বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

রমনা বোমা হামলার মামলার রায় ১৬ই জুন

Ramna-ed

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী ১৬ই জুন। গতকাল আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন। এদিন আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ঘটনার প্রায় ১৩ বছর পর মামলার রায় ঘোষিত হচ্ছে। ২০০১ সালের ১৪ই এপ্রিল রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও অনেকে। গত ৮ ও ১৮ই মে উভয়পক্ষ অভিযোগ ভিত্তিক ও মামলার ১৪ আসামির বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ১৮ই মে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। ওই দিন তাদের যুক্তিতর্কের জবাবে আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। ২০১৩ সালের ২৩শে অক্টোবর পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষে ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও তাদের জেরা করে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। কিন্তু মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) আবু হেনা মো. ইউসুফের পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণ নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। ১৪ই মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা আবু হেনা মো. ইউসুফ সাক্ষ্য দেয়ার সময় মোহাম্মদপুরের যে বাড়িতে বোমা হামলা ও হত্যা পরিকল্পনা হয়েছিল সে ঘটনাস্থলের মানচিত্র আদালতে দাখিল করেননি। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভুলে তা উপস্থাপন ছাড়াই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর শুরু হয় মামলার প্রথম পর্যায়ের যুক্তিতর্ক। এর শেষ পর্যায়ে আসামি পক্ষ তদন্ত কর্মকর্তার ভুলের বিষয়টি উপস্থাপন করলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এসএম জাহিদ সরদার তড়িঘড়ি করে তা উপস্থাপন করার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় সাক্ষ্য প্রদানের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু আসামি পক্ষ তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য প্রদানের বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, যুক্তিতর্কের পর্যায়ে মামলার ত্রুটি সারাতে কোন সাক্ষীকে রি-কল করা যাবে না। আসামি পক্ষের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিচারক রুহুল আমিন রি-কলের আবেদন মঞ্জুর করলে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন ওই আদেশ আইনানুগ হয়নি মর্মে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু পরপর তিনটি নির্ধারিত তারিখেও হাইকোর্টের আদেশ দাখিল করতে না পারায় আদালত পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেন।
৫ই মে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পুনঃসাক্ষ্য প্রদানের সময় মোহাম্মদপুরের যে বাড়িতে বোমা হামলা ও হত্যা পরিকল্পনা হয়েছিল, সে ঘটনাস্থলের মানচিত্র আদালতে উপস্থাপন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শেষ করেন। ২০১৩ সালের ১০ই নভেম্বর এই মামলার আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় সাক্ষ্য দেন। এ সময় সব আসামি নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন। নৃশংস এই ঘটনার প্রায় ৮ বছর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২৯শে নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ২০০৯ সালের ১৬ই এপ্রিল ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত। মামলার ১৪ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, আরিফ হাসান সুমন, শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ মওলানা আবু তাহের, মওলানা আব্দুর রউফ, মওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ও মওলানা আকবর হোসাইন কারাগারে আছেন। আসামি মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আব্দুল হাই পলাতক আছেন।