অললাইন ডেস্ক : ক’দিন আগেই নানান দিক থেকে আসা ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগে একেবারে নাজেহাল দশা হয় ফেসবুকের। ওই সময় রীতিমতো বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েও নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। তবে ওই সময়-ই এই সামাজিক যোগাযোগ জায়ান্টের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, আর যাতে কখনো ভুয়া খবর কেন্দ্রিক ঝামেলায় পড়তে না হয় তার জন্য উদ্যোগ নেবে তারা।
সে কথা রেখে সত্যি সত্যিই ভুয়া খবরের প্রচার রোধে কোমর বেঁধেছে ফেসবুক। আর তা না করে উপায় কি তাদের! তারা তো আর খবরের ব্যবসা করে না। অথচ, খবর ব্যবসায়ীদের ভুয়া খবর এই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেলে দায় নিতে হয় তাদেরকেই! আর সেজন্যই তো যে খবর ফেসবুকের দেওয়ালে ভেসে উঠছে তা সত্যি কিনা তা যাচাইবাছাই করে দেখার দায়িত্ব নিয়েছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান।
তা কিভাবে ভুয়া খবর সনাক্ত করবে ফেসবুক? কোনো খবর সঠিক না ভুয়া- তা দুটি উপায়ে চিহ্নিত করবে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যার প্রথম ধাপে দায়িত্ব বর্তাচ্ছে ব্যবহারকারীদের উপরেই।
ফেসবুকের ভাষ্য, কোনো খবর যদি ভুয়া বলে মনে হয়, তবে ব্যবহারকারীরা তা ‘ফেক নিউজ’ বলে রিপোর্ট করতে পারবেন। এর পরের ধাপে কোনো নিউজ এজেন্সির কাছে সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য খবরটি পাঠাবে ফেসবুক। তারা যদি ব্যবহারকারীদের মতে সায় দেয়, তবে সেই খবর আর জায়গা পাবে না ফেসবুকের দেওয়ালে।
আপাতত এবিসি নিউজ, এপি, ফ্যাক্টচেক ডটওআরজি, পলিটিফ্যাক্ট ও স্নোপস- এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খবর যাচাইয়ের কাজটি সম্পাদন করবে ফেসবুক। তবে এর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনোরকম পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না।
ফেসবুক আরও জানিয়েছে, তাদের সমীক্ষা বলছে, এমন অনেক ব্যবহারকারী আছেন যারা স্রেফ শিরোনাম দেখেই উত্তেজিত হয়ে খবর শেয়ার করেন। পুরোটা আর ক্লিক করে পড়েও দেখেন না। এই জাতীয় খবর যাতে প্রচারিত না হয় তার জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে তারা। অর্থাৎ কোনো খবর সঠিক না ভুয়া তা সনাক্ত করতে এবার থেকে খবরের শিরোনামও খুঁটিয়ে দেখবে তারা।
বিশ্ব গণমাধ্যম সঠিক সংবাদ পরিবেশন করবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। তবে এটা বলা যায়, ফেসবুকের নতুন উদ্যোগে ভুয়া খবরের যোগানদারদের মাথায় হাত পড়বেই।

