
ইরান 🇮🇷 বনাম আমেরিকা 🇺🇸(পশ্চাতে লাইটব্যা কুত্তা ইসরায়েল) এর মধ্যে আমেরিকার চাপিয়ে দেয়া অন্যায্য ও বেআইনি যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সুনির্দ্দিষ্ট কিছু শর্তে একটি সম্মতি স্মারক (MoU – Memorandum of Understanding) স্বাক্ষরিত হলো। উভয় পক্ষের সুমতির জন্য অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানাই। সাথে সফল মধ্যস্ততাকারি হিসেবে পাকিস্তানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। এটা নিশ্চয়ই শান্তিপ্রিয় বিশ্বের প্রাথমিক অর্জন। চূড়ান্ত বিজয় হবে ৬০ দিনের মধ্যে এমওইউ এর শর্তগুলোর উপরে উভয়পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে। বিশ্ব আশা করে শান্তি স্থাপিত হবেই, পিছিয়ে যাওয়ার পথ নেই।
সংক্ষেপে একটু ফ্ল্যাশ ব্যাক করি। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সফল হলে বিপ্লবী সরকারের আমল থেকেই ইওরোপ আমেরিকা সহ বিশ্বে আমেরিকান মিত্র সকল দেশ ইরানের উপর চড়াও হয়। রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক ধর্মীয় অর্থনৈতিক বানিজ্যিক সকল ক্ষেত্রে ইরানকে দমন করার সকল পদক্ষেপ নেয়া হয়। কিন্তু ৪৭ বছরের অক্লান্ত চেষ্টায় ইরান 🇮🇷 দমনে ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ অনিবার্য্য ও অপরিহার্য্য বলে আমেরিকা ও লাইটব্যা কুত্তা ইসরাইল সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সালের মধ্য জুনে ইরানের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধ করে আমেরিকা। মুলত ওটা ছিল ইরানের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা যাচাইয়ের টেস্ট আগ্রাসন। তাতে আমেরিকার হয়তো মনে হয়েছিল ইরানের চারপাশে কিছু নৌবহরের মহড়া করলে ইরান 🇮🇷 ভয়ে নতজানু হবে এবং আমেরিকার যে কোন ইচ্ছা পূরণে শুধু বলতে দেরী ইরান রাজি হতে দেরী করবেনা। যেই ভাবা সেই কাজ, আমেরিকা কাগজে কলমে রাশভারী গালভরা শক্তি প্রদর্শনের সকল সমরসজ্জা নিয়ে এক অনাবশ্যার কালোরাতে পারস্য উপসাগরে হাজির হলো। সেগুলো দেখিয়ে ইরানকে চাপ দিল একটি “ডীল”(আমেরিকার প্রেসিডেন্টের খুব প্রিয় শব্দ মনে হয়) করতে। প্রকাশ্য ইস্যু ৩টি:
১) ইরানের রিজিম(এটাও একমাত্র আমেরিকান প্রেসিডেন্টের খুব প্রিয় শব্দ) চেন্জ,
২) ইরানের পারমানবিক কর্মসূচী চিরতরে বন্ধ করে অর্জিত সকল অগ্রগতি ধ্বংস করে ফেলা। ২০২৫ সালে ১২ দিনের হামলা শেষে যদিও আমেরিকান প্রেসিডেন্ট দাবী করেছিলেন ইরানের পারমানবিক সকল কর্মসূচী ও স্থাপনা ধ্বংস করা হয়ে গেছে,
৩) ইরানের দূরপাল্লার মিসাইল কর্মসূচী চিরকালের জন্য বন্ধ করে যেটুকু ইতোমধ্যে অর্জন তা ধ্বংস করে পাল্লা ও গতি সীমিত করে দেয়া, যাতে ইরানের বর্ডারের বাইরে ওদের কোন মিসাইল যেতে না পারে।
