Thursday, October 22Welcome khabarica24 Online

সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বাংলাদেশ মডেল : মোদি

pic-15_135480
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থানকে একটি মডেল বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি তিনি এর কৃতিত্ব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈতনীতির সমালোচনা করেন তিনি।
মোদি বলেন, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ একটি মডেল। সব ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হাসিনাজি কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন। সীমিত সক্ষমতা নিয়ে এ কাজ করতে গিয়ে তিনি বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই একক লড়াই চালাতে গিয়ে শেখ হাসিনার জীবনও যে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে সে বিষয়েও তিনি অবগত।
গত শনিবার রাতে নিউ ইয়র্কে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির প্রথম বৈঠক হয়। ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠক শেষে মোদি শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন সফরসঙ্গী।
এদিকে গত সোমবার রাতে ওয়াশিংটনে কাউন্সিল অব ফরেন রিলেশন্সের এক অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশেরই সন্ত্রাসের আসল রূপ সম্পর্কে ধারণা নেই। আর এটা বোঝাতে গিয়ে প্রায়ই তারা দ্বৈতনীতির আশ্রয় নেয়।’ মোদি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট।
মোদি বলেন, ‘১৯৯০ সালের শুরুর দিকে আমি যখন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি, সে সময় আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশের (পাকিস্তান) পৃষ্ঠপোষকতায় মুম্বাইয়ে চালানো সিরিজ বোমা হামলাকে ভারতের আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা।’
মোদি বলেন, ‘আমাকে তখন বোঝানো হয়, ভারত নিজেদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে। বিদেশি ইন্ধনেই যে ভারতে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা ছিল অন্ধকারে। নাইন-ইলেভেনে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যখন সরাসরি এ ধরনের হামলার শিকার হলো, তখন পরিস্থিতি পাল্টে গেল।’
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নাম উল্লেখ না করে পাকিস্তানেরও সমালোচনা করেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন পাকিস্তানের বিষয়গুলো অন্যভাবে দেখানোর জন্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশটি পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের কৌশল নিয়েছে। এ কৌশল এখন তাদের জন্যই ফ্রাংকেনস্টাইন হয়ে উঠেছে। কোনো দেশকে বাগে আনতে না পারলে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ আরোপ করতে দেখা যায়, যদিও আমাদের প্রতিবেশী দেশটি যখন সন্ত্রাস রপ্তানি করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। এটা যে বড় ধরনের দ্বিমুখী আচরণ, আমেরিকানদের তা বোঝা উচিত।’
এক প্রশ্নের জবাবে মোদি সরাসরিই বলেন, ‘সন্ত্রাসের প্রকৃতি পুরোপুরি না জানলে আপনি এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবেন? এখানে বাছাবাছির কোনো সুযোগ নেই। কেউ আপনার ওপর বোমা মারলে সে সন্ত্রাসী; আর আমার শহরে যখন বোমা হামলা হলো- তখন সে-ই ঠিক, বিশেষ করে সে যখন আপনার মিত্র (পাকিস্তান)। এটা চলতে পারে না। এ ধরনের দ্বৈতনীতি বজায় রাখলে আপনারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিততেও পারবেন না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে নৈশ ভোজে যোগ দিতে যাওয়ার আগে এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈতনীতির সমালোচনা করেন মোদি।
এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশি হত্যার বিচার চেয়ে শেখ হাসিনাও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈতনীতির সমালোচনা করেন। সূত্র : বিডিনিউজ।