বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

ব্যাপক সহিংসতায় নিহত ৪

1_80598
চতুর্থ দফা উপজেলা নির্বাচনে সহিংসতায় চারজন নিহত ও আড়াই শতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় এক ইউপি চেয়ারম্যান, আখাউড়ায় বিএনপির এক কর্মী, রাজাপুরে যুবলীগ কর্মী ও বড়ুরায় এক যুবদল কর্মী রয়েছেন। এ পর্বে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করার স্বার্থে আইনশৃংখলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কেন্দ্র দখলের চেষ্টা চালানো হলে গুলি করার নির্দেশও দেয়া হয়। কমিশনের এ হুশিয়ারি সত্ত্বেও রোববার ৯১ উপজেলায় ভোট গ্রহণ চলাকালে গোলাযোগ, হামলা ভাংচুর ও কেন্দ্র দখলের ঘটনা আরও বেড়েছে। কিছু উপজেলায় নির্বাচনী সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মারধর, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটে।
ভোট গ্রহণের আগের রাতেই কয়েক স্থানে কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নিজ এলাকা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ভোট গ্রহণ চলাকালে তাণ্ডব চালানো হয়। সহিংসতার কারণে ৯ জেলার ১১ উপজেলার ৩২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনী অনিয়ম করায় বেশ কয়েকজনকে জেল-জরিমানা করেন মোবাইল কোর্ট। ভোট গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ এনে ৩৭ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। সহিংসতা চলাকালে ২৩ জনকে আটক করা হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে ৪ উপজেলায় হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেক উপজেলায় সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও ইসির কর্মকর্তাদের মতে, ধাপে ধাপে নির্বাচনে সহিংসতার তীব্রতা বাড়ছে। তিন দফা নির্বাচনের তুলনায় চতুর্থ দফায় সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি হয়েছে। সহিংসতাকারীরা এত বেপরোয়া ছিল যে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়ে তারা কেন্দ্রের দখল নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতেও অনেক স্থানে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভোট গ্রহণের সময় শেষ হওয়ার পর রোববার সন্ধ্যায় কমিশন সচিবালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক কঠোর হুশিয়ারির পরও চতুর্থ দফায় কিছু সহিংসতা ও গোলাযোগ হয়েছে দাবি করে বলেন, সহিংসতা না হওয়ার জন্য আমরা যথেষ্ট প্রার্থনা করেছি, ব্যবস্থাও নিয়েছি। এরপরও সহিংসতা কিছু হয়েছে, গোলাযোগও হয়েছে। জয়ী হতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মাঝে অদম্য স্পৃহা ও কামনার কারণে এ সহিংসতা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন, অবাঞ্ছিত, অহেতুক ও অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য ৩২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আইন অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চ পঞ্চম দফা উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।
যেসব কেন্দ্র বন্ধ হল : ইসির দেয়া তথ্যানুযায়ী সহিংসতা, গোলাযোগ, ভোটদানে বাধা, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে সিল মারাসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত পর্যায়ে চলে যাওয়ায় ৯ জেলার ১১ উপজেলায় ৩২ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ৮টি, পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলায় ৮টি, একই জেলার দুমকীতে ৫টি, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ৩টি, কুমিল্লার বরুড়ায় ২টি, ঢাকার ধামরাইয়ে ১টি, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১টি, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১টি, একই জেলার সাতকানিয়ায় ১টি, সিলেটের কানাইঘাটে ১টি ও কক্সবাজারের কতুবদিয়ায় ১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সহিংসতায় বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুদ্দিন প্রধান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের হাতে নিহত ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ভোট কেন্দ্র দখল পাল্টা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের কারণে ৭টি ভোট কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
শামসুদ্দিন চেয়ারম্যান হত্যার প্রতিবাদে দুপুর ১২টার দিকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাখি পয়েন্টে গাড়ি ভাংচুর ও বিক্ষোভ করেন। তারা টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। বেলা পৌনে ১টার দিকে সেনাবাহিনী অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থনীয় সংসদ সদস্য-সমর্থিত আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আমিরুল ইসলামের সমর্থক বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুদ্দিন প্রধানকে কুপিয়ে ও গুলি করে মারাত্মক জখম করে। গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। এ খবর এলাকায় পৌঁছলে উত্তেজিত গ্রামবাসী মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বেলা ১১টার দিকে চর বাউসিয়ার দক্ষিণকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ২০ জন আহত হন।
আখাউড়া : আখাউড়ায় বিজিবির গুলিতে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছেন। ১৫টি কেন্দ্র দখল করে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আবুল কাশেমের লোকজন ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল দেয়া শুরু করেন। বিকাল ৩টায় তারাগণ প্রাথমকি বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিল মারার সময় বিএনপির প্রার্থী মুসলিম উদ্দিনের কর্মীরা বাধা দিলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলিবর্ষণ করলে ঘটনাস্থলেই হাদিস মিয়া নামে এক বিএনপির কর্মী বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ১২ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মেজর এরশাদুল হক জানান, কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলিবর্ষণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের একটি টিম রয়েছে। হীরাপুর হাইস্কুল কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিনের এজেন্টকে মারধর করে কেন্দ্র দখল করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কাশেমের লোকজন কেন্দ্রের সব বুথে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। এতে বাধা দেয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় মনির হোসেন নামে এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত ৫ জন আহত হন।