প্রকাশ্য ইস্যু ৩টির প্রথমটির আড়ালে ছিল ইরানে ভেনেজুয়েলার মত আমেরিকার পুতুল সরকার বসিয়ে ইরানের রাষ্ট্র ক্ষমতা পরোক্ষ দখল করে ইরানের তৈল সহ সীমাহীন খনিজ সম্পদ লুটপাট করা। দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির আড়ালে ছিল বিশ্বের শান্তি বিনষ্টকারি, মধ্যপ্রাচ্যের ক্যানসার দখলবাজ গণহত্যাকারি সন্ত্রাসী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করা যাতে সে নির্বিঘ্নে জর্ডান মিশর সিরিয়া লেবানন সাউদি আরব ইরাক ও তুরষ্ক প্রভৃতি দেশগুলোর কোন কোনটা সম্পূর্ণ ও কোন কোনটার আংশিক জবর দখল করে গ্রেটার ইসরায়েল রাষ্ট্র বানাতে পারে, তাদের কথিত উদ্ধারকারী প্রভু দাজ্জালকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্বে দু:শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
কিন্তু বিধি বাম। আমেরিকার হাঁকডাক, কাগজে কলমে বিশ্বের সেরা শক্তিশালী নৌবহর বিমান বহর রণতরী বহর কিছুকেই পাত্তা দিলনা তোয়াক্কা করলোনা ৪৭ বছরের নিষ্পেষিত নির্যাতিত নিপীড়িত ইরান। ফলে আমেরিকা ও তাদের লাইটব্যা কুত্তা ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে বসলো, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখের প্রথম অভিযানেই হত্যা করা হলো ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা সহ ডজনাধিক সামরিক শীর্ষ কমান্ডার ও বেসামরিক লীডার। হত্যা করা হলো ১৬৮ জন শিশু স্কুলছাত্রী। কথিত আছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল যে কোন রক্তক্ষয়ী অভিযান শুরু করে শিশু বলি দিয়ে, এটা নাকি তাদের জায়নবাদি নীতি ও ঐতিহ্য। ইরানের শিশুদের স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৬৮ জন শিশুছাত্রী হত্যা করা তাদের ঐ ঐতিহ্যবাহী শিশু বলিদানের ধারাবাহিকতা।
যাহোক ইরানের টনক নড়লোনা তাতেও, তোয়াক্কাই করলোনা আমেরিকান প্রেসিডেন্টের কোন “ডীল” প্রস্তাব। ফলে শুরু হলো দুপক্ষের প্রাণঘাতি তুমুল যুদ্ধ। সে যুদ্ধ ৮মে একতরফা স্থগিত করলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। ইরানের ভূমিতে ইরানের সামরিক বেসামরিক স্থাপনা সমূহের বেশুমার ক্ষতি হলো, অপরদিকে মধ্যপ্রাচ্য সহ ইরানকে ঘিরে ধরা প্রায় ২৮টি আমেরিকান সামরিক ও নৌঘাঁটি সহ পারস্য ও ওমান উপসাগরে অবস্থান নেয়া রণতরী নৌবহর এবং ৪৯টি বিমান ধ্বংস ও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হলো। ইরানের সাধারণ নাগরিক সহ সৈনিক এবং আমেরিকার সৈনিক কত যে নিহত হয়েছে সেই প্রকৃত সংখ্যা কখনোই পাওয়া যাবেনা, পাওয়া যায়না। কারণ যে কোন যুদ্ধের একটি নিখোঁজ তালিকা থাকে, জনগণকে এবং স্বজন হারানোদেরকে ধোঁকা ও প্রতারণা করতে বেশীরভাগ নিহত সৈনিকের নাম নিখোঁজ তালিকা ভুক্ত করা হয়। মানে কখনো মা কখনো তোমার স্বজন ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে। ভিয়েতনাম এবং আফগানিস্তান যুদ্ধের নিখোঁজ তালিকা নাকি এখনো বেশ দীর্ঘ।
অবশেষে ৮মে আমেরিকার পক্ষ থেকে একতরফা যুদ্ধ বিরতি ইরানও মেনে নিল, এতেই স্পষ্ট দুই পক্ষই বেশ কাবু। ঐ বিরতি ১৪ জুন যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্মতি চুক্তিতে রুপ নিল, ১৪ আগষ্টের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধ তথা অনাক্রমণ চুক্তি বা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেষ হবে ইনশাআল্লাহ।
