বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪, ২৬ আষাঢ় ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

এক্সরের পর যাত্রীর পেটে মিলল ৪০ লাখ টাকার সোনা

bally-gold_301188

অভিনব কৌশলে পায়ুপথ দিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি সোনার বার পেটে ঢুকিয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম। দুবাই থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে নিরাপদেই বেরিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু বাধ সাধেন কাস্টমস ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার সময় গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে আটক করে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও অবৈধ কিছু মেলেনি। হাল ছাড়েননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর কাস্টমস কর্মকর্তারা রফিকুল ইসলামের পুরো শরীর এক্সরে করার সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার সকালে পুলিশের সহায়তায় রাজধানীর উত্তরায় একটি প্রাইভেট মেডিকেলে এক্সরে করার পর ওই যাত্রীর তলপেটে ধাতবজাতীয় বস্তুর অস্তিত্ব মেলে। এরপর ওষুধ দিয়ে বের করে আনা হয় কালো রংয়ের টেপ আর প্লাস্টিকে মোড়ানো ৬টি সোনার বার। এ ঘটনায় হতবাক শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এর আগে সোনা চোরাচালানের এমন ঘটনা ঘটেনি।ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যুগ্ম কমিশনার সোহেল রহমান যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় দুবাই থেকে একটি ফ্লাইটে (এসজেড-৫৮৫) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার কাজী রফিকুল ইসলাম। ওই যাত্রী অবৈধ সোনা বহন করছেন, এমন খবর আগেই কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে ছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানবন্দরে কর্মরত এক কাস্টমস কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, নিশ্চিত তথ্য থাকার পরও রফিকুল ইসলামের লাগেজ ও শরীর তল্লাশি করে কিছুই পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে লাগেজ নিয়ে গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় কাস্টম হাউসের কমিশনার লুৎফর রহমানের নির্দেশে তাকে ফের আটক করা হয়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদেও সোনা চোরাচালানের বিষয়টি স্বীকার করেননি রফিকুল। পরে সকালে বিমানবন্দর থানা পুলিশের সহায়তায় উত্তরা মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে রফিকুলের পুরো শরীর এক্সরে করা হয়। এক্সরে-তে তার তলপেটে ধাতবজাতীয় বস্তুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের যুগ্ম কমিশনার সোহেল রহমান যুগান্তরকে বলেন, এক্সরে-তে সোনার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে রফিককে গ্লিসারিন সাপোসিটর দেয়া হয়। এরপর তার পায়ুপথ দিয়ে বেরিয়ে আসে কালো টেপে প্লাস্টিকে মোড়ানো ৬টি সোনার বার। ওই কাস্টমস কর্মকর্তা জানান, সোনার বারগুলো রফিকের লোয়ার অ্যাবডোমেনে ছিল। দুবাইয়ে রেকটাম নামক এক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে ওই যাত্রী সোনার বারগুলো পায়ুপথ দিয়ে পেটে ঢুকিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক কাস্টমস কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এর আগেও একইভাবে রফিকুল ইসলাম কয়েক দফায় সোনার চালান ঢাকায় এনেছেন। তবে তিনি একজন বাহক। তার মতো একই পক্রিয়ায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশী সোনা চোরাচালানের বাহক হিসেবে কাজ করে বলে রফিকুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। প্রতিটি ট্রিপে তারা পান ২ লাখ টাকা। শুক্রবার উদ্ধার হওয়া ৬শ’ গ্রাস সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বলে ওই কাস্টমস কর্মকর্তা জানান। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তা সোহেল রহমান বলেন, কারা এ চক্রে জড়িত তা জানতে রফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, এর আগে বেশ কয়েক দফায় পায়ুপথে ইয়াবা পাচারের সময় আটক হয়েছেন অনেকেই। তবে দেশে এ প্রক্রিয়ায় চোরাচালান হয়ে আসা সোনা উদ্ধারের ঘটনা এটাই প্রথম। এ পদ্ধতিতে সোনা বহন প্রসঙ্গে খ্যাতনামা গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একে আজাদ খান যুগান্তরকে বলেন, সোনা পেটের মধ্যে বহন করলে কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ এ ধাতু মানব দেহে দ্রবীভূত হয় না। কোনো অসুধ প্রয়োগ করে পায়ুপথ থেকে বের করে আনলেও মানুষের কোনো শারীরিক সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে পেটের মধ্যে মেকানিক্যাল সমস্যা (অন্ত্রে প্যাঁচিয়ে যায়) হলে অস্ত্রোপচার করে সোনা বের করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বহনকারীর শারীরিক সমস্যা হতে পারে।