ঝালকাঠি ও রাজাপুর : ঝালকাঠির রাজাপুরে রোববার প্রতিপক্ষের হামলায় যুবলীগ কর্মী রিপন নিহত হয়েছেন। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসিম উদ্দিন আকনের লোকজন ধারাল অস্ত্র দিয়ে রিপনকে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সেখানে তিনি মারা যান। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সকালে রাজাপুর উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মধ্যে সংঘর্ষে যুবলীগ কর্মী রিপন মিয়া গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।তিনটি উপজেলার বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলাগুলো হচ্ছে- ঝালকাঠি সদর, নলছিটি ও কাঁঠালিয়া। কাঁঠালিয়ায় বিএনপি সমর্থিত ছাড়াও আরও তিন প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সরদার এনামুল হক এলিন (দোয়াত-কলম) সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।
কুমিল্লা ও বরুড়া : বরুড়া উপজেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন চলাকালীন মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটদানে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গুলিতে যুবদল কর্মী মনির হোসেন নিহত হন। আদমপুর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল মান্নান আওয়ামী লীগ কর্মীদের হুমকিতে অসুস্থ হয়ে হসপিটালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বরিশাল, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও উজিরপুর : আগৈলঝাড়ায় ৭ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ায় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ আগৈলঝাড়ায় বিএনপি অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে। উজিরপুর উপজেলার বামরইল ইউনিয়নের হস্তীশুণ্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় আটিপাড়া কেন্দ্র এবং বড়াকোঠা ইউনিয়নের দরগাবাড়ি কেন্দ্র দখল করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হন। আগৈলঝাড়ায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যতীন্দ্র নাথ মিস্ত্রি, গিয়াস উদ্দিন, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এসএম আফজাল হোসেন শিকদার এবং ইসলামি আন্দোলন-সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা রফিকুন্নবী ভাট্টি। অপরদিকে বানারীপাড়ায় পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মোঃ শাহ আলম।
ভোলা, দৌলতখান, তজুমদ্দিন ও মনপুরা : ভোলার ৩ উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১৩ জন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংর্ঘষ হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন। সকালে দৌলতখানের প্রতি কেন্দ্রে দেখার মতো ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তজুমদ্দিন উপজেলার চাচড়া কেন্দ্রে দু’ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর ক্যাডারদের হামলায় ১০ জন আহত হয়েছে। অপরদিকে মনপুরায় সকাল সাড়ে ৮টায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত সেলিনা চৌধুরীর লোকজন কেন্দ্র দখল করে নেয়ার অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ভোট বর্জন করেন। দৌলতখানেও বিএনপি প্রার্থী ভোট বর্জন করেন।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) : দৌলতপুর বিএনপি, জাসদ ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় পার্টি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এদিকে পুলিশের গুলিতে এক বিএনপি কর্মী গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়েছে।
মঠবাড়িয়া : বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ২৫ নেতাকর্মী এবং সমর্থক আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার অথবা আটক করেনি।
এদিকে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রুহুল আমীন দুলাল দাবি করেন নির্বাচনে তার দলের ১৩০ কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে।
দাগনভূঞা : ফেনীর সোনাগাজীতে বিএনপি সমর্থিত একজন চেয়ারম্যান, একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বেলা ১১টায় নির্বাচন বর্জন করেন। তারা আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে।
খুলনা : রোববার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই রূপসা ও তেরখাদার বেশ কয়েকটি কেন্দ্র সরকারদলীয় সমর্থকরা দখলে নেয়। এ সব কেন্দ্র থেকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। জাল ভোটে বাধা দিতে গিয়ে আটক হয় তেরখাদা উপজেলার চেয়ারপ্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রবিউল হোসেন। তেরখাদার আনন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের একটি কক্ষে প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টারকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয় তেরখাদা উপজেলার বিএনপি সমর্থিত চেয়ারপ্রার্থী মেজবাউল আলম। ভোট বাতিলের দাবিতে এই উপজেলায় সোমবার সকাল-সন্ধ্যায় হরতাল আহ্বান করেছে বিএনপি।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালী সদর উপজেলায় কয়েকটি কেন্দ্রে থেকে জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। ফলে ৭টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টাকালে ভ্রম্যমাণ আদালত ৪ জনকে জরিমানা করেছে। এসব ঘটনায় হতাহতের তেমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
নড়াইল : নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রদীপ কুমার (সাধন) নামে এক যুবক জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুজ্জামান প্রদীপকে দু’বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সাতক্ষীরা : কলারোয়ার বেশির ভাগ ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়েছে সরকারদলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা। দুপুর ২টার পর থেকে সব কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দিয়ে প্রকাশ্যে সিল মারে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। এদিকে জাল ভোট প্রদান ক্যামেরা বন্দি করার সময় সোনাবাড়িয়া ও কেড়াগাছি কেন্দ্রে সরকারদলীয় লোকজন আবু রায়হান এবং বেলাল হোসেন নামের দু’সাংবাদিককে মারধর করে ক্যামেরা ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করে। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়েছে।
