Monday, October 26Welcome khabarica24 Online

যুদ্ধাপরাধের সব রায় কার্যকর করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

04_41318
রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটির পর একটি মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীর রায় হচ্ছে। প্রত্যকটি রায় বাংলার মাটিতে কার্যকর করে জাতিকে অভিশাপমুক্ত করা হবে ইনশাল্লাহ। এটা জাতির কাছে আমাদের ওয়াদা। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতকাল ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে দীর্ঘ কয়েক বছর পর এটিই প্রথম বিশাল জনসভার আয়োজন করে ক্ষমতাসীন দলটি। জামায়াতের ডাকা হরতাল উপেক্ষা করে জনসভায় ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী যোগ দেন। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ও  ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী এলাকা। নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শেখ হাসিনা মহাসমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান। বিকাল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়া নির্ধারিত থাকলেও তার আগেই শুরু হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়িয়ে ৩টার আগেই রমনা কালীমন্দির সংলগ্ন মঞ্চের আশপাশের জায়গা দলটির নেতা-কর্মীতে পূর্ণ হয়ে যায়।   সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মহিলা লীগের সভানেত্রী আশরাফুন্নেছা মোশারফ, যুব মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদ অধ্যাপিকা অপু উকিল। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসিম কুমার উকিল। শেখ হাসিনা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে বিএনপি নেত্রী অবৈধ বলছেন, উনি সবকিছু অবৈধ দেখেন। ইদানীং উনি একটু বেশি বুঝছেন বলে মনে হয়। বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আয়নায় নিজের চেহারা দেখলে উনি নিজেদের অবৈধতা দেখতে পান বলেই সব কিছুতে অবৈধ খোঁজার চেষ্টা করেন। কারণ তার স্বামী জিয়াউর রহমান তো অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে অবৈধভাবে দল গঠন করেছিলেন। যাদের জš§ই অবৈধ তারা সব কিছু অবৈধই দেখবে- এটিই স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর নিয়েও অনেকের হুমকি মোকাবিলা করতে হয়েছিল। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে যুদ্ধাপরাধের রায় কার্যকর করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন যাতে না হয় এ জন্য বাধা দিয়েছে তারা। তারপরও ৪০ ভাগ ভোট দিয়েছে মানুষ। সম্প্রতি পত্রিকায় এসেছে আমেরিকায় কংগ্রেস নির্বাচনে ২৫ ভাগ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। তাহলে কি বলা যাবে, আমেরিকার কংগ্রেস অবৈধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করেন ভালো কথা। তবে যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসীদের সঙ্গ ছাড়তে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। ৩ নভেম্বরে নিহত জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ সালের পর দেশে শুরু হয়েছিল হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। স্বাধীনতা সংগ্রাম করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অগণিত কর্মী জীবন দিয়েছেন। পরাজিত শক্তি জাতির পিতাকে হত্যা করেই থেমে থাকেনি। জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। এর পর ১৮ থেকে ১৯ বার ক্যু হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। এই পরাজিত শক্তিকে বিদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা করে জিয়াউর রহমান দেশের গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলেন। পরে তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করেন। একটি স্বাধীন দেশে যুদ্ধাপরাধীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনা করে এর থেকে লজ্জা আর কী হতে পারে! প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতাই চায়নি সেই শাহ আজিজকে বানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যারা হত্যা, নির্যাতনে অংশ নিয়েছে তাদের হাতে ক্ষমতা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। যারা জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছে তাদের বিদেশে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসিত করেছিলেন। নিজে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দেন। যা সংবিধানে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রহমান। তার পথ ধরে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে নিজামী, মুজাহিদকে মন্ত্রী করেছিলেন। এরাই ছিল খালেদা জিয়ার পছন্দের লোক। একটি দেশে স্বাধীনতার চেতনাকে এভাবে ভূলুণ্ঠিত করার এমন নজির হয়তো নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি (খালেদা) তো নিজের স্বামীকে স্বাধীনতার ঘোষক বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। আমার প্রশ্ন, স্বাধীনতার ঘোষকের স্ত্রী কীভাবে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংসার করেন? তিনি খালেদা জিয়াকে জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধীদের ত্যাগ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করার পরামর্শ দেন।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যে উন্নয়ন করেছিলাম তাও তারা একে একে বন্ধ করে দিল। হাওয়া ভবন খুলে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেল। আর মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র হলো। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন বিএনপি নেত্রী চোখে দেখেন না। দেখার মতো দৃষ্টিও তো থাকতে হবে। আজকে তার হাতে ক্ষমতা নেই। সেই আফসোসে মরে যাচ্ছেন। নির্বাচন ঠেকানোর নামে অত্যাচার শুরু করেছিলেন। তাদের আন্দোলন মানে মসজিদে আগুন দেওয়া, ককটেল, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা। এটাই উনার আন্দোলন। গাছ কেটে দেওয়া, রাস্তা কেটে দেওয়া- এটা কোন ধরনের আন্দোলন? তিনি খালেদাকে উদ্দেশ করে বলেন, সাপ যেভাবে ব্যাঙ খেয়ে না পারে গিলতে না পারে ফেলতে, উনার অবস্থা এখন সাপে ব্যাঙ ধরার মতো। জামায়াতের সঙ্গে উনার সম্পর্ক এমন যে, এখন উনি ঝেড়ে কাশতেও পারছেন না। সরকারবিরোধী আন্দোলনের হুমকির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন করে সরকার উৎখাত করবেন! আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ২০০৯ সালে তিনি বলেছিলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তো দূরে থাক বিরোধী দলের নেতাও হতো পারব না। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! এখন তিনি নিজেই বিরোধী দলের নেতা নন। তিনি যে অভিশাপ দেন তা আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে ফিরে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৯টি আসন পেয়েছিলেন। মানুষ তাকে ভোট দেয়নি। আর তাই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করতেই ভয় পেয়েছেন।