা চেষ্টা করেছি সামর্থ্যের মধ্যে নান্দনিক আয়োজন রাখতে। ছোট্ট পরিসরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “শরতের রিমিঝিম ছন্দে এসএসসি ‘৯৬ ব্যাচ” শেষ করার পর লটারীতে জিতে নিয়েছে ভালো ভালো পুরস্কার বন্ধু দের যথাক্রমে সুমেধ,আতিক,ইরাক,নন্দিনী ও রেশমা। তবে সকলের জন্যই ছিল আকর্ষণীয় গিফট হ্যাম্পার। যাতে উল্লেখযোগ্য ছিল স্কুলের নাম ফলকে দারুণ মগ ও অন্যান্য উপহার সামগ্রিক।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে আয়োজকগণ তাদের নিজস্ব গাড়ির ব্যবস্থা করে সবাইকে এক করে নজীর সৃষ্টি করেছে যা সামনেও অব্যাহত থাকবে বলে সকল বন্ধু ইচ্ছে পোষণ করে। আলোচনায় সকলের সিদ্ধান্ত মতে, পনেরো জনের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয় এবং যাবতীয় কার্যক্রম উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সুপরিকল্পিতভাবে করার প্রয়াস চালাবে তারা এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে সপরিবারে একটি পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হবে ‘৯৬ ব্যাচের সকল বন্ধু একাত্মতা প্রকাশ করেছে।