বিলের খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করার পরিণতিতে ভারতের সংসদে পাশ হয়ে যাওয়া সীমান্তচুক্তি-সংক্রান্ত বিলটিতে গুরুতর কিছু ভুল রয়ে গেছে। গত ৭ মে লোকসভায় বিল নিয়ে আলোচনার পরে প্রথম ভুলগুলি ধরা পরে। এরপর বিলটি পাশ করার সঙ্গে সঙ্গে বিলের ভুলগুলি সংশোধন করা হয়। ফলে ১১৯তম সংবিধান সংশোধনী ২০১৩ রূপান্তরিত হয়েছে ১০০তম সংবিধান সংশোধনী ২০১৫ হিসেবে। এরপরই রাজ্যসভায় পাস হওয়া বিলটি ফেরত পাঠনো হয়েছে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য। ফলে বিলটি প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য রাজ্যসভায় ফের উত্থাপন করতে হবে। গত ৬ মে রাজ্যসভায় বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় ভুলগুলি সরকারও যেমন খেয়াল করেনি তেমনি এমপিরা খেয়াল করেননি।লোকসভায় ভুলগুলি সংশোধন করার সুযোগ পাওয়া গেলেও রাজ্যসভায় সেই সুযোগ ছিল না। আর তাই সোমবার রাজ্যসভায় বিলটির সংশোধনী উত্থাপন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। গত শুক্রবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই ভুল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হামিদ আনসারি। বিলটিতে যেসব ছোটখাটো ভুল রয়েছে আইনগতভাবে সেগুলি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিলের খসড়ায় এর আগেও অনেক সমযই ভুল ধরা পড়েছে। তবে সীমান্তচুক্তি-সংক্রান্ত যে সংবিধান সংশোধনীটি সংসদে পাশ হয়েছে সেটি চিহ্নিত হয়েছে ১০০তম সংবিধান সংশোধনী, ২০১৫ হিসেবে। আবার ভিতরে সিডিউলে নানা জায়গায় তা উল্লেখিত হয়েছে ১১৯তম সংশোধনী ২০১৩ হিসেবে। মোট ৭টি ক্ষেত্রে এই ধরণের অসঙ্গতি রয়েছে।সোমবার এই অসঙ্গতি দূর করার জন্য রাজ্যসভার কার্যবিবরণীতে তা রাখা হয়েছে। এদিকে সংসদে বিলটি পাশ হওয়ার পরে সীমান্তচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছুটা সময় লাগবে বলে জানা গেছে। বিলটির সঙ্গে যেহেতু প্রথম সিডিউলের সংশোধন যুক্ত এবং সংবিধানের ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী এই সংশোধন হয়েছে। তাই এটি সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিসহ অন্তত ৫০ শতাংশ রাজ্যের অনুমোদন লাগবে কিনা তার আইনগত পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। সেই পরামর্শ মতোই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারপর তা পাঠানো হবে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য। সেই অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারি গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শেষ হবে।

