
হারাধন চক্রবর্তী- সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধামে পাঁচশ বছরের প্রাচীন শিবচতুর্দশী মেলা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী শিবচতুর্দশী মেলা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৮ফেব্রুয়ারি) শিবচতুর্দশী মেলার শুভ উদ্বোধন করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মেলা কমিটির সম্মানিত সভাপতি জনাব মোঃ ফখরুল ইসলাম।মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করেন সীতাকুণ্ড রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ভক্তিপ্রদানন্দ মহারাজ। আরও উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দির বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ।হিন্দু পবিত্র গ্রন্থ অনুসারে সীতা দেবীর দক্ষিণ হস্তার্ধ পতিত হয়েছিল। এই মন্দিরে প্রতিবছর শিবরাত্রি তথা শিবর্তুদশী তিথিতে বিশেষ পূজা হয়। এই পূজাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে এক বিশাল মেলার আয়োজন হয়।
চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রাম এর সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪কি.মি. পূর্বে অবস্থিত একটি পাহাড় যা দর্শনার্থীদের কাছে ট্রেকিং এর জন্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটা রুট। চন্দ্রনাথ পাহাড় এর উচ্চতা আনুমানিক ১০২০ ফুট। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার জন্যে ২টা রাস্তা আছে। ডানদিকের দিকের রাস্তা প্রায় পুরোটাই সিঁড়ি আর বামদিকের রাস্তাটি পুরোটাই পাহাড়ী পথ, কিছু ভাঙ্গা সিঁড়ি আছে। বাম দিকের পথ দিয়ে উঠা সহজ আর ডানদিকের সিঁড়ির পথ দিয়ে নামা সহজ, তবে আপনি আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী পথ ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রায় ১ ঘণ্টা – ১.৫ ঘণ্টা ট্রেকের পর দেখা মিলবে শ্রী শ্রী বিরূপাক্ষ মন্দির এর। প্রতিবছর এই মন্দিরে শিবরাত্রি তথা শিবর্তুদশী তিথিতে বিশেষ পূজা হয়। এই পূজাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ডে বিশাল মেলা হয়। সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় এলাকায় বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসে (ইংরেজী ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাস) বড় ধরনের একটি মেলার আয়োজন করে থাকেন। যেটি শিবর্তুদর্শী মেলা নামে পরিচিত। এই মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য সাধু এবং নারী-পুরুষ যোগদান করেন।
বিরূপাক্ষ মন্দির থেকে ১৫০ ফুট দূরেই রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির যা চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এই ১৫০ ফুট রাস্তার প্রায় ১০০ ফুটই আপনাকে উঠতে হবে খাড়া পাহাড় বেয়ে যেখানে নিজেকে সামলে রাখা অনেকটাই কষ্টকর। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আপনি দেখতে পাবেন একদিকে সমুদ্র আর অন্য দিকে পাহাড়ের নির্জনতা। মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকবেন উঁচু-নিচু পাহাড়ের সবুজ গাছপালার দিকে। প্রশান্তিতে জুড়িয়ে যাবে চোখ।
শিবচতুর্দশীতে এ মন্দির পরিক্রমায় কষ্টের আঁকাবাঁকা পাহাড়িপথ প্রায় সাড়ে তেরশত সিঁড়ি পাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথ ধামে উঠে পূর্ণ্যার্থীরা।
মেলায় চতুর্দশী তিথিতে পূর্বপুরুষদের নামে ব্যাসকুণ্ডে স্নান-তর্পন, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদান করে তীর্থ যাত্রীরা। এছাড়া সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন স্হানে থাকা অন্তত ৫০টি মঠ-মন্দির পরিক্রমা করবেন। ধর্মীয় এ মেলাকে ঘিরে বসে তৈজসপত্র,খাবারের দোকান, খেলনা, আসবাবপত্রসহ নানা পন্যের দোকান।
মেলায় আগত পূর্ণ্যার্থীরা ধর্মীয় আচার শেষ করে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরেন পূর্নাথীরা।তবে গত তিন বছর ধরে চন্দ্রনাথ ধাম সারাদেশের পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি স্থান। তরুনেরা সারা বছর এ চন্দ্রনাথ ধাম আগমন করে থাকেন। তারা এটিকে অ্যাডভেঞ্চার হিসাবে উপভোগ করে।
আমাদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শিব চতুর্দ্দশী সুন্দরভাবে পালনে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।মেলা চলাকালীন সময় সবধরনের সহযোগিতা চাই ।এই মেলায় ১৫ থেকে ২০ লাখ দর্শণার্থীর আগমন ঘটবে।দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সীতাকুণ্ডে পুণ্যার্থী বহনকারী এক হাজারেও অধিক বাস আসবে বলে ধারনা করছি।
উঠার সিঁড়িগুলি মোটেই নিরাপদ নয়। শিব চতুর্দশীর এই মেলায় লক্ষ লক্ষ লোকের পক্ষে অনিরাপদ। এগুলিকে হেঁটে চলা বিপদজনক। সরকারের উচিত সিঁড়িগুলিকে ভালো করা এবং সিড়ির দুই পাশের রেলিংয়ে এর ব্যবস্থা করা।
