বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পেট্রোল বোমার আগুনে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান নিহত

39742_ekram final_101269

গুলি ও দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া পেট্রোল বোমা হামলায় ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে শহরে বিলাসী সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গাড়িতে থাকা আরো তিনজন দগ্ধ হয়েছেন । দগ্ধরা হলেন- ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন (৬০) স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ফরহাদ (৩২) ও গাড়ি চালক মামুন (৩০)। আহত তিনজনকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজস হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ফুলগাজী আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হকের হত্যার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিন্দা, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, একরামুল হক অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন তরুণ নেতা। ফুলগাজীকে একটি আধুনিক উপজেলায় পরিণত করতে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। যারা দেশের স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী, যারা হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল করতে চায় সেই দেশবিরোধী অশুভ শক্তিই একরামুল হককে নৃশংসভাবে হত্যা করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলগাজীবাসী এবং সমগ্র দেশবাসীকে এই নির্মম হত্যা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ঘটনার পর ফেনী শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুলের সমর্থকরা শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়ি ভাংচুর করেছে। একরামের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিনের বাড়িতে আগুন দিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা। এছাড়া ঘটনার পরপর ফেনী-পরশুরাম সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ ও বেলা ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও অবরোধ করে তারা। এরপর বিকেল ৫টায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেয়ার পর যান চলাচল শুরু হয়। এদিকে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে ফেনী শহরসহ আশ-পাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একরামুল হক ফেনী শহরের বাসা থেকে নিজ গাড়িতে করে ফুলগাজী যাচ্ছিলেন। শহরের বিলাসী সিনেমা হলের সামনে পৌঁছার পর আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃৃত্তরা তার গাড়ি লক্ষ্য করে এলাপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। এরপর পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গাড়িতে আগুন ধরে গেলে দগ্ধ হয়ে একরামুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় আগুনে গাড়ির চালকসহ অপর তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িতে থাকা তিনজন দরজা খুলে বেরিয়ে আসলেও একরামুল হক বের হতে পারেননি। তারা গাড়ি থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাদের এলোতাপাতারী আঘাত করে। এতে তিনজন আহত হয়। এরপর হামলাকারীরা মোটর সাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।এদিকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী আগুন নিভিয়ে গাড়িতে পুড়ে যাওয়া একরামুলের লাশ উদ্ধার করে ফেনী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। দেহ পুড়ে যাওয়ায় পরে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহের ডিএনএ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এছাড়া হত্যার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে পুলিশ কোন তথ্য দিতে পারেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।