আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে ডাকাতের বোমা ও গুলিতে ব্যাংক ম্যানেজার, নিরাপত্তাকর্মী ও গ্রাহকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। ডাকাতের হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। তাদের স্থানীয় মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।এদিকে ঘটনা তদন্তে পৃথক ছয়টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।নিহতরা হলেন- ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ওলিউল্লাহ খান (৪০), নিরাপত্তা কর্মী ইব্রাহিম হোসেন (৩৭), ব্যাংকের গ্রাহক ও স্থানীয় গ্লোরিয়াস প্রিন্টার্সের মালিক সাহাবুদ্দিন পলাশ (৫২), ব্যাংকের গ্রাহক ও ব্যবসায়ী জমিরউদ্দিন (৩৫), পাশের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক জিল্লুর রহমান (৫৫), মুদি দোকানদার মনির হোসেন (৩০), ঝালমুড়ি বিক্রেতা নুরুজ্জামান। গণপিটুনীতে নিহত ডাকাত সদস্যের পরিচয় পাওয়া যায়নি।ব্যাংকে লেনদেন করতে আসা গ্রাহক ওস্থানীয়রা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে কাঠগড়া এলাকার বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকে হানা দেয় পাঁচ জনের একটি ডাকাত দল। দিনে দুপুরে ডাকাতরা ব্যাংকে ঢুকেই সিকিউরিটি গার্ডসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে।তারা ব্যাংকের ম্যানেজার ওয়ালিউল্লাহর কাছে ভল্টের চাবি চায়। তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করলে ডাকাতরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় তারা ব্যাংকের মধ্যে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আহত হয়ে অনেকেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ডাকাতরা ভল্টের চাবি নিয়ে বস্তা ভর্তি টাকা লুট করে ।এদিকে ডাকাতদের লুটপাট ও বোমার শব্দে এগিয়ে আসে এলাকাবাসী। স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হলে ডাকাতদের ঘিরে ফেলে জনতা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে ডাকাতরা। গুলি ও বোমার আঘাতে আহত হয় ২০ জন। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী পিছু হটলে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।ডাকাতরা কাঠগড়া বাজার থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলসহ ছিটকে পড়ে দুই ডাকাত। পরে তাদের ধাওয়া দিয়ে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুজনকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যায় অজ্ঞাত এক ডাকাত।আহতদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ ডা. নাসির হোসেন জানান, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আহতদের অনেককেই লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ডাকাতেরা পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা তাদের ধাওয়া করে দুজনকে ধরে ফেলে। এদের মধ্যে গণধোলাইয়ে একজনের মৃত্যু হয়। এ সময় ধৃতদের কাছ থেকে লুট হওয়া প্রায় পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থলে আসেন বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু সাদেক মোহাম্মদ সোহেল। তিনি বলেন, আমরা খুবই ব্যথিত এ ঘটনায়। ব্যাংকিং ইতিহাসের জন্যও কলঙ্ক। আমাদের নিরাপত্তার কোনো ক্রুটি ছিল না। দুইজন অস্ত্রধারী নিরাপত্তাকর্মী এবং একজন সাধারণ নিরাপত্তা কর্মী ছিল। তারপরও এমন ঘটনা।এমডি বলেন, ডাকাতরা ভল্টে যাননি। তারা ক্যাশ কাউন্টার থেকে অর্থ লুট করে পালানোর চেষ্টা করে। ক্ষতিগ্রস্তরা ব্যাংকের নিয়ম মোতাবেক আর্থিক সুবিধা পাবেন বলেও জানান এমডি। তিনি বলেন, এছাড়া আমরা বোর্ডে আলোচনা করে নিহতদের পরিবারের জন্য কী করা যায় সেটি দেখব।এছাড়া ঘটনার পরপরই ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ আলী হাওলাদার, এমডি, ডিএমডিসহ ঢাকা অফিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ছুটে যান ঘটনাস্থলে।
উৎস- যুগান্তর

