শনিবার, ৮ মে ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

পাঞ্জাবের প্রথম নাকি কলকাতার দ্বিতীয়

IPL-Opening-Ceremny

ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগের সপ্তম আসরের শিরোপা নির্ধারণ হবে আজ। ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ফাইনালে মুখোমুখি হবে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। এবারের ফাইনাল বলিউডের শক্তিমান দু’জন তারকার লড়াইও। বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা বীর-জারা’র নায়ক-নায়িকা শাহরুখ খান ও প্রীতি জিনতা যথাক্রমে মালিক কলকাতা নাইট রাইডার্স ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। শাহরুখ খানের কলকাতা ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে ফাইনালে আজ মাঠে নামবে। তারা ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন। আগের ছয় আসরে মাত্র একবার ফাইনালে উঠেই তারা শিরোপা জিতেছিল। অন্যদিকে আইপিএল-এ পাঞ্জাবের এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য। এর আগে তারা একবারও ফাইনালের উঠতে পারেনি। টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে ২০০৮ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল। তবে সেবার চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হেরে শেষ চার থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। ৭ বছর পর পাঞ্জাব দারুণ প্রতিশোধ নিয়েছে চেন্নাইর কাছ থেকে। তারা এবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চেন্নাইকে ২৪ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে। এই মওসুমে সবচেয়ে আশা জাগানিয়া দল পাঞ্জাব। তারা মওসুমের অধিকাংশ সময় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল। এই মওসুমে তারা ইনিংসে ২০০-এর ওপরে রান তুলেছে চারবার। সর্বোচ্চ রানের শীর্ষ চার ইনিংসই তাদের দখলে। তবে তারা এই মওসুমে চেন্নাইর বিপক্ষে যেন বেশি খড়গহস্ত। চেন্নাইকে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচের পর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচেও হারিয়েছে তারা। প্রতিবারই পাঞ্জাব তাদের বিপক্ষে ২০০-এর ওপর রান করেছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ২০৬ রান করে ৬ উইকেটে জিতেছিল আর দ্বিতীয় ম্যাচে ২৩১ রান তুলে জিতেছিল ৪৪ রানে। আর এটিই এই মওসুমে দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে শুক্রবার তারা চেন্নাইকে হারায় ২৪ রানে। এদিন পাঞ্জাব সংগ্রহ করে এই মওসুমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৬ রান। শনিবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে পাঞ্জাবের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান বিরেন্দর শেওয়াগ ব্যাটে ঝড় তোলেন। তিনি ৮টি ছক্কা ও ১২টি চারের সাহায্যে মাত্র ৫৮ বলে করেন ১২২ রান। এটি এই মওসুমে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর আগে সর্বোচ্চ ১০০ রান করেছিলেন মুম্বইর লেন্ডল সিমন্স। আর শেষের দিকে ডেভিড মিলার করেন ১৯ বলে ৩৮ রান। শেষ পর্যন্ত তারা ৬ উইকেটে ২২৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১ রানের মাথায় এক উইকেট হারালেও চেন্নাই দুর্দান্ত সূচনা করে। টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ সুরেশ রায়না ব্যাটে ঝড় তুলে মাত্র ২৫ বল খেলে তুলে নেন ৮৭ রান। হাঁকান ৬টি ছক্কা ও ১২টি চার। একপর্যায়ে মাত্র ৬ ওভারের মধ্যে ১০০ রান করে ফেলে চেন্নাই। এক সময় বড় টার্গেট চেন্নাইর সামনে ছোটই মনে হচ্ছিল। রায়না ফেরার পরও চেন্নাইর ব্যাটসম্যানেরা ছিলেন খুনে মেজাজে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২০২ রান তুলতে পারে তারা। এতে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে যায় পাঞ্জাব।
