শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

গণপরিবহন বন্ধে ভোগান্তি চরমে

4050

বিরোধী দলের গণতন্ত্রের অভিযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ গণপরিবহনও বন্ধ করে দেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। শনিবার সকালে ঘর থেকে বের হয়েই এ নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ। গন্তব্যে যেতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেকে হেঁটেই চলাফেরা করেন। সুযোগ বুঝে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করেছে অটোরিকশা ও রিকশা চালকরা। রাজধানীর বাইরে থেকে নিজ কাজে আসা লোকজন কোনো হোটেলেই ঠাঁই পাচ্ছে না। হোটেলগুলো থেকে সাফ বলা হচ্ছে, নতুন বোর্ডার নেয়া যাবে না। ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ মানুষ এইপরিস্থিতির জন্য সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে।সকালে নগরীর যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, গাবতলী, মিরপুর ১০ নম্বর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ। কোনো গণপরিবহন তথা বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার নেই। অথচ হরতাল-অবরোধের দিন সীমিত আকারে হলেও রাজপথে গণপরিবহন দেখা যায়। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজলা এলাকার বাসিন্দা আজাহার উদ্দিন বলেন, যাত্রাবাড়ীতে হরতাল বা অবরোধেও গাড়ি পাই। কিন্তু আজ (শনিবার) কিছু পাচ্ছি না। তিনি যতদূর জানতে পেরেছেন, যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের নির্দেশ ও হয়রানির হুমকিতে রাস্তা থেকে গণপরিবহন সরে গেছে।সায়েদাবাদ টার্মিনালের পূর্বদিকে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের বিলাসবহুল বাস কাউন্টারগুলোতে বেশ কিছু যাত্রীর ভিড় দেখা যায় শনিবার সকালে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা বাসের জন্য কাউন্টার কর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত কথা বলছেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে কোনো সদুত্তর দেয়া হচ্ছে না। আলম শিকদার নামে চট্টগ্রামের এক যাত্রী বলেন, চট্টগ্রাম যেতে শনিবার সকালের অগ্রিম টিকিট কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু সকালে এসে জানতে পারেন বাস যাবে না। অথচ ব্যবসায়িক কারণে তার চট্টগ্রাম যাওয়া জরুরি। শ্যামলী পরিবহনের ওই কাউন্টারকর্মী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে মালিক নেতারা জানিয়েছেন যে, শনিবার থেকে বাস চলবে না। সে জন্য তাদের বাস বন্ধ রয়েছে। এ কথা বলে তিনি যাত্রীকে অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত দেন।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারকর্মী বলেন, সকাল থেকে শতাধিক যাত্রীর অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। গাবতলী টার্মিনালে অবস্থিত এসআর পরিবহনের কাউন্টারকর্মীরা জানান, সকাল থেকে প্রচুর যাত্রী টার্মিনালে আসছেন। বাস না দেখে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকে গালিগালাজও করছেন। শেষ পর্যন্ত অগ্রিম টিকিটের টাকা ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন তারা। ঈগল পরিবহনের কাউন্টারকর্মী জানান, রাতে যেসব গাড়ি যশোর, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরা থেকে ছেড়েছে, সেগুলো এখনও ঢাকায় আসেনি। ফেরিও বন্ধ। তাই ওইসব বাস কখন গাবতলী আসবে তিনি জানেন না।মহাখালী আন্তঃজেলা টার্মিনাল শনিবার পুরোপুরি অচল পড়েছিল। শত শত বাস টার্মিনালের ভেতর দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। রাস্তায়ও রাখা হয় অনেক বাস। সরকার সমর্থক এক বাস মালিক বলেন, রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ বাস রিকুইজিশন করছে। এই আতংকে মালিকরা বাস চালাচ্ছে না।নাশকতার আশংকার কথা বলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ই লঞ্চ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে শনিবার ভোরে দূরপাল্লার কোনো লঞ্চ সদরঘাটে আসেনি। সন্ধ্যায় কোনো লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যায়নি। এ নিয়ে নৌপথের যাত্রীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন।রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি দেখা গেছে। হাজার হাজার যাত্রী এদিন ট্রেনের জন্য দিনভর অপেক্ষা করেন। কিন্তু ট্রেনের দেখা পাননি তারা। ট্রেনের অপেক্ষায় যাত্রীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্টেশনেই বসে থাকেন। গুলজার হোসেন নামে সিলেটের এক যাত্রী বলেন, ঢাকায় তার থাকার জায়গা নেই। তাই কাজ শেষে যাতে সিলেট ফিরতে পারেন সে জন্য ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কিনে রেখেছিলেন। কিন্তু শনিবার সকালে এসে জানলেন ট্রেন চলবে না। এতে বিপাকে পড়েছেন তিনি। কারণ কাছাকাছি এক আবাসিক হোটেলে থাকতে চাইলে হোটেল থেকে বলা হয়, আপাতত কোনো বোর্ডার তারা রাখবে না। গুলজার হোসেন বলেন, তাহলে তিনি যাবেন কোথায়? কমলাপুর রেল স্টেশনের ম্যানেজার খায়রুল বশীর জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ট্রেনের ওপর নাশকতা চলছে। এ কারণে ট্রেন চলাচলের সিডিউলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।রাজধানীতে আকস্মিক এ পরিস্থিতির কারণ পরিবহন সেক্টরের কেউ জানেন না বলে দাবি করেছেন। কোনো কোনো নেতা আবার এ বিষয়ে মন্তব্য করতেও রাজি হননি। বিরোধী দলের কর্মসূচি মোকাবেলায় রাজধানীর সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া, মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনালে অবস্থান নিয়েছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। গাড়ি পাহারার নামে তারা দিনরাত টার্মিনালেই অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। এ জন্য টার্মিনালেই খিচুড়ি খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ও রাতে টার্মিনালগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাসহ খিচুড়ি রান্না করা হয়।

উৎস-যুগান্তর

Leave a Reply