Tuesday, July 28Welcome khabarica24 Online

জামায়াতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ

image_245981.sholakia1

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।এজন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। সরেজমিনে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক শ্রমিক অবকাঠামো প্রস্তুতির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।ইতোমধ্যেই ইমাম সাহেবের বসার স্থান (মেহরাব) ও আশপাশের দেয়ালে রঙের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। মেহরাবে সাদা, গোলাপি ও নীল রঙ দিয়ে রঞ্জিত করা হয়েছে। বাঁশের তৈরি অবকাঠামোর কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।ঈদের জামাতকে সামনে রেখে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মাঠ পরিস্কার পরিচ্ছন্নসহ সার্বিক সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। কর্মীরা মেহরাবের চুনকাম, মাঠে দাগ কাটার কাজ ও ওজুখানা পরিস্কার করেছে। মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনে চালু থাকবে। এবারও শোলাকিয়া মাঠ থেকে জামাত সরাসরি সম্প্রচার করবে বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল।প্রায় তিনশ’ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি ও ১ মিনিট আগে ১টি শর্টগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত আরম্ভের ঘোষণা দেওয়া হয়।সকাল ১০টায় শোলাকিয়ায় ১৮৮তম ঈদুল ফিতরের জামাতে ইমামতি করবেন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদউদ্দীন মাসউদ।শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ কমিটির সদস্য সচিব সদরের ইউএনও মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ মাঠ পরিদর্শন শেষে জানান, ঈদ বর্ষাকালে হওয়ায় পানি নির্গমনের দিকে গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়েছে। ময়দানের আশপাশে কোথাও যেন পানি না জমে সে দিকটি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের এ জামাতকে ঘিরে মুসল্লিদের অজুর পানি সরবরাহ ও ব্যবহৃত পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়দানে মুসল্লিদের সুবিধার জন্য থাকবে ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার।১৮২৮ সালে শোলাকিয়ায় ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হলেও এর যাত্রা শুরু হয় ১৭৫০ সালে। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ৬ষ্ঠ বংশদর দেওয়ান হযরত খানের উত্তরসূরী দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪.৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহে ওয়াকফ করে দেন। বর্তমানে এ জায়গার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ একর। যা আগত মুসল্লিদের মাত্র অর্ধেকের বেশি ধারণ করতে পারে। এ এলাকার পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। জনশ্রুতি আছে, ঈদগাহ মাঠে ১ম বড় জামাতে সোয়ালাখ লোক অংশ নিয়েছিলেন। যে কারণে এর নামকরণ করা হয় সোয়ালাকিয়া।মাঠের দৈর্ঘ্য পূর্ব পশ্চিমের দক্ষিণ পার্শ্ব ৯১৪ ফুট, উত্তর সীমারেখা ৭৮৮ ফুট। প্রস্থ উত্তর দক্ষিণে পশ্চিম সীমা রেখা ৩৩৫ ফুট ও পূর্ব সীমা রেখা ৩৬১ ফুট। মাঠের ভেতরে ২৬৫টি কাতার (লাইন) রয়েছে। মূল ঈদগাহে জায়গা সংকুলানের অভাবে মাঠের চারপাশের খালি জায়গা-জমি, ক্ষেত, বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এবং রাস্তা-ঘাটে অগণিত মুসল্লি¬কে নামাজ আদায় করতে হয়।এদিকে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ইতোমধ্যে ঈদকে স্বাগত জানিয়ে বড় বড় তোরণ নির্মাণ, ব্যানারে সাজানো সড়ক দ্বীপ স্থাপন করা হয়েছে।কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন খান জানান, শোলাকিয়ার ঈদ জামাত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। প্রবেশদ্বারে বসানো হবে ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়া জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ক্যাম্প বসানো হবে এবং সাদা পোশাকে পুলিশের গোয়েন্দা দল মোতায়েন থাকবে ঈদগাহ এলাকায়। ঈদের দিন পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাবও নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন থাকবে।শোলাকিয়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফর উল্লাহ জানান, ঈদগাহ মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দেশ-বিদেশের মুসল্লিদেরকে গ্রহণ করতে শোলাকিয়া মাঠ পরিচালনা কমিটি ও কিশোরগঞ্জবাসী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। – বাসস।

 

উৎস- কালেরকন্ঠ