শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ভেজাল ওষুধ তৈরির দায়ে তিন জনের ১০ বছর কারাদন্ড

adalot_19150

ভেজাল প্যারাসিটামল তৈরির দায়ে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডফ্লেম ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপকসহ তিনজনকে দশ বছর করে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

আজ ঢাকার ড্রাগ আদালতের বিচারক মো. আবদুর রশিদ ২১ বছর আগে দায়ের করা এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন- অ্যাডফ্লেম ফার্মাসিউটিক্যালসের অন্যতম পরিচালক ডা. হেলেনা পাশা, কোম্পানির ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান এবং প্রধান মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা নৃগেন্দ্র নাথ বালা।

এ বিষয়ে আদালতের পিপি শাহীন আহমেদ খান সাংবাদিকদের জানান, রায় ঘোষনার সময় জামিনে থাকা আসামি মিজানুর রহমান, ডা. হেলেনা পাশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দন্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি নৃগেন্দ্র নাথ বালা পলাতক ছিলেন। পশাপশি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কোম্পানির অন্যতম মালিক আফজার পাশা ও আরেক মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. নোমানকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার নথি সুত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডফ্লেম ফার্মাসিউটিক্যালস নামের কোম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপে ডাই-ইথিলিন গ্লাইকলের উপস্থিতি ধরা পড়ে। পরে এই ঘটনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিদর্শক আবুল খায়ের চৌধুরী ১৯৯৩ সালের ২ জানুয়ারি মোট আটজনকে আসামি করে ঢাকার ড্রাগ আদালতে মামলা করেন। এরমধ্যে আসামি ডা. মো. আনোয়ার পাশা, ইসরাত পাশা, এবং জাহিদ ইফতেখার পাশা মৃত্যুবরণ করায় তাদেরকে মামলার কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয়।

এরআগে ১৯৯০ সাল হতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ঢাকা শিশু হাসপাতালে কিডনি বিকল হয়ে শিশু মৃত্যুর হার অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালের তত্কালীন পরিচালক বিগ্রেডিয়ার (অব) মকবুল হোসেন ১৯৯১ সালের ৩ জুলাই ঔষধ প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবগত করেন। ওই সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ভেজাল প্যারাসিটামল সেবনে শিশু মৃত্যুর খবর প্রকাশ হয়। এরপর ১৯৯২ সালের ২৫ নভেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিদর্শক আবুল খায়ের চৌধুরী ওষুধ প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডফ্লেম ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি থকে তাদের উত্পাদিত ফ্লামোডল নামক প্যারাসিটামল সিরাপ নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাবি­উএইচও) ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠান। নমুনা পরীক্ষা শেষে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি তাদের অভিমতে জানায়, প্যারাসিটামল তৈরিতে ব্যবহূত প্রোপাইলিন গ্লাইকলের পরিবর্তে চামড়া শিল্পে ব্যবহূত ডাই ইথিলিন গ্লাইকল ব্যবহার করা হয়েছে। এসব প্যারাসিটামল সিরাপ সেবনে কিডনি বিকল হয়ে হতভাগ্য ওইসব শিশুদের মৃত্যু হয়েছে।