এই যুদ্ধে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট সাহেব কমপক্ষে ৩৭ বার তাঁদের বিজয় ঘোষণা করলেও যুদ্ধের অবসান হলো যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তিচুক্তি করার সম্মতি স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে, কোন পক্ষের আত্মসমর্পন দলিলের মাধ্যমে নয়। তাই আমেরিকা পরাজিত হয়েছে বলে তাঁদেরকে অসন্মান ও খাটো করতে চাইনা। তবে যুদ্ধের ফলাফলে সম্মতি পত্র/চুক্তির শর্ত যেটুকু প্রকাশিত হয়েছে তাতে আমেরিকার নৈতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরাজয় হয়েছে এবং ইরানের শতভাগ বিজয় হয়েছে বলা যায়।
যেমন:
১) আমেরিকার উপরোল্লিখিত ৩টি প্রকাশ্য ও ২টি অপ্রকাশ্য উদ্দেশ্যের একটিও অর্জিত হয়নি। না ইরানের রিজিম চেন্জ করা গেছে, না রাষ্ট্র ক্ষমতা এবং তৈল ও অন্যান্য খনিজ সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ নেয়া গেছে,
২) ইরানের মিসাইল কর্মসূচী নিয়ে কোন পর্যায়ের আলোচনায় একটি শব্দও স্থান পায়নি। অর্থাৎ ইরান অবাধে তাদের মিসাইল কর্মসূচীর উন্নতি অব্যাহত রাখবে। যাতে ইসরাইল তো কিছুই নয় আরেকবার আমেরিকা ইরান আক্রমণের দু:সাহস দেখালে খোদ আমেরিকান ভূমিতে ইরান আক্রমণ করতে পারে,
৩) ইরান সম্মত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদে তারা কখনো পারমানবিক অস্ত্র বানাবেনা। কিন্তু তারা স্বীকারই করেনি তাদের পারমানবিক কর্মসূচী বাদ দিবে। ইরান শান্তি ও সেবামূলক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অবশ্যই পারমানবিক কর্মসূচী অব্যাহত রাখবে, কিন্তু বোমা বানাবেনা। কিন্তু ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দেয়ার দাবী পূরণ হয়নি। এই পারমানবিক অস্ত্র বানানো নিয়ে ইরানের একটি মহা শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। ইরান আদতে কখনো পারমানবিক অস্ত্র বানায়ওনি, বানাতোও না। আমেরিকার শর্ত না থাকলেও না। কিন্তু ইউরেনিয়াম এনরিচ করে আমেরিকাকে প্রচন্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপে রেখেছিল। যা চমৎকার ফল দিয়েছে, আমেরিকা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার, সকল স্যাংশন তুলে নিচ্ছে, ইরানের ফ্রিজ করা সম্প্দ অবমুক্ত করতে হচ্ছে, হরমুজের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হচ্ছে এবং আরো অনেক কিছু।
ইরান কখনোই পারমানবিক অস্ত্র বানাতোনা এজন্য যে:
ক) ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ফতোয়া আছে পারমানবিক অস্ত্রের বিরোধী। ইরান ৫০০০ বছরের সভ্য জাতি, পূর্বসুরি অগ্রনায়কদের শ্রদ্ধা ও সন্মান দিতে এবং মর্যাদা রাখতে ওরা জানে,
