Friday, September 4Welcome khabarica24 Online

মীরসরাইয়ে বর্বরোচিত হামলায় সাংবাদিক গুরুতর আহত : নিন্দা ও বিচার দাবী


নিজস্ব প্রতিনিধি ::
মীরসরাইয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে বাড়ি ফেরার পথে মোহনা টেলিভিশনের মীরসরাই উপজেলায় কর্মরত গনমাধ্যমকর্মী কামরুল ইসলামের (৩০) এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার করেরহাট বাজারের লক্ষীছরা ব্রিজ এলাকায় উক্ত ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত উক্ত সংবাদকর্মী মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন রয়েছেন । বৃহস্প্রতিবার ( ৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মীরসরাইয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার আহত সাংবাদিককে দেখতে হাসপাতালে যান এবং যথাযথ চিকিৎসা সহ হামলাকারীদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাষ প্রদান করেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে করেরহাট বাজার এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত কামরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে লাঠিসোটা দিয়ে বর্বরোচিতভাবে আঘাত করলে কামরুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার সঙ্গে থাকা একটি স্মার্টফোন, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাটস্থ বিএম হাসপাতালে ও পরবর্তিতে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে জানা জানায় হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা: এরশাদ উল্লাহ।
আহত সাংবাদিক কামরুল ইসলাম বলেন, “মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একটি দৈনিক পত্রিকায়’ ‘মীরসরাইয়ে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মাদক ও চাঁদাবাজ চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে রাতের আঁধারে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।” এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস গেট এলাকায় ফটিকছড়ি ও রামগড় থেকে বালুবাহী পিকআপ ও ট্রাক আটকিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্র ও চালকদের অভিযোগ, বৈধ ঘাট থেকে বালু পরিবহনের ¯িøপ দেখানোর পরও কয়েকটি গাড়ি থেকে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বারইয়ারহাট পৌরসভার সহকারী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয়ক ফজলুল মুরাদসহ ও করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক জামসেদ আলম ফারুক, যুবদল নেতা মো: উদ্দিন, তারেক, মাসুদ, সাইফুল ইসলাম, পারভেছ সহ অজ্ঞাত ১৫ জনের নামে জোরারগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন সাংবাদিক কামরুল।
হামলার বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ইয়াসিন মিজান বলেন বিএনপি এই ধরনের হামলাকে সমর্থন করেনা, অপরাধী যে হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম বলেন, “হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আবার হাসপাতালে চিকিৎসাধিন কামরুলকে দেখতে যাওয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী নিজাম বলেন গনমাধ্যমকর্মীরা আমাদের সমাজের প্রতিবিম্ব, আমাদের দলের কেউ যদি উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত থাকে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এদিকে উক্ত ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মীরসরাই উপজেলার পৃথক দুটি প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাবৃন্দ। মীরসরাই উপজেলা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক মাহবুব পলাশ ও অপর প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ এবং সাধারন সম্পাদক মাঈন উদ্দিন উক্ত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে উপজেলার সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে এমন ঘৃন্য ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ।