
খবরিকা ডেস্ক: খেজুর রস তো ছেলেবেলা থেকেই খেয়েছেন৷ অনেকে খেয়েছেন তালের রসও৷ কিন্তু নারকেলের রস এখনও খাওয়া হয়নি। তাও খাওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে!
গাছ থেকে নারকেলের রস পাওয়ার কৌশল শেখাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা৷ এই রসের নাম দেয়া হয়েছে, নীরা (নারকেলের রস)। খেজুর রস সংগ্রাহকদের মতো প্রশিক্ষিত লোক তৈরি করা হচ্ছে তাঁদের তত্ত্বাবধানে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা প্রকল্পে উৎসাহিত করা হচ্ছে আগ্রহী চাষিদের৷ সুস্বাদু তো বটেই, নারকেলের রসকে স্বাস্থ্যকর পানীয় বলেও দাবি করছেন গবেষকরা৷ খেজুর রস যেখানে কেবলমাত্র শীতকালে পাওয়া যায়, নারকেল রস সেখানে সারা বছর পাওয়া যাবে।এই রস থেকে তৈরি গুড় -চিনি-মধুর ভালো বাজারও পাওয়া যাবে বলে মত গবেষকদের৷
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, গাছে ডাব ধরার আগে মোচার মতো যে ফুলের কলি বের হয়, সেখান থেকেই নারকেলের রস আসবে৷ বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে পরিচিতি না থাকলেও ভারতের কেরালা, গোয়া, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের মানুষ এ রসের কথা জানেন৷ এ রস থেকে সেখানে চিনিও তৈরি হচ্ছে৷
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানপালন বিভাগের গবেষক দীপককুমার ঘোষ জানান, ‘নারকেল গাছের অপরিণত ফুল থেকে এই রস মেলে৷ নীরা নামে পরিচিত হলেও কেউ নাম দিয়েছেন কল্পরসা৷ বেশ মিষ্টি৷ হালকা ক্রিম রংয়ের গেঁজে না যাওয়া রসই হল নীরা৷’
বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ও কেরালার প্ল্যান্টেশন গ্রুপ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রযুক্তিগত সহায়তায় উত্তর-পূর্ব ভারতে এই উদ্যোগ প্রথম বলেই দাবি করেন দীপক৷
রস সংগ্রহের কৌশলটা কী? প্রশিক্ষিত এক শিউলি জানান, যে গাছে ফলন বেশি হয়, সে গাছে রসও বেশি হবে৷ গাছের মোচাকৃতি অংশে ফুল থাকে৷ নীচের দিকে থাকে স্ত্রী ফুল, উপরের অংশে থাকে পুরুষ ফুল৷ একটু রসস্থ হলে ফুলের নীচের দিকটা ফুলে ওঠে৷ তখনই বোঝা যায়, এ বার রস সংগ্রহের উপযুক্ত সময়৷ মোচার অংশটি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়, যাতে ফেটে না যায়৷ তার পর দু’একদিন হালকা করে মালিশ করতে হয় মোচাকৃতি অংশটিকে৷ এর পর উপরের দিকে ৭-৮ সেন্টিমিটার কেটে দিলে কয়েক দিন পর থেকেই রস ঝরতে থাকে৷
তবে খেজুরের মতো কলসিতে নয়, বিশেষ ভাবে তৈরি একটি পাত্রে এই রস সংগ্রহ করতে হয়৷ বাতাস নিরোধক হিসেবে তৈরি করা হয় পাত্রটিকে৷ বাতাস ঢুকলে গ্যাঁজলা তৈরি হতে পারে বলে এই ব্যবস্থা৷ ওই শিউলি বলেন, ‘রস সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন রাখতে হলে ফ্রিজে রাখতে হবে৷’
বাণিজ্যিক ভাবে কতটা লাভজনক এই ব্যবসা ? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপক বলেন, ‘একটি গাছে বছরে সর্বাধিক ১০০ থেকে ১২০টি নারকেল ফলতে পারে৷ রস নিলে ডাব বা নারকেল হবে না ঠিকই, তবে ডাব-নারকেল বিক্রি করে যে দাম আসবে, তার দশগুণেরও বেশি আয় করা সম্ভব হবে রস বেচে৷’
বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে ওই গবেষক বলেন, ‘একটি গাছ থেকে বছরে পনেরো হাজার টাকা আয় হতে পারে (নারকেল প্রতি ১০ -১২ টাকা দাম ধরে)৷ কিন্তু গাছের মোচা থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেড় থেকে দুই লিটার রস পাওয়া যাবে৷ একটি মোচা থেকে সর্বাধিক দেড় মাস রস পাওয়া যেতে পারে৷ গড়ে প্রতি মাসেই একটি করে নতুন মোচা বের হয়৷’
২৫০ মিলি’র রসের প্যাকেট অনায়াসেই বাজারে ১৫ টাকায় বিক্রি সম্ভব বলে জানান দীপক৷ তাঁর দাবি, কারও বাগানে ২০টি গাছ থাকলে লাভের অঙ্ক এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে৷