খ) ইরানের রণকৌশল ভিন্ন। আমেরিকার বিশাল বিশাল রণতরী নৌবহর রাডার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দামী দামী ক্ষেপনাস্ত্র বাঘা বাঘা বিমান এসবের বিপরীতে ইরান ব্যবহার করেছে স্বল্পমূল্যের ছোট ছোট অথচ গুচ্ছ গুচ্ছ মিসাইল ড্রোন স্পীড বোট ইত্যাদি। গ) সুতরাং ইরান কখনো পারমানবিক অস্ত্রের পথে হাঁটতোনা। ইরান তো দেখিয়েই দিল পারমানবিক অস্ত্র ব্যতিরেকেই কিভাবে দু দুটো পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্রকে নাস্তানাবুদ করা যায়। বস্তুত ইরান ভালই বুঝে গেছে পারমানবিক অস্ত্র কোন কাজের জিনিষ নয়, কেবল শোপিস, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর জন্য। নতুবা ১৯৪৫ এর পর তো অনেক যুদ্ধই হলো। সেই যে প্রথম উদ্ভাবন, প্রথম উৎপাদন ও প্রথম ব্যবহারকারি আমেরিকার পর আর কখন কোন দেশ পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে? আছে তো ৯/১০ টা দেশের কাছে। সুতরাং ইরান পারমানবিক বোমা কয়টা বানিয়ে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন পালনের পেছনে বছরের পর বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার মত দূর্বুদ্ধি ইরান করবেনা,
৪) আমেরিকা ইরান আক্রমণ করে সারা বিশ্বের মিত্র বন্ধু বিভিন্ন জোট সদস্য সবার নিকট হেয় অপমানিত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিশ্বের বিলিয়ন বিলিয়ন সাধারণ মানুষের নিকট তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও ঘৃণার পাত্র হয়েছে। খোদ মার্কিন জনগণ নিজ রিপাবলিকান দল বিরোধী ডেমোক্রেট দল কংগ্রেস সহ সকলের নিকট হোয়াইট হাউজ বাসিন্দারা ও প্রশাসন অপমানিত বিতর্কিত ও ঘৃণিত হয়েছে, বিতাড়িত ও কারাবাসেও যেতে হতে পারে।
পক্ষান্তরে:
১) ইরান বাস্তবে তাদের কোন স্বার্থই ত্যাগ করেনি, বরং অর্জন করেছে –
ক) ৪৭ বছর ধরে পুন্জিভূত ফ্রিজ হওয়া অর্থ ফেরত পাচ্ছে, স্যাংসন প্রত্যহৃত হচ্ছে, বানিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড অবারিত ও উম্মুক্ত হচ্ছে,
খ) হরমুজ প্রণালীর উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ সংহত হচ্ছে, চাইলে শত্রু দেশ সমূহের নিকট থেকে টোল নিতে পারবে, ইসরায়েল সহ অন্যান্য বিরুদ্ধবাদি রাষ্ট্র সমূহের হরমুজ ব্যবহার নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে,
২) আমেরিকা থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায়,
৩) আমেরিকা ও ইসরায়েল বধ করতে পেরে সারা বিশ্ব থেকে নুতন পরাশক্তির প্রশংসা ও স্বীকৃতি অর্জন। এবং সারা বিশ্বের বিলিয়ন বিলিয়ন সাধারণ মানুষের সমর্থন সহানুভূতি ও ভালবাসা আদায়। এমনকি ধর্ম দর্শনের ভিত্তিতে বিভাজিত আরব রাষ্ট্রসমূহের সরকার ও জনগণের নমনীয়তা অর্জন,
৪) ইসরায়েলের প্রকৃত অপরাধীর চেহারা উম্মোচিত করে দিয়ে বিশ্বের নিকট ঘৃণিত নিন্দিত ও প্রত্যাখ্যাত করে দেয়া। এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইরানের যত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়েছে তার হাজারগুণ ক্ষতি হয়েছে ইসরায়েলের। যে ক্ষতি তারা আর কখনো কাটিয়ে উঠতে পারবেনা। তাদের এন্টি সিমিটিজম ও হলোকাস্ট ব্যবসা সারা বিশ্বের নিকট ফকফকা পরিষ্কার হয়ে গেছে। যে ইওরোপ আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্ব ইসরায়েলের প্রতি বিশেষ দূর্বল থাকতো অন্ধ বিশ্বাস করতো তাদের সিমিটিজম ও হলোকাস্ট তত্ত্ব ও ব্যবসার প্রতি খুব পজেটিভ সেন্টিমেন্ট প্রদর্শন করতো তারাও এখন ইসরায়েলের অব্যাহত অপরাধ ও বিচার নিয়ে সোচ্চার এমনকি অনেক পশ্চিমা দেশ এখন ইসরায়েলের অবসায়ন চায়।
