
আবুল খায়ের, সীতাকুন্ডঃ
সীতাকুন্ডে ২৩ হাজার কৃষক পরিবার এখন আউশ চারা রোপনে ব্যস্ত। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার কষ্টের মাঝেও সোনালী ধানের খুশবোই আবার তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়। চৈত্র-বৈশাখে বীজ বোপনের পর জ্যৈষ্ঠের অপেক্ষার প্রহর গুনে কৃষক। প্রকৃতির করুনার বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমার সাথে সাথে চাষ এবং চারা রোপন শুরু করে তারা। গত বছরে সময়মত বৃষ্টি না হওয়ার কারনে আউশের চারা রোপনে অনেকটা পিছিয়ে পড়ে ছিলেন সাধারণ কৃষক। কিন্তু চলতি বছরে আগাম বৃষ্টি হওয়াতে আগে ভাগে আউশ রোপনে সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ২নং বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল ব্লকের কৃষক আব্দুল মান্নান। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে আউশ প্রনোদনা আওতায় উচ্চ ফলন শীল নতুন প্রজাতির আফ্রিকার নেরিকা জাতের ধানের বীজ ১০ কেজি ও সারসহ অন্যান্য সামগ্রী বিনা মূল্যে কৃষি অফিস থেকে সংগ্রহ করে জৈষ্ঠের প্রথমে ৬০ শতক ও আউশের অন্যান্য জাতের আরো ৮৪ শতকসহ সর্ব মোট ১৪৪ শতক জমিতে চারা রোপন করেছেন। বর্তমানে বৃষ্টি কৃষদের প্রয়োজন থাকলেও তবে বেশি বৃষ্টি তারা আশা করছেন না। তিনি বলেন প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে কৃষকদের সদ্য রোপন করা আউশ এর ক্ষতি হয়ে থাকে। তাই এ বছরও আগের মত হলে অমরা ধান চাষে খুব ক্ষতির শিকার হবো। এ ব্লকে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরী বলেন, গ্রামের কৃষক পরিবারের সকল সদস্যরা এখন আউশের চারা রোপনে কোমড়ে গামছা বেঁধে ক্ষেতে নেমেছেন। তাই তারা অনেক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে টেরিয়াইল ব্লকে শুধু ৩৭২ হেক্টর জমিতে প্রায় ১হাজার কৃষক আউশের বিভিন্ন জাতের চারা রোপন করেছেন। ধান উৎপাদনের পর স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এতে করে এ জাত আস্তে আস্তে প্রতিটি ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়বে। আর বাড়বে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও। সরেজমিন কৃষকদের সাথে আলাপকালে জানাযায়, উপজেলার প্রায় ইউনিয়নে পানি নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর ভারী বর্ষনে জলাবদ্ধতায় উপকূলীয় এলাকায় আউশ রোপন করে তারা বার বার ক্ষতির শিকার হন। অন্যদিকে বাড়বকু- নডালীয়া এলাকার কৃষক আখেরুজ্জামান বলেন, বিনা মূল্যে ১০ কেজি উপশী জাতের ব্রীধান ৪৮ সংগ্রহ করে জৈষ্ঠের ১৮ তারিখে ৩০শতক জমিতে রোপন করা হয়।এ ছাড়া তিনি মোট ১৬০শতক জমিতে আউশের অন্যান্য জাতের ধানের চাষ করেছেন। বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের পানির হাত থেকে সদ্য চাষকরা ধানের চারাগুলো রক্ষাকরা গেলে আশা করছি ধানের উৎপাদন খুব ভাল হবে। এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা বলেন,চলতি মৌসুমের চৈত্র মাসে প্রনোদনার আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নের ১১শ’কৃষকদের মাঝে কৃষকদের মাঝে উপশী ৫ কেজি,নেরিকা ১০ কেজি,ইউরিয়া সার ২০ কেজি,এমওপি ১০ কেজি ও ডিএপি ১০ কেজি বিনা মূল্যে বিতরন করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্ত পরিচর্যার জন্য সাথে ৮০০ টাকা হারে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কৃষকদের দেয়া হয়। মৌসুমে প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে থাকা সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ রোপনের শেষ সময় পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার কৃষক এ চারা রোপনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে আগের চেয়ে আরো বেশি চাল উৎপাদন সম্ভব হবে।
এদিকে আউশ উৎপাদন বিষয়ে উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আমিনুল হক চৌধুরী বলেন,আউশ আবাদ বৃদ্ধির জন্য চট্টগ্রামে বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। যেসব খালি জায়গা রয়েছে সে সব জায়গায় আউশ রোপনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকার কৃষি বিষয়ে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহন করছেন। যা কোনো সরকার বিগত দিনে এমন উদ্যোগ গ্রহন করেনি।
