বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

গাইবান্ধায় ২০৬ স্থগিত ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার পুনর্নির্বাচন

gaibandha-map

 

গাইবান্ধায় ৩টি আসনে ২০৬টি স্থগিত ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোট ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৪টি ভোট কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত হয়। যে ৫৫টি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন (নৌকা) ৪৫ হাজার ৩৮৩ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংসদ সদস্য কর্নেল (অব:) আব্দুল কাদের খান (জাপা) ৫ হাজার ৯৫৮ ভোট পেয়েছেন। সুন্দরগঞ্জ এই আসনের স্থগিত ভোট কেন্দ্রগুলোর মোট ভোটার ১ লক্ষ ৫৮ হাজার। ৫৪টি কেন্দ্রে ৩১৪টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। ৫৪ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩২৪ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার ও ৬২৮ জন পোলিং অফিসার ভোট গ্রহণ করবেন।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ি) আসনে ১৩০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত হয়। ৫০টি কেন্দ্রে ডা. ইউনুস আলী সরকার (নৌকা) ৭০ হাজার ৬৬৪ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি (স্বতন্ত্র) ১২ হাজার ৭৮১ ভোট পান। এই আসনের স্থগিত ভোটকেন্দ্রগুলোর মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৩০২ জন। ৮০টি কেন্দ্রে ৪২৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে। ৮০ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৪২৮ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার ও ৮৫৬ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণ করবেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭২টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়। এসব কেন্দ্রের মোট ভোটার হচ্ছে ২ লাখ ৭৭ জন। ৫৮টি ভোটকেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৮৬২ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী (নৌকা) ১৮ হাজার ৮০৬ ভোট পান।
উপজেলার ৭২টি কেন্দ্রে ৩৭৫টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে। ৭২ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩৭৫ জন সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার ও ৭৫০ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণ করবেন।
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৫ জন পুলিশ এবং ১২ আনসার নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া প্রতি ২টি কেন্দ্রের জন্য পুলিশের একজন ইন্সক্টেরের নেতৃত্বে একটি করে মোবাইল টিম, প্রতি ১০টি কেন্দ্রের জন্য একজন সহকারি পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। এছাড়া  বিজিবি, র‌্যাব, সেনা সদস্য, ভ্রাম্যমাণ টিম ৬৭ জন ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নিয়োজিত থাকবেন।

কেন্দ্র এবং ব্যালট ও ভোট বাক্সে অগ্নিসংযোগ, সহিংসতাসহ নানা কারণে গাইবান্ধা জেলায় ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ২১৮টি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩টি আসনের ২০৬টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হওয়ায় এসব কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত থাকলেও এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহাবুব আরা বেগম গিনিকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ শাহীনুর ইসলাম বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন গ্রহণে সকল প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি।

 

উৎস- কালেরকন্ঠ

Leave a Reply