মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

আইসিটি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারে নতুন নজির স্থাপন করেছে : প্রধানমন্ত্রী

image_246016.hasina-9

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল, বাংলাদেশ (আইসিটি-বিডি) উন্মুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে একটি নতুন নজির স্থাপন করেছে।আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার দিবসের প্রাক্কালে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরপেক্ষ জাতীয় আদালতের মাধ্যমে মানবতার বিরুদ্ধে উন্মুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে একটি নতুন নজির স্থাপন করেছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত ঘৃণ্য অপরাধের শিকার লাখ লাখ মানুষের জন্য ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছে।তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইন, ১৯৭৩ জাতীয় আদালত গঠনের ভিত্তি স্থাপন করেছে যা চার দশক পর ন্যায়বিচার ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের দাবিতে সাড়া দিয়েছে।তিনি বলেন, এসব বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদানের যথার্থতা প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে জাতীয় আদালতগুলো সর্বশেষ আদালত হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কাজের প্রশংসা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঙ্গত কারণেই আমরা আইসিসি’র সামর্থ ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে গভীরভাবে আগ্রহী হয়েছি এবং রোম স্ট্যাটিউটের সার্বজনীন চেতনা জোরদার করতে আমাদের প্রয়াস চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছি।শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় যৌণ ও লিঙ্গভিত্তিক অপরাধ রোধ করার বিষয়ে আইসিসি’র মনোনিবেশ এ বিষয়ে উদ্ভূত বৈশ্বিক ঐকমত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।তিনি বলেন, আমি দৃঢ় আস্থাশীল যে, আইসিসিতে নিয়োজিত সকল নারী নেতৃত্ব আইসিসি’র কাজে নতুন মাত্রা যোগ করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যাব যাতে গণ নৃসংশতামূলক অপরাধ অতীতের একটি বিষয়ে পরিণত হয়।প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শান্তি ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা ও জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যা সকল মানবতার জন্য একটি অভিন্ন বন্ধন সৃষ্টি করে।তিনি বলেন, সারা বিশ্বের যে কোন স্থানে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়ে আমাদের অঙ্গীকার বজায় থাকবে।শেখ হাসিনা বলেন, ২০১০ সালের মার্চ মাসে রোম স্ট্যাটিউটে বাংলাদেশের যোগদান আমাদের এ বিশ্বে শান্তি ও ন্যায়বিচারের অভিন্ন চেতনা অনুসরণের আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের জাতীয় চেতনায় এই বিষয়ে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন এবং মানবতা বিরোধী সকল অপরাধ বিচারের আওতায় আনার জন্য সকল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়াসের সঙ্গে আমাদের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছে। আর এভাবেই অতীতের সঙ্গে বোঝাপড়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

 

উৎস- কালেরকন্ঠ