মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ৮ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

মানব পতাকার বিশ্বরেকর্ড

6

এ এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। সারি সারি মানুষ। হাতে হাতে লাল আর সবুজের পতাকার অংশ। ২৭ হাজার ১১৭ জন মানুষের হাত এক সময় মাথার উপরে ওঠে পতাকার অংশসহ। অভূত এক দৃশ্য ফুটে ওঠে। লাল আর সবুজের এক বৃহৎ পতাকা। মানুষের হাতে হাতে এতো বড় পতাকা গড়ার     রেকর্ডও এটি। পতাকা তৈরিতে অংশ নেন ২৭ হাজার ১১৭ জন। গতকাল বিজয় দিবসের আনন্দের দুপুরে লাল আর সবুজে ছেয়ে গিয়েছিল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরাতন বিমানবন্দর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড। ৪২ বছর আগে  যে দিনটিতে বাংলাদেশ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে বিজয় অর্জন করেছিল ঠিক সেই দিনটিতে আরও একটি বিজয় অর্জন হলো। বিজয়টি এলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি এই মানব পতাকার মাধ্যমে। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানোর জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭ হাজার মানুষের উপস্থিতি। কিন্তু তা পূরণ হয়ে যায় দুপুর একটা ১৫ মিনিটে ঘোষণা আসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২৭ হাজার ১১৭ জন। লাল-সবুজের বিশ্বজয় তখন সময়ের ব্যাপার। অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। একটা ৩৬ মিনিট থেকে ৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ড স্থায়ী এই মানব পতাকা এখন গর্বের বিষয়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি এ মানব পতাকার  নাম উঠেছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড়’ মানব পতাকা তৈরির এ আয়োজনের উদ্যোক্তা বেসরকারি মোবাইল  ফোন অপারেটর রবি। আর ‘লাল-সবুজের বিশ্বজয়’- শিরোনামে এ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ  সেনাবাহিনী। যাদের অংশগ্রহণকারী সদস্য ছিল ৮ হাজার। তারা শুধু পতাকার লাল বৃত্তটির চূড়ান্ত রূপ দেন। মাঠে ছিল চুন দিয়ে আঁকা প্রায় ৩০ হাজার গোলাকার বৃত্ত। যার প্রতিটিতে  একজন করে দাঁড়িয়ে যান। সকাল থেকেই উৎসুক দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে শেরেবাংলানগরস্থ প্যারেড গ্রাউন্ডে। বাড়তে থাকে আয়োজকদের মানব পতাকা সফল করার কর্মতৎপরতা। মাঠের চতুষ্কোণ প্রতিটি সারিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে থাকেন স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণকারীরা। যাদের বেশির ভাগ মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার সদস্যও ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্চে এসে স্বাগত বক্তব্য রাখেন-  সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর  জেনারেল হাসান সারওয়ার্দী। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি। বাংলা আমাদের ভাষা। আর এ লাল-সবুজের পতাকা আমাদের গর্ব। একাত্তরে বিশ্ব যেমন অবাক চোখে তাকিয়ে ছিল, আজও তাকাবে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে আমাদের জাতীয় ঐক্য তুলে ধরতেই এ চেষ্টা। চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, আজকের এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হয়ে রইলো এখানে উপস্থিত ও টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখা দর্শক সবাই। তিনি ঘোষণা দেন এ ধরনের মহতী উদ্যোগে চ্যানেল আই বরাবরের মতোই উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে। এ সময় মঞ্চ  থেকে বেজে ওঠে গান- ‘বিজয়-নিশান উড়ছে ওই’। আর এর মধ্য দিয়েই তৈরি হয় ‘লাল- সবুজের বিশ্বজয়ের’ মঞ্চ। পরিসংখ্যান বলছে গিনেস বুকে মানব পতাকা তৈরির এর আগের  রেকর্ডটি ছিল রাশিয়ার। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ভ্লাদিবস্টকের ২৬ হাজার ৯০৪ জন বাসিন্দা মানবপতাকা তৈরি করে রেকর্ড বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালের অক্টোবরে লাহোর হকি স্টেডিয়ামে মানব পতাকায় অংশ নিয়েছিল ২৪ হাজার পাকিস্তানি স্বেচ্ছাসেবক। এর আগে ২০০৭ সালে হংকংয়ে ২১ হাজার ৭২৬ জন নাগরিক মানব পতাকায় অংশ নেন।

Leave a Reply