যেভাবে ফাইনালে দুই দল
এ মওসুমে পাঞ্জাব শুরু থেকেই দৃষ্টি কাড়লেও কলকাতার অবস্থা ভিন্ন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের এবারের দল নিয়ে ফাইনালের জন্য বাজি ধরার কেউ ছিল না। প্রথম দিকে তেমনটাই মনে হচ্ছিল। প্রথম সাত ম্যাচের মধ্যে মাত্র দু’টিতে জয় পায় তারা। কিন্তু এরপরই চেহারা পাল্টে যায় তাদের। টানা সাত ম্যাচ জিতে প্লে-অফের মর্যাদা পায় তারা। আর ২৪শে মে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৪ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে তারা। আর এমন দুর্দান্ত রূপে ফিরে প্রথম কোয়ালিফাইং ম্যাচে কলকাতার কাছে পাত্তাই পায়নি পাঞ্জাব। তাদেরকে ২৪ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠে শাহরুখ খানের কলকাতা। সেই পাঞ্জাবই আজকের ফাইনালে কলকাতার প্রতিপক্ষ। গ্রুপ পর্বে এই দুই দলের সাফল্য সমান। প্রথম ম্যাচে পাঞ্জাব ২৩ রানের জিতলেও পরের ম্যাচে তারা কলকাতার কাছে হাতে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে। তবে প্রথম কোয়ালিফাইং ম্যাচে পাঞ্জাবকে হারিয়ে পরিসংখ্যানে এগিয়ে কলকাতা।
দুই দলে দৃষ্টি থাকবে যাদের ওপর
এই মওসুমে ব্যাট হাতে খুনে মেজাজে আছেন কলকাতা ও পাঞ্জাবের দুই ব্যাটসম্যান রবিন উথাপ্পা ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। উথাপ্পা এখন পর্যন্ত ১৫ ম্যাচে করেছেন সর্বোচ্চ ৬৫৫ রান। ৪৬.৭৮ গড়ে এই রান করে তিনি এখন অ্যারেঞ্জ ক্যাপ ধরে রেখেছেন। সর্বশেষ দশ ইনিংসে তিনি কমপক্ষে ৪০ রান করেছেন। এই দশ ম্যাচে করেছেন চারটি ফিফটি। আর পাঞ্জাবের অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১৫ ম্যাচে করেছেন ৫৫২ রান। তিনি সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তেমন রান পাননি। কিন্তু এর আগে তিনি ৩টি ৯০-এর ওপর ইনিংস খেলেছেন। সর্বাধিক রান সংগ্রহের তালিকায় তিনি আছেন তৃতীয় স্থানে। ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে ব্যাটে আগুন ঝরাতে আছেন ডেভিড মিলার ও জর্জ বেইলি। আর কলকাতার রবিন উথাপ্পার সঙ্গে জ্বলে ওঠার জন্য আছেন ইউসুফ পাঠান ও সাকিব আল হাসান।
এখন পর্যন্ত কলকাতার সবচেয়ে সফল বোলার সুনীল নাইরাইন। তিনি ১৫ ম্যাচে নিয়েছেন ২০ উইকেট। আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দেয়ার জন্য আছেন বিশ্বসেরা বাংলাদেশী অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি ১২ ম্যাচে নিয়েছেন ১১ উইকেট। ব্যাট হাতে তিনি করেছেন ২১৫ রান।
কলকাতা’র ফাইনালকেই বেছে নিলেন নারাইন
শেষ পর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ফাইনাল খেলাটাকেই বেছে নিলেন সুনীল নারাইন। আইপিএলে আজ তার দল পাঞ্জাবের বিপক্ষে ফাইনাল খেলতে নামবে। ক’দিন ধরে এই ফাইনাল সামনে নিয়ে মহাসমস্যায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই স্পিনার। ৮ই জুন থেকে নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ সিরিজে খেলতে হলে নারাইনকে আজকের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনুশীলন ক্যাম্পে হাজির হতে হতো। অথচ আজই আইপিএলে কলকাতার ফাইনাল। এই দুয়ের মধ্যে কলকাতার হয়ে ফাইনাল খেলাকেই বেছে নিলেন নারাইন। এরপর দেশে ফিরলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলতে পারবেন না তিনি। তবে জুলাইয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলের হয়ে তিনি খেলতে পারবেন। নারাইন ৬ টেস্টে ২১ উইকেট শিকার করেছেন। এর মধ্যে তার ১৮টি উইকেটই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এমন পারফরমেন্সের পরও তার দলে না থাকাটা খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে তার বদলে দলে খেলবেন স্পিনার শেন শিলংফোর্ড।