Saturday, October 24Welcome khabarica24 Online

চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে বাধ্যতামূলক হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা

untitled-67_198092

 

সরকারের চতুর্থ শ্রেণির সব নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বর্তমান পদ্ধতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরিতে বর্তমানে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। পদের ধরন বুঝে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এ-সংক্রান্ত নীতিমালায়। লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৭০ এবং মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৩০। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে নিয়োগ কমিটির। কিন্তু গত পাঁচ বছরে খুব কম প্রতিষ্ঠানেই লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে সবচেয়ে বড় অনিয়ম হয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরে। লিখিত পরীক্ষা তো নেওয়া হয়ইনি বরং মৌখিক পরীক্ষার নিয়মও পাল্টে ফেলা হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে করে চিহ্নিত লোকদের বেশি নম্বর দেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গিয়ে আটকে যায়। খাদ্য অধিদপ্তরের এ সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দেন হাইকোর্ট।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এমএলএসএস নিয়োগ নিয়েও অনিয়ম নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। সে সময় মৌখিক পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিল প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ও। গতকাল প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এমএলএসএস নিয়োগ পরীক্ষা গোপনে অনুষ্ঠিত হলেও টাকা নেওয়ার ডাক উঠেছিল প্রকাশ্যে। এমএলএসএস নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সাত লাখ টাকার বিনিময়ে। এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যারা চাকরি পেয়েছে তাদেরকেও টাকা দিতে হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থীদের কাছে থেকে দুই লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, শুধু খাদ্য বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নয়, নিয়োগ হয়েছে অথচ অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি এমন ঘটনা বিরল। স্কুলের দপ্তরি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী থেকে শুরু করে সুইপার পদে লোক নিয়োগেও অনিয়ম হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা হলে ন্যূনতম একটু মান যাচাই করা সম্ভব হয়। কিন্তু লিখিত পরীক্ষ না হলে একবারে যাচ্ছেতাই অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বিব্রত হচ্ছেন। কারণ লিখিত পরীক্ষা হলে প্রার্থী অগেই বাছাই করে কমসংখ্যক প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু শুধু মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে বেশিসংখ্যক প্রার্থীকে ডেকে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সাধারণত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে পদের তিন গুণ প্রার্থী মৌখিকের জন্য ডাকা হয়। আর লিখিত পরীক্ষা না হলে ডাকা হয় পদের পাঁচ গুণ প্রার্থী। এই অবস্থায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের অনেক বেশি দিন মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত থাকতে হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় ছয়টি বোর্ড করা হয়েছিল। ছয়টি বোর্ডে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েরই ছয়জন কর্মকর্তা ছিলেন। এক খাদ্য অধিদপ্তরেই যদি ছয়জন কর্মকর্তাকে মৌখিক পরীক্ষার সময় উপস্থিত থাকতে হয়, তাহলে আরো তো অধিদপ্তর রয়েছে। সেসব অধিদপ্তরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার জন্য কর্মকর্তাদের পাঠাতে হয়। এত বেশিসংখ্যক কর্মকর্তারও সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান।বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সাড়ে ১৩ লাখ পদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির পদই বেশি। এসব পদে লোক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সরকার চতুর্থ শ্রেণির পদগুলোতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু কর্মচারীদের ভেতর এই আউটসোর্সিং নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের মধ্যেও আউটসোর্সিং নিয়ে মতদ্বৈধতা রয়েছে। অনেক কর্মকর্তার মতে, আউটসোসিং নীতিটা অমানবিক। কারণ সরকার একদিকে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে রাজস্ব পদগুলোতে লোক নিয়োগ হচ্ছে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে। আউটসোসিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ হলে তাঁরা কোনো পেনশন বা চাকরি শেষে অন্যান্য অর্থিক সুবিধা পান না।

উৎস: কালেরকন্ঠ