মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

নিজামীর রায় যে কোন দিন

79211_f3

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় যে কোন দিন ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল এই মামলার কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে। তিন কার্যদিবস আসামিপক্ষের কোন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাজির না হওয়ায় গতকাল নিজামীর পক্ষে তার আইনজীবীদের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল। কিন্তু এদিনও তারা ট্রাইব্যুনালে আসেননি। তবে রায় অপেক্ষাধীন রাখার পর ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন আসামিপক্ষ চাইলে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক লিখিতভাবে দাখিল করতে পারবে। সাধারণত হরতালের সময় আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকেন না। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে না পারায় নিজামী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। রায়ে নিজামীর সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) আশা করছে প্রসিকিউশন। এবিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের জানান, বার বার সময় দেয়ার পরও তারা (আসামিপক্ষের আইনজীবী) কেউ আর্গুমেন্ট পেশ করেননি। তাই ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় সিএভি (কোর্ট এয়োটিং ভারডিক্টেড) রেখেছেন। তিনি বলেন, আসামি মতিউর রহমান নিজামীর পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও কোন কোন ক্ষেত্রে তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে একাত্তরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। আমরা সাক্ষ্য, প্রমাণ ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বলে মনে করি। তাই রায়ে নিজামীর মৃত্যুদণ্ড আশা করছি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তারিকুল ইসলাম বলেন, এত বড় একটি মামলায় আসামিপক্ষকে আর্গুমেন্টের জন্য সুযোগ দেয়া হয়নি। এতে আসামিকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনঃবিবেচনা) আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি। গতকাল নিজামীর আইনজীবী আসাদ উদ্দিন ট্রাইব্যুনালকে জানান হরতালের কারণে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আসেননি। তাই যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবারও সময়ের আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। নিজামীর পক্ষে গত ৭ই নভেম্বর যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী মিজানুল ইসলাম।
এর আগে ৩রা নভেম্বর থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ চারদিন নিজামীর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও আইনি বিষয়ে তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে ৬, ৭, ১০ ও ১১ই নভেম্বর চার কার্যদিবসে আসামিপক্ষকে তাদের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় বেঁধে দেয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের মামলায় ২০১০ সালের ২৯শে জুন জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২রা আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১১ সালের ১১ই ডিসেম্বর নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে ৩৩৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আনুষঙ্গিক দলিলপত্রসহ প্রায় ৩০০০ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয় তার বিরুদ্ধে। গত বছরের ৯ই জানুয়ারি নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২৮শে মে ১৬টি অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এসব অভিযোগে হত্যা, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ গত বছরের ২৮শে মে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগ এনে নিজামীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র ও বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ গত বছরের ২৮শে মে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগ এনে নিজামীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র ও বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় (সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি)’র অভিযোগ রয়েছে। ২০১২ সালের ২৬শে আগস্ট থেকে ৭ই অক্টোবর পর্যন্ত এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান, জব্দতালিকার দু’জন সহ ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী প্রদীপ কুমার দেবকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে জেরা করে প্রসিকিউশনের কৌঁসুলিরা। নিজামীর পক্ষে তার ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমানসহ চারজন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

উৎস- মানবজমিন

Leave a Reply