বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

দুঃস্বপ্ন : শামীম খান যুবরাজ

এভাবে এত বছর পর হঠাৎ করে অনিকার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে ভাবেনি আবরার। চোখে চোখ পড়তেই ঝটকা লাগল মনের দরজায়। দীর্ঘদিনের খিল আঁটা দরজায় হঠাৎ ঠকঠক শব্দে যেমন চমকে ওঠে গৃহবন্দি, আবরারের বেলায়ও তেমনটাই অনুভূত হলো।
-কেমন আছো আবরার?
প্রথম কথাটা অনিকার মুখ থেকেই বের হলো।
-জি, ভালোই। আপনি?
আবরার অনিকার মুখ থেকে নিজের চোখ নামিয়ে নিল, যথাসম্ভব দৃষ্টিটা অন্যদিকে ফেরানো চেষ্টা করল সে।
-তুমি আমাকে আপনি করে বলছো কেনো?
-না, আপনি তো এখন অন্যের স্ত্রী, অপরিচিতজন। আপনি তো ভালো করেই জানেন অপরিচিত কাউকে আমি ‘তুমি’ সম্বোধন করি না।
-তাতো জানি, কিন্তু আমি কীভাবে তোমার অপরিচিত হলাম। আমি যে তোমার সাবেক স্ত্রী। আমাকে তো ভালো করেই চেনো তুমি। থাক সে কথা, শুনলাম তুমি নাকি বউ নিয়ে বেশ সুখেই আছো। টানাপোড়নের সংসারে এতো সুখে থাকো কী করে? তাছাড়া আমার স্মৃতি বুঝি তোমাকে তাড়া করে না! এতো কিছুর পরেও ভালো থাকার অভিনয় করছো নাতো?
-দেখুন, আপনি যখন আমার স্ত্রী ছিলেন তখন আমার মেলা টাকা-পয়সা ছিল। আর যখন টাকায় ভাটা পড়ল, তখনই আপনি আমায় ছেড়ে গেলেন। ওসব স্মৃতি নিয়ে কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু আপনার সঙ্গে যে কবছর সংসার করেছি, সেসব আমার দুঃস্বপ্ন বলেই আমি ভুলে গেছি। আমার সংসারে এখন শুধু স্বপ্ন আর স্বপ্ন। ভালোবাসা আর ভালোবাসা। দুঃস্বপ্নগুলো কাছেই ভিড়তে পারে না। আমার এখন অনেক টাকা নেই সত্য, কিন্তু সুখ আছে। একটি সুখ পাখি আছে আমার সংসারে। হ্যাঁ জ্যোতিকাই আমার সংসারের সুখপাখি। অল্পতেই যে তুষ্ট। সুখের জন্য লক্ষ কোটি টাকার দরকার হয় না। ভালোবাসা আর ভালো একটা মনের দরকার। যা আপনার কাছে ছিল না। আশাকরি আগামীতে আর কোনোদিন আমাদের দেখা হলে পুরনো পরিচয়ে কথা বলতে আসবেন না। আমি আপনাকে চিনি না। আপনিও আমার পরিচয়ে কথা বলবেন না। জ্যোতিকা আমাকে, আমার দরিদ্রতাকে সমানতালে ভালোবাসে। ওর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আপনি আমার জীবনে যে কলঙ্কের কালি লেপন করেছিলেন, জ্যোতিকা তা মুছে দিয়েছে অনেক আগেই। আপনার প্রতি আমার কোনো রাগ নেই। আপনার জীবন অসুখী হোক এটা আমি কোনোদিনই চাইনি। আর চাইনি বলেই আপনার মুখোমুখি হইনি কোনোদিন। আমি খুশি হবো আগামীতে আমার সঙ্গে আপনার দেখা আর না হলে। ভালো থাকবেন।
আবরারের চলে যাওয়া পথের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকল অনিকা।
সত্যিই আবরার অনেক সুখী, ফুটফুটে দুটি ছেলেমেয়ে তার। স্বামীভক্ত গৃহিনী যার ঘরে তার আর দুঃখ কীসে! আর আমার সবকিছু থেকেও কিছুই নেই। স্বামীর রোজকার সন্দেহ, সংসারের অশান্তি, অবিশ্বাস সবমিলিয়ে নিজেকে নিঃস্ব বলেই মনে হলো অনিকার কাছে। অথচ আবরার তাকে ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। আমিও ভালোবাসার টানে পরকিয়ায় জড়িয়ে আবরারকে ছেড়ে মফিজের হাত ধরে…
আর ভাবতে পারেনা অনিকা। কয়েকটা বছর হয়তো আবরার দুঃস্পœ দেখেছিল। আর আমাকে দুঃস্বপ্নের ঘোরে কাটাতে হবে সারজীবন।

শামীম খান যুবরাজ, কবি, ছড়াকার, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক।
যুবরাজ ভুবন, পূর্ব মায়ানী, আবুতোরাব, মীরসরাই, চট্টগ্রাম-৪৩২১
০১৮২২ ৭১৫২৪২, shameem.khan.juboraj@gmail.com