মঙ্গলবার, ৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক :

sss

আইনশৃঙ্খখলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তার হেফাজতে মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা বিধান রেখে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ), ২০১৩’ নামে একটি বেসরকারি বিল বৃহস্পতিবার সংসদে পাস হয়েছে।

বিলের বিধান অনুযায়ী, সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে কারো মৃত্যু হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ন্যূনতম যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকার জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য অভিযুক্তকে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকার জরিমানা দিতে হবে।

সাবের হোসেন চৌধুরী বিলটি পাসের জন্য প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। তিনিই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিলে নির্যাতন, অন্যান্য নিষ্ঠুর ও অমানবিক অথবা অমর্যাদাকর আচরণ অথবা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের কার্যকারিতা প্রদানের লক্ষ্যে বিলটি উত্থাপনের কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিলে বর্ণিত অপরাধকে জামিন অযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিল অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি আদালতে নির্যাতনের অভিযোগ করলে তাত্ক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তির বিবৃতি লিপিবদ্ধ করতে হবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা তার পক্ষে কর্তব্যরত কোনো ব্যক্তির গাফিলতি বা অসতকর্তার কারণে অভিযোগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিযোগকারীকেই প্রমাণ করতে হবে তার কোনো দোষ নেই। অপরাধের জন্য দণ্ড ঘোষণার দিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে জানাতে হবে এটি জামিন অযোগ্য। এটি পূরণ করা ছাড়া কোনো আপিল করা যাবে না। কোনো অপরাধী যদি অন্য দেশের নাগরিক হন তাহলে প্রত্যাবর্তন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যায়বিচার পাওয়া মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করার বিধান থাকলেও তা করা হয় না। এ ধরনের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ রাষ্ট্রের কাঠামোকে দুর্বল করে। মানুষ হয় অধিকারহীন। সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে, আইনের শাসন সুরক্ষিত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষকে সরকারি প্রশাসনযন্ত্র এবং পুলিশের বেআইনি আচরণ, অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রক্ষাকল্পে এই বিল আনা হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হলে বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি বিলটি চূড়ান্ত করে তা পাসের সুপারিশ করে সংসদে রিপোর্ট দেয়। দীর্ঘদিন বিলটি ওই অবস্থায়ই পড়ে ছিল। গত বুধবার সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনের কার্যসূচিতে বিলটি পাসের জন্য রাখা হয়।

Leave a Reply