রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে

50925_f6

 

বিদ্যুতের খুচরা মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে তিনটি বিতরণ সংস্থা। ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব দিয়েছে। গত সোমবার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পৃথক পৃথকভাবে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবে বিদ্যুতের খুচরা মূল্য ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এর আগে গত মাসে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠায় বিইআরসিতে। পিডিবি উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৮১ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও বিইআরসিতে প্রক্রিয়াধীন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের প্রতি ১০০০ ঘনফুটের দাম ৭৯ দশমিক ৮২ টাকা থেকে ৮৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে পেট্রোবাংলা। গ্যাসের দাম বাড়লে এর প্রভাব পড়বে পাইকারি বিদ্যুতের ওপর। বতর্মানে এ বিষয়ে গণশুনানির প্রস্তুতি চলছে বলে বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, আমরা এ রকম একটি প্রস্তাব পেয়েছি। আমি এখনও এটি দেখিনি। শুনেছি ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম সমন্বয় নিয়ে বিইআরসি কাজ করছে। ডিসেম্বরে এ দু’টি ইস্যু নিয়ে গণশুনানি হবে। খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি পরে বিবেচনা করা হবে। প্রথমে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির শুনানি হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু গ্যাস প্রাথমিক উপাদান। এর সঙ্গে বিদ্যুতের বিষয়টি জড়িত। তাই প্রথমে গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হতে পারে। এদিকে চলতি বছরের মার্চে খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৬.৬৯শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়েছিল। এর আগে কমিশন আয়োজিত গণশুনানিতে বলা হয়েছিল, এ দফায় বিদ্যুতের দাম একটু বেশি বাড়ানো হচ্ছে যেন নিকট ভবিষ্যতে আর বাড়াতে না হয়। অন্যদিকে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারণে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সরকার তেলভিত্তিক রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানিতে সরকারের বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি দিতে হয়।
জনগণের কাঁধে বিদ্যুতের বাড়তি দাম চাপিয়ে সরকার লুটপাটের আয়াজন করা হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ করেন। তাদের মতে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়লে এমনিতেই খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়বে। একই সঙ্গে খুচরা বিদ্যুতের প্রস্তাব আসায় এটা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ম. তামিম বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই। বিশ্ববাজারের সঙ্গে তেলের দাম সমন্বয় না করার কারণে সরকারকে এ উদ্যোগ নিতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে অনেক আগেই। আমাদের দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তেলের সাহায্যে। তাই তেলের দাম সমন্বয় করা থাকলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম দীর্ঘদিন থেকে সমন্বয় করা হয় না। তাই এ দফায় দাম বৃদ্ধি কিছুটা বেশি মনে হতে পারে। শহরের বিত্তশালীরা সামান্য মূল্যে গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। গ্যাস ব্যবহার করে প্রতি ইউনিট উৎপাদনে খরচ পড়ে আড়াই টাকা। অন্যদিকে তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ছে সাড়ে সাত টাকা। খরচের তফাৎ আকাশ-পাতাল। তাই গ্যাসের দাম সমন্বয় করা দরকার। কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, বিতরণ সংস্থাগুলো নতুন করে লোক নিয়োগ করছে। এ কারণেও তারা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে মানুষের জীবনযাত্রায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে। খাদ্যসহ সকল পণ্যের দাম বাড়বে। এছাড়া সারের দামও বাড়বে। আর বিদ্যুতের দাম বাড়লে সেচের খরচ বাড়বে। ফলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এক কথায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে সকল শিল্প হুমকির মুখে পড়বে।