মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

চুড়ান্ত লড়াইয়ের পরিকল্পনা,মাঠে নামবেন খালেদা জিয়া


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/khabarica24/public_html/wp-content/themes/taslimnews/inc/template-tags.php on line 163

2

আরো টানা কঠোর আন্দোলনের কথা ভাবছে বিরোধীদলীয় জোট। এখন লক্ষ্য আন্দোলনের মাধ্যমে হয় দাবি আদায়, না হয় সরকারের পতন। আন্দোলন ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সময় নষ্ট করতে রাজি নন। এ প্রেক্ষিতে টানা ৭১ ঘণ্টা অবরোধের পর আজ শুক্রবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। নতুন কর্মসূচি আরো তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ জুম্মার নামাজের পর দেশব্যাপী গায়েবানা জানাজার পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। কর্মসূচি হিসেবে আগামী রবিবার থেকে দেশজুড়ে টানা সপ্তাহব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া বিরোধী জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ২৫ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত যেসব দলীয় নেতাকর্মী নিহত হয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শুক্রবার সারাদেশে বাদ জুম্মা গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি যুগ্মমহাসজিব রুহুল কবীর রিজভী দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সংলাপের উদ্যোগ নিয়ে সরকারকে একতরফা নির্বাচন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপ না হওয়ার জন্য বিএনপিকে দায়ি করা হচ্ছে। অবরোধে এ পর্যন্ত সহিংসতায় নিহত হয়েছে ১৮ জন। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে রেললাইন উপড়ে ফেলার পাশাপাশি সড়কপথে অসংখ্য গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।এদিকে প্রধান বিরোধী বিএনপি বলছে, অবরোধ কর্মসূচিতে আন্দোলন গতি পেয়েছে। আন্দোলনের গতি যেভাবে এগুচ্ছে তাতে সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। যে ধরনের কর্মসূচি চলছে, আন্দোলনের কর্মসূচি আরো তীব্র থেকে তীব্রতর করা হবে। অবরোধের ৩য় দিনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বিরোধী জোটের ১ জন নিহত এবং ৯ শতাধিক আহত হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে সাড়ে ৩শ, আর সাড়ে ৬ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আর গত ৩ দিনে বিরোধী জোটের মোট ৯ জন নেতাকর্মী নিহত এবং ৩ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দলের নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশির নামে ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের সাথে অশালীন আচরণ করছে। আর নির্বাচন কমিশন এতো ছিল সরকারের সেবাদাস প্রতিষ্ঠান। এখন তারা সরকারের ক্রীতদাস হিসেবে কাজ করছে। অব্যাহত আন্দোলনের মুখেও সরকার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে না নেয়ায় এক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপোষ করার সুযোগ নেই বলে আবারো নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মতে, এখানে আপোষ করা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া, অন্যায়কে মেনে নেয়া। তবে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সফরে অবরোধ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা থাকলেও আজকের গায়েবানা জানাজায় বড় ধরনের সংঘাত হলে শনিবার থেকেই অবরোধ শুরু হতে পারে।বিএনপি নেতারা বলছেন, দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে কর্মসূচি দেয়া হবে। সরকারকে বাধ্য করা হবে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আগামীতে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে সব দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিলে আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে বিরোধী জোট। তা নাহলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দলীয় নেতাকর্মীরা এখন চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। পরিকল্পনা অনুসারে তারা কিছুটা হলেও রাজধানীকে সারাদেশের সাথে বিচ্ছিন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ কারণে ছুটির দিনেও কর্মসূচি রাখা হতে পারে। কারণ সমঝোতা ছাড়া নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন  অনুষ্ঠিত হলে যে কোনো মূল্যে বিরোধী জোট তা প্রতিহত করবে। এখন বিরোধী জোটের পরিকল্পনা একাই, আর তা হচ্ছে আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিরোধ করা। সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।অন্যদিকে সরকার পতনের আন্দোলনে এবার মাঠে নামছেন বেগম খালেদা জিয়া। বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে যে কোনো দিন তিনি মাঠে নেমে আসতে পারেন। আজ শুক্রবার ভোর ৫টায় বিরোধী জোটের প্রথম পর্বের অবরো কর্মসূচি শেষ হয়েছে। আগামী শনিবার বা রবিবার থেকে ফের সপ্তাহব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি আসার সম্ভাবনা রযেছে। আর এবারের অবরোধে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে মাঠে নেমে নেতৃত্বে দেবেন বলে জানা যায়। এক্ষেত্রে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন অবরোধ পয়েন্টে তাকে দেখা যেতে পারে। হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতেও জাতীয় নির্বাচনের পথে সরকার অবিচল থাকায় গণজাগরণ তৈরির জন্যই বেগম জিয়া মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে টিপ্পনী কেটে ‘মাঠে নামেন, এভাবে হবে না’ বলে চ্যালেঞ্জ ছোড়ার পর তার মোক্ষম জবাব দিতেই মাঠে নামার কথা ভাবছেন তিনি। এক্ষেত্রে গত দুতিন বছরে দেশের বিভাগীয় শহর অভিমুখে করা লংমার্চগুলোতে বিপুলসংখ্যক জনসমাগম তাকে বিশেষভাবে উৎসাহ যোগাচ্ছে। বিএনপি ও বিরোধী জোটের নেতাকর্মীদের ধারণা, বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের মাঠে নামলে অভূতপূর্ব গণজাগরণ ঘটবে। তাছাড়া চলমান আন্দোলনে বিরোধী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষ্ক্রিয়তাও বেগম জিয়াকে মাঠে নামতে বাধ্য করছে। এমনিতেই তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের আন্দোলনের মাঠে না থাকায় ক্ষুব্ধ। বার বার তাগিদ দিয়েও তাদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ দেশজুড়ে হাজার হাজার তৃণমূল নেতাকর্মী আন্দোলনের মাঠে রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের মাঠে নামলে একদিকে যেমন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও আন্দোলনের মাঠে নামবেন, অন্যদিকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিপুল উৎসাহে আন্দোলনে সক্রিয় হবে। তাছাড়া বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন সফল হয়ে গেলে তখন দীর্ঘসময় ক্ষমতা হাতছাড়া থাকার ভয়ও রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন ঠেকাতে নিজে মাঠে নামা ছাড়া তার সামনে কোনো বিকল্প দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করছেন তিনি।

Leave a Reply