সুতরাং এই যুদ্ধে ইরান সুষ্পষ্ট ব্যবধানে বিজয়ী বলা অতিরন্জন হবেনা।
লিখা সঙ্গত কারণে অনেক বড় হয়ে গেছে। প্রিয় পাঠকদের ধৈর্য্যচ্যুতি তো হবেই। গালিও দিবেন সবাই। দিন। তথাপি একদম প্রথমে ব্যবহৃত “লাইটব্যা কুত্তা” টার্মটি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করি। এটা আমাদের মিরসরাইর আন্চলিক শব্দ, মানে দূর্বল রুগ্ন শীর্ণ শক্তিহীন কুকুর। তবে এটার একটি চমৎকার চারিত্রিক বৈশিষ্ট আছে। তা হলো রাস্তায় বা দূরে কোথাও গিয়ে কোন সবল বা অন্য কুকুরদের কাছে বেদম মার খেয়ে কেঁউঁ কেঁউঁ করতে করতে বাড়িতে চলে এসে চুপচাপ বসে থাকে, আর বাইরের দিকে এক পা’ও দেয়না। তারপর অপেক্ষায় থাকে কোনদিন অন্য কোন শক্তিশালী কুকুর তাদের স্বার্থের দ্বন্দ্বে ঐ সবল কুকুরকে মারতে যায় তখন লাইটব্যা কুকুরটা মনের আনন্দে শক্তিমান কুকুরটার পেছনে পেছনে লাফাতে লাফাতে ২পা এগোয় ৩পা পেছোয়। এভাবে একটুর গিয়ে শক্তিমান কুকুরটাকে একটু উত্তেজিত করে দিয়ে পিছিয়ে চলে আসে, শেষ পর্যন্ত যায়না। তো ইসরায়েল যে আমেরিকার পেছনের স্রেফ একটা লাইটব্যা কুকুর তা স্বয়ং আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দিলেন। তিনিও শান্তি চুক্তি বিলম্বের জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করলেন এবং ইরানের কাছে পারমানবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইলকে ২ ঘন্টায় উড়িয়ে দিবে তাও দ্ব্যর্থহীন ভাবে বল্লেন।
এতদ্ব্যতীত ইরান মার্কিন যুদ্ধে আমরা আরো কিছু লাইটব্যা কুত্তা স্বভাব চরিত্রের লোক দেখেছি। বলতে লজ্জা লাগছে। আমেরিকা ও ইসরায়েল কি ইরান কখন কাকে কি করেছে তাদের হয়ে ইরানকে মারতে গেছে, না তাদের হয়ে প্রতিশোধ নিতে গেছে? আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানকে মারতে গেছে তাদের কুস্বার্থ হাসিলের জন্য। কিন্তু কিছু লাইটব্যা কুত্তা সদৃশ্য লোককে দেখেছি মজলুম ইরানের উপর জুলুম করতে যাওয়া জালিমের সমর্থনে রাস্তায় লাফালাফি করেছে। আরে ব্যটা তোমার সাথে কেউ কখনো অন্যায় অপরাধ করলে তার প্রতিশোধ তুমি তোমার শক্তি দিয়ে নাও। সে শক্তি না থাকলে অর্জন করে প্রতিশোধ নাও, না পারলে অপরাধীকে বিচারের জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট ছেড়ে দাও যদি সৃষ্টিকর্তার হক বা ন্যায় বিচারের উপর তোমার বিশ্বাস থাকে। লাইটব্যা কুত্তার মত সুযোগ পেলে অন্যের শক্তির উপর ভর করতে যাবে কেন? সে তো তোমার সাথে অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে যায়নি তোমার হয়ে বা তোমার পক্ষে। লাইটব্যা কুত্কার স্বভাব চরিত্র যাদের আছে ত্যাগ করা উচিত।
এনামুল গোফরান চৌধুরী, লেখক ও গবেষক। অবসরপ্রাপ্ত শিল্প কনসালটেন্ট।
