বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

লিবিয়ায় নিহত দুই সহোদরের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন

4_119024

লিবিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত গোসাইরহাট উপজেলার ছাবেরপাড়া গ্রামে দুই সহোদর মোহাম্মদ স্বপন ছৈয়াল ও তার আপন ছোট ভাই মিলন ছৈয়ালের লাশ দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা জানাজা শেষে তাদের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে নিহত হওয়ার ১৩ দিন পর এই সহোদরের লাশ গতকাল সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে এবং লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুরে দুই ভাইয়ের লাশ বাড়িতে পৌঁছলে স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় শোকের মাতম। এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। দুই পুত্রকে হারিয়ে পিতা আবদুল কুদ্দুস ছৈয়াল বাকরুদ্ধ। মা মোর্শেদা বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। স্বামী স্বপন ছৈয়ালকে হারানো মালেকা বেগম পাগলপ্রায়। একমাত্র সন্তান শিশু সাব্বিরকে নিয়ে শুধুই বিলাপ করছিলেন। জন্মের পর বাবাকে দেখেনি সাব্বির। তিন বছরের শিশু সাব্বির জানে না তার বাবা বাড়ি ফেরার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন। যে কারণে বাবা আর বাবার আদর সম্পর্কে তার বোঝার সুযোগ হল না। গত ২১ জুন দুপুরে স্বপন ছৈয়াল স্ত্রী মালেকা বেগমের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনে কথা বলেছিলেন। কথা ছিল এ বছর দু’ভাই এক সঙ্গে বাড়ি আসবেন এবং সবার সঙ্গে ঈদ করবেন। ছোট ভাই মিলন ছৈয়াল মা মোর্শেদা বেগমকে ফোনে বলেছিলেন, মা দোয়া করো। ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছি না। চারদিকে সরকার বিরোধী সন্ত্রাসীদের ছোড়া বোমা ও গুলির শব্দ। দিনের এসব কথাই ছিল মায়ের সঙ্গে সন্তানের শেষ কথা। এরপর দিন গড়িয়ে রাত হয়। ওই রাতেই লিবিয়ার বেনগাজী সামা শহরে সরকার বিরোধী সন্ত্রাসীদের হামলায় ওই দুই সহোদর মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের ছাবেরপাড়ার দরিদ্র হাজী আবদুল কুদ্দুস ছৈয়াল ভাগ্য বদলাতে দুই ছেলে স্বপন ও মিলনকে পাঠিয়েছিলেন দূরের দেশ লিবিয়ায়। ২০০৯ সালে দুই পুত্রকে বিদেশ পাঠাতে যতটুকু জমিজমা ছিল তার পুরোটাই বিক্রি করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে বেড়েছে ধারদেনা। এখন তিনি নিঃস্বরিক্ত। জমিজমা হারানোর শোক ছেপে একই সঙ্গে দুই সন্তানকে হারানোর বিশাল শোকে তার অনুভূতি পাথর হয়ে আছে। একটা দীর্ঘশ্বাসও যেন ছাড়তে পারছেন না। নিহত স্বপন ও মিলনের ছোটভাই রুবেল আহমেদ বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলছিলেন এই দুই ভাই তাদের লেখাপড়াসহ জীবন-জীবিকার সব ব্যয়ভার বহন করতেন। আজ ভাই দুটি নেই। যারা বেঁচে আছেন নিয়তি তাদের অন্ধকার-অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়েছে। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ছাবেরপাড়ায় দাফন অনুষ্ঠানে পাঠান। লিবিয়ার একটি মিনারেল ওয়াটার কোম্পানিতে কাজ করতেন দুই সহোদর। ২১ জুন রাত ১০টায় কাজ শেষে বাসায় ফেরার পর সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় তারা নিহত হন।