Friday, September 21Welcome khabarica24 Online

রিয়াজকে নিয়ে কিছু কথা

riaj

॥ রণজিত ধর ॥

‘ফখরুল ইসলাম রিয়াজ’ মীরসরাইয়ের একটি দুখের নাম, একটি শোকের নাম। একটি হৃদয় নিংড়ানো বেদনা বিধুর নাম। এ নামটি মীরসরাই সাংবাদিক মহল সর্বস-রের সাধারণ মানুষ তার সহকর্মী ও সহপাঠীদের বহুদিন পর্যন- শোকের নাম হিসেবে হৃদয়ে একটি স’ান করে নিয়েছে। এ নামটি কিছুতেই ভোলার নয়। গত ২০১২ সালে ১৫ আগস্ট একটি ঘাতক ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে অকালে ঝরিয়ে দিয়েছে সম্ভাবনাময় একজন সংবাদকর্মীর জীবন। অল্পবয়সেই তিনি মিরসরাইয়ের সর্বমহলে একটি ভালো অবস’ানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। এখনো তার চেহারা সবার চোখে জ্বলজ্বল করে ভাসছে। কিছু কিছু মৃত্যু মেনে নেওয়া যায়। কিন’ রিয়াজের মতো মৃত্যুাগুলো কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। যদিও বলা হয়-‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা রবে’ কিন’ এর মাঝেও একটি কথা থাকে পৃথিবীতে। তবুও মনে পড়ে যায়। পৃথিবীতে সবচাইতে বেদনার বিষয় হলো প্রিয়জনকে হারানো। যেদিন পৃথিবীতে কোন জীব জন্ম নিয়ে থাকে সেদিন থেকে মৃত্যু তার পিছন পিছন ঘুরে। যে কোন সময়, যে কোন মুহূর্তে প্রাণবায়ু চলে যেতে পারে। পৌরাণিক একটি কাহিনীতে আছে যে, অহরহ পৃথিবীতে মানুষ মরছে, কিন’ যারা বেঁচে আছে তাদের  বিন্দুমাত্রও চিনত্মা নেই যে, একদিন তাকেও মরতে হবে। এটাই সবচাইতে আশ্চর্যের বিষয়। এতগুলো মানুষ ছোট্ট একটা জায়গায় গিজগিজ করছে। সমাজের নিয়ম-কানুনের কোন বালাই  নেই। যে যার মতো করে চলতে চায়। তাই  আমাদের দেশে দূর্ঘটনা হয় বেশি। এতগুলো  যানবাহন এই ছোট রাস-ায় চলা কিছুতেই সম্ভব না। তবুও চলছে এ দূর্ঘটনায় দেশের কত মহান ব্যক্তি অকালে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তার কোন হিসাব নেই। এত বড় একটা গাড়ি যিনি চালাচ্ছেন বেশির ভাগ চালকের কাছে সে সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞানের বড়ই অভাব। এটাই আমাদের বড় দূর্ভাগ্যের বিষয়। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের কোন ভূমিকাও নেই। যেন তেন প্রকারে একটা লাইসেন্স করা, তারপর স্টিয়ারিংয়ে বসে ড্রাইভার হয়ে যাওয়া। এমনি আমাদের দেশে মূল্যবান গাড়ি চালাতে দেওয়া হয় একজন অপরিপক্ক চালকের হাতে। অল্প বেতনে বেশি মূল্যের গাড়ি তুলে দেওয়া হয়। গাড়ির মালিক চায় কম বেতনে লোক রাখতে, আর ড্রাইভার চায় মালিককে ঠকিয়ে কীভাবে বেশি আয় করা যায়। মালিক এবং চালকের সাথে এই নিয়ে চলে লুকোচুরি খেলা। সল্পশিক্ষিত এই চালকদের দেখারও কেউ নেই। দূর্ঘটনায় পড়ে যদি কেউ আহত হয়, তখন দুর্বিসহ জীবন যন্ত্রনার কী যে কষ্টে পড়তে হয় তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। ড্রাইভার আছে কত ট্রেড ইউনিয়ন আছে তাদেরও কী কাজ তা ড্রাইভারও জানে না। বিভিন্ন স’ানে চলছে ট্রেড ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি। ট্রেড ইউনিয়ন আছে, নেতা আছে। এই ট্রেড ইউনিয়ন দ্বারা কতা নেতা জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব লাভ করেছেণ। কিন’ ড্রাইভারদের জীবনের কোন উন্নতি হয়নি। এমনি যানবাহনের মধ্যে স্কুটারটা অসম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ। যারা এটা ব্যবহার করেন, তাদের খুব সাবধানে চালাতে হয়। আমাদের এখানে রাস-ায় ছোট যানবাহন চালানোর কোন ব্যবস’া নেই। বড়দের সাথে ছোটগুলোও সমান তালে চলতে হয় প্রতিযোগীতা করে। বর্তমানে ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের যে অবস’া এ অবস’ায় স্কুটার-সিএনজি চালানো সম্পূর্ণ অনুপযোগী। গত কয়েকদিনে কয়েকটি সিএনজি মারাত্মক দূর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে বেশ কিছু লোকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বেশ কিছু লোক আহত হয়ে সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এর ফলে কত পরিবার যে সারজীবনের জন্য অসহায়ের মধ্যে পড়ে গেল। যদি ট্রাঙ্করোড ফোরলেনেও পরিণত হয়, তখন ছোট যানবাহন চলা আরো কঠিন হয়ে যাবে। বিশেষ করে সিএনজি ড্রাইভারদের আরো সচেতন করা দরকার। তাদের অল্প বয়স, নিজেদের মধ্যে ডোন্ট  কেয়ার মানসিকতা কাজ করে এবং হালকা যানগুলো অসম্ভব গতিতে চলে বলে হঠাৎ নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয় না বলে দূর্ঘটনা ঘটে। তাদের বড় যানবাহনগুলোর সাথে ওভারটেকিং একটা মারাত্মক দোষ। বেশির ভাগ সিএনজি-স্কুটার দূর্ঘটনা ঘটে ওভারটেকিংয়ের কারণে। এসব নিয়ে বিভিন্ন এনজিও ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা করতে পারে। তাদের প্রশিক্ষনের বড়ই অভাব। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এসবের ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশাসনকে এখন থেকে এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। এসব সমস্যার সমাধান করতে হলে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি, সমপ্রদায় নিয়ে হবে না। রাষ্ট্র থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিক সমাজ সবাই ভূমিকা রাখতে হবে এবং সেটা অতি তাড়াতাড়ি শুরু করা দরকার।

লেখক ঃ  প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক

Leave a Reply