বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

নিরাপদ সড়কের দাবীতে জোরারগঞ্জ টেক্সটাইল কলেজ ছাত্রদের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ

সড়ক দূর্ঘটনায় সহপাটি বন্ধুর মৃত্যুতে শোকাহত ছাত্ররা এক সংবাদ সম্মেলনে মীরসরাইয়ে সড়ক – মহাসড়কে দূর্ঘটনা প্রবণতা কমাতে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম প্রদান করেছে। নইলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আবার এই বিষয়ে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে স্মারকলিপি ও প্রদান করেছে শিক্ষার্থীরা।

মীরসরাইয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৯ম ব্যাচের ছাত্র মোহাইমিনুল ইসলাম মামুন নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষার্থীরা। বুধবার ১৭ অক্টোবর সকাল ১১ টার সময় চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জোরারগঞ্জে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। শিক্ষার্থীদের এই সংবাদ সম্মেলনে ৮ম ব্যাচের ছাত্র রিয়াদ বিন সিদ্দিকী লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার সময় ওই কলেজের ছাত্র মোহাইমিনুল ইসলাম মামুন এবং ৮ম ব্যাচের ছাত্র সুদীপ্ত একটি সিএনজি অটোরিক্সা করে ক্যাম্পাসে ফিরছিল। ওই সিএনজি অটোরিক্সার হেডলাইট না থাকায় পথিমধ্যে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এলে সেখানে পূর্ব থেকে (দূর্ঘটনা কবলিত হয়ে) দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনের অংশে সিএনজি অটোরিক্সাটির ধাক্কা লাগে। এসময় সিএনজি অটোরিক্সার সামনে থাকা মোহাইমিনুল ও সুদীপ্ত আহত হয়। এরমধ্যে মামুনের আঘাতটা ছিলো খবুই গুরুতর। এই দূর্ঘটনায় মোহাইমিনুলের মাথার একাংশ ফেটে হাড় গুড়ো হয়ে মস্তিস্কে প্রবেশ করে। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্থানান্তর করেন। পরে সেখানে সাধারণ এবং আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে সে মারা যায়। সহপাঠির এমন মৃত্যুকে তারা কোনভাবে মেনে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন। তারা প্রশ্ন করেন এই মৃত্যুর দায় কার?। ঘটনার সময় হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে কোন প্রকার সড়ক বাতি (স্ট্রিট লাইট) না থাকায় এবং সেখানে সড়কের উভয় পাশে বিভিন্ন সময় দূর্ঘটনাকবলিত অগনিত বাস-ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখায় এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরজন্য তারা সিএনজি অটোচালক এবং হাইওয়ে পুলিশের অদক্ষতাকে দায়ী করছেন। এঘটনায় তারা নিরাপদ সড়ক চেয়ে ৭টি দাবি নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করবেন বলেও জানান। তারা আরো হুশিয়ারি উল্লেখ করেন, খুব শীঘ্রই এই ৭ দফা বাস্তাবায়ন না হলে তারা অচিরেই সড়কে নেমে বিভিন্ন ধরনের কঠোর কর্মসূচী পালনের ও ঘোষনা দেন। এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট সোহেল সরকার বলেন, দূর্ঘটনার পর সড়কে স্প্রিড ব্রেকার (গতিনিয়ন্ত্রক বাঁধ) দেওয়া হয়েছে। ফাঁড়ির সামনের সৌর বিদ্যুতের স্ট্রিট লাইট রয়েছে। ফাঁড়ির ভেতরে গাড়ী রাখার মত পর্যান্ত জায়গা না থাকায় মামলার আলামত গুলো সড়কের পাশে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি ফাঁড়ির ভেতর একটা অংশ মাটি ভরাট করা হয়েছে। শীঘ্রই সেখানে মামলার আলামত (দূর্ঘটনা কবলিত) গাড়ীগুলো রাখা হবে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ৩য় বর্ষের ছাত্র ফয়েজ আহমেদ, রাকেস চৌধুরী সহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী। এসময় শিক্ষার্থীরা অশ্রুসিক্ত নয়নে গনমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসন সহ সরকারের কাছে ৭ দফা দাবী উত্থাপন করে। দাবীগুলোর মধ্যে অন্যতম মহাসড়কের যত্রতত্র অবৈধ গাড়ি পার্কিং সগ সড়ক দখলমুক্ত করে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক সহ অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান সহ সকলের সচেতনতা বৃদ্ধির দাবী । আর এসব দাবী শীঘ্রই বাস্তবায়িত না হলে রাজপথে নামা সহ বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনা করবে বলে জানায় ছাত্ররা। এই বিষয়ে বুধবার (১৭ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে হাইওয়ে পুলিশ, জোরারগঞ্জ থানা ও উপজেলা প্রশাসনকে স্মারক লিপি প্রদান করেছে বলে জানায় শিক্ষার্থীরা।