সাগরের মধ্যে নৌকায় খাবার আর পানিই ছিল সবচেয়ে দুর্লভ বস্তু। খাবার নিয়ে সংঘর্ষে এক নৌকাতেই অন্তত ১০৪ জন লোক মারা গেছে। এদের মধ্যে কাউকে ছুরি দিয়ে, কাউকে গলায় রশি পেঁচিয়ে, কাউকে সাগরে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে ভয়ে নিজেই সাগরে ঝাপিয়ে পড়ে মারা গেছে।বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে পৌঁছে অভিবাসীরা তাদের যাত্রাপথের করুণ, রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন এভাবে। খবর বিবিসির।আচেহ থেকে বিবিসির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, খাবার নিয়ে দাঙ্গা বেধে গেলে একটি নৌকাতেই অন্তত ১০৪ জন লোক মারা গেছেন।তারা বলছেন, এদের কাউকে কাউকে ছুরি মেরে মারা হয়, কাউকে গলায় রশি পেঁচিয়ে মারা হয়। আবার কাউকে নৌকা থেকে সাগরে ছুড়ে ফেলা হয়।মোহাম্মদ রফিক নামে এক বাংলাদেশি অভিবাসী বলেন, ‘নৌকার ওপর আমাদের মারধর করা হয়েছে। মারধর সহ্য করতে না পেরে আমরা পানিতে ঝাঁপ দেই। এর মধ্যে যারা সাঁতার জানত তারা ভেসে ছিল আর যারা জানত না তারা পানিতে ডুবে মরে গেছে। ১০৪ জনের মতো লোক মারা গেছে।’তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েগুলোকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। এই ঘটনাটা চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর পর ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত আমরা পানিতে ভেসে ছিলাম। তারপর ইন্দোনেশিয়ার নেভি এবং জেলে যারা অনেক দূরে মাছ ধরতে যায়, তারা আমাদের তুলে নেয়।’এদের অনেকে বলেছেন যে, কয়েকজনকে ছুরি মারা হয়েছে এবং কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।বিবিসি বাংলার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিন্তু এ সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা কঠিন। অন্যান্য সংবাদমাধ্যম একই ঘটনার কথা যেভাবে রিপোর্টে প্রকাশ করেছে- তার বর্ণনার সাথে এর মিল রয়েছে।বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের হাজার হাজার লোক থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার কাছাকাছি সমুদ্রে অনেক নৌকায় এখনো ভাসছে।

