
খবরিকা ডেক্স :
মীরসরাই উপজেলার পুরো পূর্ব পাশ পাহাড়ে ঘেরা। মীরসরাইয়ের পাহাড়গুলোয় রয়েছে ঘন সবুজ চিরহরিৎ বন। হরেক রকম গাছ, লতা-গুল্ম আর নানা জাতের পশুপাখি মিলে এ বন যেন প্রাণপ্রচট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার পুরো পূর্ব পাশজুড়ে আছে পাহাড়। সে পাহাড়ের বুক চিরে ঝরছে ঝরনা। পাহাড়ের পাদদেশেই আছে চোখজুড়ানো হ্রদ। এ উপজেলার পুরো উত্তর পাশটা ঘিরে রেখেছে টলটলে জলভরা ফেনী নদী, তেমনি পশ্চিম পাশজুড়ে রয়েছে সমুদ্র। বন, পাহাড়, ঝরনা, নদী, সমুদ্র ও হ্রদের এমন সম্মিলন কৃতির জাদুঘর। এসব পাহাড়ের বুক চিরে ঝরছে চোখজুড়ানো বেশ কিছু ঝরনা। ঝরনাগুলোর মধ্যে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, সোনাইছড়ি, বোয়ালিয়া, বাওয়াছড়া ও মহামায়া বেশ নজরকাড়া। এ ছাড়া ঝুঁকির কারণে বন বিভাগের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা মেলকুম ট্রেইলটি এখনো পর্যটকদের আরেক বড় আকর্ষণের জায়গা।
এ উপজেলায় ঘুরতে এলে দেখা মিলবে মহামায়া, সোনাইছড়ি ও বাওয়াছড়ার মতো স্বচ্ছ জলের মনভোলানো হ্রদের। এ হ্রদগুলোর মধ্যে মহামায়া আবার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। এ হ্রদে এসে নৌকায় ঘুরে নানা জলজ পাখি দেখাসহ শীতল জলে গা এলিয়ে দেওয়ার যে প্রশান্তি, তা আর কিছুতে মেলে না। এসবের সঙ্গে হ্রদে ইচ্ছেমতো কায়াকিং করার সুযোগ ভ্রমণে বাড়তি আমেজ তৈরি করে।
মীরসরাই মুহুরি সেচ প্রকল্প এলাকায় ফেনী নদীর শেষ প্রান্তে মিশে গেছে সমুদ্রের সঙ্গে। এ নদীতে নৌকায় ঘোরাঘুরি করতে করতে দেখা যায়। বেড়ানো শেষে নদীপাড়ের বেড়িবাঁধের ভাতঘরগুলোয় খাওয়া যায় নদী ও সমুদ্র থেকে তুলে আনা তাজা মাছ আর মহিষের দুধের টাটকা দই আর মুহুরি সেচ প্রকল্পের সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে গোধূলিবেলায় সূর্যাস্ত দেখার সুখস্মৃতি মনে গেঁথে থাকবে বহুকাল।
মীরসরাই উপজেলার পুরো পশ্চিম দিকটাই সমুদ্রঘেরা। চোখের সীমানায় উত্তাল ঢেউয়ের তালে জেলে নৌকার নাচন দেবে চোখের প্রশান্তি। ইচ্ছা করলে এখানকার মাছঘাটগুলোয় ঘুরে ঘুরে দেখা যাবে জেলেজীবনের সুখ-দুঃখ। সব শেষে সৈকতের জলে ভেজা পায়ে বাড়ির পথ ধরলে মনে হবে জীবন সুন্দর আর প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য দেখতে এখানে বারবার ফিরে আসতে চাইবে মন।
তবে রাতযাপনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় চাইলেও একবারে এখানকার সব কটি পর্যটন স্পট ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। সরকার এখানে পর্যটনের উন্নয়নে কিছু করেছে বলে মনে হয়না। থাকা, খাওয়া আর যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থা থাকলে এখানে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র তৈরির সব উপাদানই আছে।