বরুড়া (কুমিল্লা) : বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারদের জিম্মি করে আনারস, টিউবওয়েল ও ফুটবল প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট পেপার বাক্সে ভরে দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যালট পেপার দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে তলাগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ড. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ শাহ্ জাহান ভূঁইয়াকে ভোটাররা ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে। বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল খালেক চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ জহিরুল হক জানান, আমড়াতলী, জোড়পুকুরিয়া, শিলমুড়ী, কৃষ্ণপুরসহ প্রায় কেন্দ্রেই রাতের বেলা ভোট হয়ে গেছে। মহেশপুর আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আনারসের সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করতে গেলে পুলিশ ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
যশোর : বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলার ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা, আনসার সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিলেট : বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে ১১ উপজেলায় ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে। ভোট গ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নোয়াখালী : নোয়াখালী বেগমগঞ্জ উপজেলায় রোববার কেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট পেপার ও বাক্স ভাংচুর হয়েছে। পুলিশ বাধা দিতে গেলে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-পুলিশের সঙ্গে দুই গ্র“পের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ১৯ দলের ১০জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হন ৩০ জন। উপজেলায় ১৬৭ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে জাল ভোট ব্যালট পেপার, বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল করায় আইন-শৃংখলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে ৩টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করেছে প্রশাসন।
মধুপুর (টাঙ্গাইল) : ভোট গ্রহণ শেষে এসে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পৃথক দুটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের লাঠির আঘাতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রাজশাহী : রোববার রাজশাহীতে সরকারদলীয়দের কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষ, পুলিশের ফাঁকা গুলিবর্ষণ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায়ের ঘটনার মধ্য দিয়ে বাগমারা, পুঠিয়া ও তানোর উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফটিকছড়ি : ফটিকছড়িতে কেন্দ্র দখল, সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারাসহ ব্যাপক সহিংসতা আর অনিয়মের মধ্যে শেষ হয়েছে উপজেলা নির্বাচন। এ সময় পোলিং অফিসার জিয়া উদ্দিন, যুবদল নেতা ওসমান তারেক সম্রাট ও মনসুর নামের এক আনসার সদস্য আহত হন।
রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, হামলা, মারধর ও কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় মোঃ সাইর মিয়া নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
হবিগঞ্জ : বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে হবিগঞ্জ সদর, লাখাই, নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ৪ উপজেলায় জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে ১০ জনকে জেল জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন আনসার সদস্যকেও আটক করে পুলিশ।
পিরোজপুর ও জিয়ানগর : পিরোজপুরের চার উপজেলার ২০২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র বহাল রেখেই উপজেলা নির্বাচন বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে। এদিকে জিয়ানগর উপজেলায় জামায়াত সমর্থক প্রার্থী মাসুদ বিন সাঈদীর সমর্থকদের হাতে সরকারদলীয় লোকজন আহত হওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ।
অপরদিকে মঠবাড়িয়ার বিএনপি প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন নির্বাচন দাবি করেন এবং আজ উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছেন।
ধামরাই (ঢাকা) : ধামরাই উপজেলা নির্বাচনে শতাধিক ভোট কেন্দ্রে বল প্রয়োগ ও ব্যাপক জালভোটের মহোৎসব হয়েছে। ৫টি ভোট কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আলহাজ গোলাম কবীরের আনারস প্রতীকের ১২ নেতাকর্মীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
নাটোর : বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে মাঝগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন মোল্লাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের ৩ কর্মীসহ মোট ৬ জনকে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে মোট ১৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পাবনা/ঈশ্বরদী/ফরিদপুর : উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনার ঈশ্বরদী ও ফরিদপুর উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আকাল সরদার (৫০) এবং আওয়ামী লীগ নেতা সেকেন্দার আলীকে আইন-শৃংখলা বাহিনী গ্রেফতার করে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের একটি সরকারি গাড়িতে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেনাবাহিনী ওই ভোট কেন্দ্রের পাশের বাড়ি থেকে আরও এক ব্যক্তিকে আটক করে।
গাজীপুর ও কালিয়াকৈর : কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে মৌচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চান্দরা আইডিয়াল স্কুল, জেনিথ পিএল কিন্ডারগার্টেন, মৌচাক আদর্শ বিদ্যা নিকেতন ও মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
আনোয়ারা : আনোয়ারায় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি আর জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জালাল উদ্দিন আহমদ । এছাড়া বিকাল সাড়ে ৩টায় খিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভাইস চেয়াম্যান প্রার্থী মৃণাল ধরের সমর্থকদের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শ্যামল শীল (২৮) ও জনি শীল (১৮) আহত হয়েছেন।
উৎস- যুগান্তর