শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি চাইলেন এরশাদ

44107_f4

 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসি দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচএম এরশাদ। একই সঙ্গে শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, রাস্তায় নেমেছি, প্রয়োজনে রাস্তায় থাকবো। তবুও বিচার দেখতে চাই। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। ১৬ কোটি মানুষকে অপমান করেছেন। তাকে জাতীয় সংসদে আর দেখতে চাই না। গতকাল জাতীয় পার্টির প্রধান কার্যালয়ের সামনে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও পবিত্র হজ সম্পর্কে কটূক্তি করায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর অপসারণ, গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। এর আগে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। গতকাল জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এমএ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ। লতিফ সিদ্দিকীকে কুলাঙ্গার আখ্যা দিয়ে এরশাদ বলেন, কুলাঙ্গার লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করুন। তিনি মুসলমান নন, মুরতাদ। বিচারের আওতায় এনে তাকে ফাঁসি দিতে হবে। মুরতাদের ফাঁসি চেয়ে প্রতিবাদ করা প্রত্যেক মু’মিনের ঈমানী দায়িত্ব। আমরা তা পালন করছি। এরশাদ বলেন, শুধু মন্ত্রিপরিষদ নয়, দল থেকে বহিষ্কার করে দলকে কলঙ্কমুঙ্ক করুন। তিনি এমন বক্তব্য দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সংসদে বক্তব্য দেয়ার অধিকার হারিয়েছেন। তার সঙ্গে একই সংসদে আমরা বসতে পারি না। তাকে সংসদ থেকেও বহিষ্কার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে এরশাদ বলেন, লতিফ সিদ্দিকী দেশকে বিশ্বাস করে না, বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করে না। তাকে রাজনীতি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করুন। তাকে এ দেশে রাজনীতি করতে দেয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন এরশাদ। তিনি বলেন, একটি মানুষের কারণে পুরোবিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। কোন দলের নাম উল্লেখ না করে এরশাদ বলেন, একটি দল নিজেদের মুসলমানের দল বলে দাবি করে। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকীর এমন বক্তব্যের পর দলটি প্রতিক্রিয়া দিতে পারেনি। আমরা প্রতিক্রিয়া দিয়েছি। রাজপথে নেমেছি। এ সময় এরশাদ তার মেয়াদে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। জাতীয় পার্টি প্রকৃত মুসলমানের দল। এ সময় কোন মুসলমান ঘরে বসে থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এখানে কোন রাজনীতি করতে আসিনি। এসেছি ঈমানে আঘাত লেগেছে, তার প্রতিবাদ করতে। সারা দেশে এ প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেয়ারও আহ্বান জানান সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ক্ষমার অযোগ্য এ অপরাধের শাস্তি লতিফ সিদ্দিকীকে অবশ্যই পেতে হবে।