বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

মানসিক অনুভূতি :: হাছনা জান্নাত মিকাত

যথারীথি সালামত ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিল। আগে থেকে জানিয়ে রাখি ,সালামত ভাই কিন্তু উচ্চ শিক্ষিত এবং পেশায় চাকুরিজীবী, ভীষণ সুগন্ধি মাখেন,জামা কাপড় ও বেশ রুচিসম্মত। বয়স ষাট ছুঁইছুঁই। যদিও পুরুষ মানুষের বয়স বলে কিছু থাকতে নেই। রবীন্দ্রনাথ ও তাই বলেছেন। পুরুষ মানুষ সতেরোতে যা , সত্তুর এ ও তাই। যাই হোক চানঁ কপাল হওয়াতে , ভাগ্যক্রমে সালামত ভাইয়ের দুই বউ। প্রথম জনের বয়স খানিকটা বাড়তি হলেও, দ্বিতীয়জন লাউয়ের ডগার মতো বেশ কচিঁ।কিন্তু সালামত ভাই ব্যলেন্স করে একেবারে গুছিয়েই। অতি পরিপক্ষ হলে যা হয়! খুব সুন্দরভাবেই চলছে জীবন। বেশ ফুরফুরে মেজাজে। একদিন হঠাৎ মনের ভিতর খুব আকুতি জাগলো, সালামত ভাইকে প্রশ্ন করার। চোখের লাজ- লজ্জা ভেঙে , প্রশ্নটা করেই ফেললাম!

আমি: আচ্ছা ভাই আপনার প্রথম বউয়ের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?
সালামত ভাই :- ধর্মীয়ভাবে সে আমার বউ। সে আমার বৈধ বউ ও ।কিন্তু তার সাথে আমার কোন শারীরিক সম্পর্ক নেই।

হঠাৎ করে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে। আর ভাবছিলাম , এতো লেখাপড়া জানা একজন মানুষ জানেই না , সম্পর্ক কাকে বলে? সম্পর্ক যে দেহের হয়না , সেটাই জানেনা ভদ্রলোক। আমার মতে পৃথিবীর কোন পুরুষের যদি তাদের বউদের সাথে দেহের সম্পর্ক হয়ে থাকে, তাহলে তো পতিতার কাছে গেলেই হয়। রোজরোজ নতুনত্ব পাওয়া যায়।বিয়ে নামের একটা প্রহসনে না জড়ানোই উচিত।
তাদের মাথায় একবার ও কাজ করেনা পৃথিবীর সকল বাবার কাছে যার যার কন্যা সন্তান টা রাজকন্যা। একবুক বিশ্বাস নিয়ে, নিজের সবচেয়ে প্রিয় কলিজার টুকরা মেয়েটাকে স্বামী নামের অলিখিত বিশ্বাসী মানুষের হাতে তুলে দেয়।
স্বামী শুধু স্বামী নয়!
কখনো বাবা, কখনো ভাই, কখনো প্রিয় বন্ধু।
যাই হোক সালামত ভাইয়ের অবস্হা এখন চাল, ডাল জড়ানো খিচুড়ির মতো। না বলতে পারছে, না সইতে পারছে।

দিনশেষে সালামত ভাইয়ের অবস্হা …… হচ্ছে নতুন করে আবার একটা অপূর্ণতা।
না সে প্রথম বউয়ের বিশ্বাস পেলো।
না তার দ্বিতীয় বউ, প্রথম বউয়ের সাথে ব্যলেন্স করা সালামত ভাইয়ের জীবনটাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিলো।
দুই নৌকায় পা রাখলে যা হয়!
খুব মায়া লাগলো মানুষটার অকথ্য কষ্ট দেখে।তার জীবনের সবটুকু দিয়েই দুইজনকে ভালো রাখতে চায় খুব। কিন্তু জীবন সবসময়ই একমুখো ।তাছাড়া সম্পর্ক কখনো দৈহিক হয়না। সম্পর্ক একটা মানুষিক অনুভূতি।

আমরা বেশিরভাগ সময়ই, না জেনে, না বুঝে, মনের খেয়ালখুশি মতো অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।
এসব কারণে দিনের পর দিন মৃত্যু হচ্ছে হাজারো একমুখো মানুষিক সম্পর্কে বিশ্বাস করা মানুষের মনগুলোর। তাই প্রত্যেকেরই উচিত , নিজের সাথে নিজের একান্তে সময় কাটানো। নিজেকে বুঝা। নিজেকে নিজে চেনা। নিজের সাথে নিজের কথা বলা।
হাছনা জান্নাত মিকাত, লেখক, শিল্পী, কবি প্রাবন্ধিক।