মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

৬ বছরে শিশু ৪৫ বছর বয়ষ্কের চেয়ে বেশি জানে

kids_and_technology_731609463

আধুনিক প্রযু্ক্তি সম্পর্কে ছয় বছরের শিশুটি ৪৫ বছরের কোনো নারী পুরুষের চেয়ে বেশি ধারনা রাখে। ঘরে ঘরে এই সত্য জানা। এবার তা প্রমাণিত গবেষণায়ও। নতুন গবেষণা বলছে, স্মার্ট ফোন, ট্যাবলেট কম্পিউটার থেকে শুরু করে থ্রিডি প্রিন্টার, স্মার্ট গ্লাসেস যা কিছু উন্নত প্রযুক্তি গত দশকে এসেছে তা বড়দের পেছনে ফেলেছে আর পরিবারের ছোটদের সামনে এগিয়ে নিয়েছে।

ব্রিটেনের কমিউনিকেশন ওয়াচডগ অফকম তার জরিপে দেখিয়েছে ১৪-১৫ বছরের টিনেজাররা, যাদের জন্মই হয়েছে সহস্রাব্দের সন্ধিক্ষণে, এবং তারপরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের দুনিয়ায় বেড়ে উঠেছে, তারা আজ প্রযুক্তির ব্যবহারে সবচেয়ে সাহসী-সক্ষম।
তরুণরা এখন তাদের দিনের সাড়ে তিন ঘণ্টাই কাটিয়ে দেয় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। প্রাথমিকের শিশুরা আজকাল আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি প্রত্যয়ী।

৫৫ বছরের বেশি বয়সিদের ৬০ শতাংশই স্বীকার করেছেন তাদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে রিতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। আর ৬ থেকে ৮ বছরের শিশুরা এই প্রযুক্তি সঙ্গে অনেকটাই সহজ ও সাবলীল।

অফকম বলছে, ডিজিটাল যোগাযোগের ভবিষ্যতটি এই সহস্রাব্দ প্রজন্মের হাতেই গড়ে উঠবে। আজ যার বয়স আট বছর তার কাছে সামাজিক নেটওয়ার্কিং ফেসবুক, ইউটিউব আর টুইটারবিহীন যে একটি জগত ছিলো তা জানাই নেই। আর অন্যদিকে অনেক বয়ষ্ক ব্যক্তি আজ ই-মেইলের ব্যবহার শিখছে মাত্র।

২৮০০ ব্রিটিশ নাগরিককে একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে জরিপের আওতায় আনে অফকম। এর মাধ্যমে তাদের ডিজিটাল কনফিডেন্স দেখার চেষ্টা করা হয়। এই জরিপে ৬ বছরের শিশুরা ৯৮ পয়েন্ট পায়, যা ১৪-১৫ বছরে ১১৩ পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। আর বয়ষ্করা পায় ৯৬ পয়েন্ট। ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত তা ৮০-৭৫ পয়েন্টে নেমে আসে।

১৪-১৫ বছরের ছেলে মেয়েদের ৮৪ শতাংশ এও বলেছে, তারা জানেই না, প্রযুক্তির এই ডিভাইসগুলো ছাড়া কিভাবে বেঁচে থাকা যায়।

বড়রা অবশ্য শিশুদের অগ্রগতিতে প্রভাবিত হচ্ছেন। তাই তাদের মধ্যেও এই প্রযুক্তির ব্যবহারে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ৫৫ বছরের বেশি বয়সি ব্রিটিশদের অন্তয় এক তৃতীয়াংশ এখন একটি ট্যাবলেট কম্পিউটার কিনছে। যা গেলো বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি।
এছাড়াও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্রিটিশদের ১৪ শতাংশের হাতে এখন স্মার্টফোন রয়েছে। ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রতি দশ জনের মধ্যে নয় জনেরই রয়েছে এই ফোন।

অফকম দেখেছে যোগাযোগে সনাতনি টেলিফোনের আর ব্যবহার নেই। সামাজিক মাধ্যমে লিখিত বার্তা দেওয়া নেওয়া চলছে। ইন্টারনেটে কিংবা টেক্সট মেসেজ হিসেবে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ চলছে।

১২ থেকে ১৫ বছর যাদের বয়স তারা তাদের দিনের তিন ভাগ সময় টেলিফোনে কাটাচ্ছে।
শিশু আর টিনেজাররা যখন ডিজিট্যালি এগিয়ে যাচ্ছে, তখন অন্যরাও তার সুবিধা নিচ্ছে। প্রাত্যহিক জীবনের, কাজের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বাড়ছে। অফকম দেখেছে, অর্ধেকের কাছাকাছি বয়ষ্করা তাদের অফিস সময়ের বাইরেও ই-মেইল খুলছেন, তার ওপর কাজ করছেন।

অফিসের কাজ ঘরে বয়ে আনার প্রবণতা বেড়েছে ব্রডব্যান্ড ও স্মার্টফোনের হাত ধরেই।
প্রতি দশ জনের মধ্যে একজন এখন ঘুমুতে গিয়েও তার কর্মস্থলের ই-মেইল পাঠাচ্ছেন বা উত্তর দিচ্ছেন।

ছুটির দিনে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত মেইল, টেক্সট কিংবা টেলিফোন কলের উত্তর দিচ্ছেন প্রতি তিন জনের একজন। বিচে গিয়েও কাজ করছেন এমন কথা স্বীকার করেছেন অন্তত ১০ শতাংশ।

ওদিকে কাজের ক্ষেত্রেও বয়ে আনা হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবন। ৬০ শতাংশই স্বীকার করেছেন তারা কর্মক্ষেত্রে বসে ব্যক্তিগত ই-মেইল বা টেক্সট করছেন। অফিসে বসে অনলাইনে শপিং করছেন প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন।

উত্তরদাতাদের এক-চতুর্থাংশ মনে করেন এই প্রযুক্তি তাদের কর্মজীবন ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। তবে ১৫ শতাংশের মত, এতে বরং খারাপ হয়েছে।