Thursday, February 26Welcome khabarica24 Online

অনলাইনে আম বিক্রি করে সাড়া ফেলেছেন মীরসরাইয়ের তরুণ উদ্যোক্তা ফরহাদ

বিশেষ প্রতিনিধি– রাজশাহীর আম কিংবা দিনাজপুরের লিচুর খ্যাতি সর্বজনবিদিত। গ্রীষ্ম ও বর্ষা—এই দুই ঋতুতেই বাজার সরগরম থাকে গোপালভোগ, হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি প্রভৃতি আমের সমারোহে। তবে ভোক্তাদের মনে বরাবরই এক প্রশ্ন—এই আমগুলো কি সত্যিই ফরমালিনমুক্ত?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন। মীরসরাই উপজেলার ১৪ নম্বর হাইকান্দি ইউনিয়নের তুলাবাড়িয়া গ্রামের এই তরুণ বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন ফরহাদ। অষ্টম শ্রেণি থেকেই টিউশনের মাধ্যমে নিজের খরচ চালালেও, রাজশাহীতে তেমন টিউশনের সুযোগ না থাকায় আয়-রোজগারের নতুন পথ খুঁজতে হয় তাকে। ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসায়ে সহযোগিতা করার অভিজ্ঞতা তাকে নতুন চিন্তার দিকে নিয়ে যায়।

একদিন হঠাৎ করে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে লিখে ফেলেন—”রাজশাহীর আম সারাদেশে সরবরাহ করলে কেমন হয়?” আশ্চর্য হলেও সত্যি, তার পোস্টটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু, শিক্ষক সবাই উৎসাহ দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় ফরহাদের অনলাইন আম বিক্রির যাত্রা।

প্রথম বছরেই তার এই উদ্যোগ জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ব্যক্তিগত টাইমলাইনের মাধ্যমে মৌসুমি ফল যেমন লিচু ও জাম বিক্রিও শুরু করেন। অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করে কুরিয়ার ও বাস সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে দেন বিশুদ্ধ ও বাছাইকৃত ফল।

ফরহাদ জানান, “আমরা সবসময় চেষ্টা করি যেন মানসম্মত ও ফরমালিনমুক্ত আমই সরবরাহ করি। এজন্য অনেক ক্লায়েন্ট বারবার অর্ডার করেছেন।”

ফলপ্রতিটি সংবেদনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ ও পরিবহনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। তবুও গত বছর প্রায় ২৫-২৬ হাজার কেজি আম সরবরাহ করেছেন তিনি। এই উদ্যোগ থেকে তিনি শুধু নিজেই লাভবান হননি, বরং অন্যদের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছেন। বর্তমানে দুইজন ডেলিভারি ম্যান এবং একজন বাগান সহকারী তার দলে কাজ করছেন।

ফরহাদ বলেন, “দেড়-দুই মাসের এই ব্যবসায়িক আয়ে পুরো বছরের পড়াশোনার খরচ উঠে আসে। নিয়মিত শিখছি, অভিজ্ঞতা বাড়ছে। ধৈর্য, পরিশ্রম ও ইচ্ছা থাকলে এই ব্যবসায়ও সফল হওয়া সম্ভব।

ভবিষ্যতে পড়াশোনা শেষ করে এই উদ্যোগকেই আরও বড় পরিসরে রূপ দিতে চান ফরহাদ। তার বিশ্বাস, সততা ও মান বজায় রেখে এগিয়ে গেলে দেশের সব প্রান্তেই পৌঁছানো যাবে বিশুদ্ধ ফলের স্বাদ।