Tuesday, July 28Welcome khabarica24 Online

মন্ত্রিসভা ও সংসদে ফেসবুক খুলে দেওয়ার দাবি

FB_BD_0

মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সাংসদ তাহজীব আলম সিদ্দিকী ফেসবুক খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সোমবার মন্ত্রিসভার আলোচনার বাইরে ফেসবুক বন্ধ-চালুর পক্ষে-বিপক্ষে চলে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর কথোপকথন। একই দিনে জাতীয় সংসদে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় ঝিনাইদাহ-২ আসনের সাংসদ তাহজীব আলম সিদ্দিকী ফেসবুক খুলে দেওয়ার দাবি জানান। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে বাক্য বিনিময় হয়েছে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর। বৈঠকে নসরুল হামিদ বিপু প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি ফেসবুক বন্ধ করলেন কেন? জবাবে তারানা হালিম বলেন, ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ করে নাশকতার মাধ্যমে যদি একটি প্রাণও ঝরে যায় তার দায়িত্ব আপনি নেবেন? নসরুল হামিদ বলেন, ‘তার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে’। উত্তরে তারানা হলিম বলেন, ‘আপনি কি রাষ্ট্রের বাইরের অংশ, আপনিও তো একজন প্রতিমন্ত্রী। এর দায় আপনার ঘাড়েও আসে।’ এরপর চুপ হয়ে যান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। বিপুকে উদ্দেশ্য করে তারানা হালিম আরও বলেন, ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছে, তাতে আপনার সমস্যা কী? কিছু দুষ্ট‍ু লোক ফেসবুকের অপব্যবহার করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার দুজন সদস্য তাদের মোবাইলে ফেসবুক চালু করা যাচ্ছে জানালে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিটিআরসির নজরে আনেন। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীকে জবাবও দিয়েছে বিটিআরসি। তবে কি জবাব দিয়েছে তা জানা যায়নি। এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের অষ্টম অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে নয়, বরং আরো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যতে ভয়াবহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটার আশঙ্কায় সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে। অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের ফলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সব প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুটি দিকই আছে। প্রযুক্তির কুফল চিন্তা করে যদি আমরা প্রযুক্তির ব্যবহারই বন্ধ করে দিতাম, তাহলে হয়তো মানব সভ্যতার এই অকল্পনীয় উৎকর্ষতা লাভ হতো না। প্রযুক্তির অপব্যবহারে আরো উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং ব্যবহার ঘটেছে। কিন্তু সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে যদি ভেবে নেয়, ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ একদম বন্ধ হয়ে গেছে, তা মোটেই সঠিক নয়। অনেকেই নতুন নতুন অ্যাপস ব্যবহার করে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং নাশকতাবাদীরাও চাইলে সেটি করতে পারবেন না-তা আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।’ তাহজীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের মাধ্যমে সরকারের যে মূল উদ্দেশ্য-সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার রোধ-তা থেকে সরকার অনেক দূরে। কাজের কিছু না হলেও এই সিদ্ধান্ত জনমনে অযাচিত আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে সরকারের অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রাকে কিছুটা হলেও ব্যাহত করছে। পুরো ব্যাপারটি আরো গভীরভাবে চিন্তা করার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জনসাধারণের জন্য অবারিত করে দেওয়ার পাশাপাশি অপব্যবহার রোধে আরো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। এর আগে আজ সচিবালয়ে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকায় তা সন্ত্রাস ও নাশকতা দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছিলেন ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, যত দিন পর্যন্ত একজনও নিরাপদ না হচ্ছেন, ততদিন খোলা হবে না ফেসবুক। গত ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল রাখা হলে সরকার দেশে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও ভাইবারসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়। এতে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি পরিলক্ষিত হয়, সোমবার যার বর্হিপ্রকাশ ঘটে খোদ সরকারের প্রতিমন্ত্রীর মধ্যেও। তবে তারানা হালিমের বক্তব্য অনুযায়ী শিগগির দেশে ফেসবুক চালুর বিষয়ে কোন সবুজ সংকেত দেখা যাচ্ছে না।