বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

হাসপাতালেও ট্যাংক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

images

মুমূর্ষু রোগীতে ভর্তি হাসপাতালও ইসরায়েলের হামলা থেকে ছাড় পাচ্ছে না। ১৪ দিন ধরে ফিলিস্তিন-শাসিত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের স্থল বর্বর হামলা চলছেই। গতকাল পর্যন্ত চতুর্দশ দিনে নিহতের সংখ্যা ৫১০-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছে তিন সহস্রাধিক। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু ও নারী। তবে গতকাল হামাসও ইসরায়েলি সেনাদের ওপর প্রথমবারের মতো সফল হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩২ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে বলে হামাস দাবি করেছে। অবশ্য তেলআবিব নিশ্চিত করেছে তাদের ২২ সেনা নিহত হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর জাতিসংঘ থেকে ভালোভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অধিকৃত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ক্রমবর্ধমান হতাহতের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে। মূলত গাজায় ইসরায়েলের চলমান বর্বর আগ্রাসনের বিষয়ে আলোচনার জন্য জর্ডানের আহ্বানে রবিবার রাতে বৈঠকে বসে নিরাপত্তা পরিষদ। গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের হামলার ত্রয়োদশ দিন গত রবিবার সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়। এদিন দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়। গতকালের ইসরায়েলি হামলায় দুটি পরিবারের অন্তত ৩০ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে একটি ‘নৃশংস পদক্ষেপ’ বলে তীব্র নিন্দা জানান। অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রবিবারের ইসরায়েলের বর্বরতার পর এই আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ওবামা। উভয় পক্ষের প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এর আগে এক বিবৃতিতে তিনি ইসরায়েল হামলাকে অনেকটা সমর্থন করে বলেন, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। গত তিন দিনের মধ্যে এ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ফোনে কথা বললেন ওবামা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল মিসরের রাজধানী কায়রো গেছেন। সেখানে তিনি মিসর ও অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে আলোচনা করার কথা তার। মধ্যপ্রাচ্য-সংকট নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও কথা বলেছেন। অবশ্য তিনি এ হামলাকে সমর্থন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মতো বলেছেন ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন তার আছে। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার সূত্রপাত ইসরায়েলি তিন কিশোরকে সম্প্রতি অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে মনে করে ইসরায়েল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। শুরু হয় যুদ্ধ। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরায়েল। তখন আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এবার যুদ্ধ ১৪ দিন পেরিয়ে গেছে।ইসরায়েলে সামরিক নিষেধাজ্ঞা দাবি নোবেলজয়ীদের : ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে ছয় নোবেলজয়ী। সম্প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে তারা এ আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনিদের স্বার্থরক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন প্যালেস্টাইন লিগ্যাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কে (প্ল্যান) ওয়েবসাইটে বলা হয়, ওই চিঠিতে সই করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, আর্জেন্টিনার মানবাধিকার কর্মী অ্যাডলফো পেরেজ এসকুইভেল, স্থলমাইন নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে যুক্ত মার্কিন রাজনৈতিক কর্মী জডি উইলিয়ামস, উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তিকর্মী মাইরিড ম্যাগুয়ের, বেটি উইলিয়ামস এবং গুয়েতেমালার আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত রিগোবেরতা মেনচু। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আরও রয়েছে মার্কিন দার্শনিক নোয়াম চমস্কি, পিংক ফ্লয়েডের রজার ওয়াটার্স, ব্রিটেনের নাট্যকার ক্যারিল চার্চিল, যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যাপ সংগীতশিল্পী বুটস রাইলি, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের সভাপতি হুয়াও আন্তোনিও ফেলিসও, কনফেডারেশন অব সাউথ আফ্রিকান ট্রেড ইউনিয়নের মহাসচিব জুয়েলিনজিমা ভাভি প্রমুখ। তারাসহ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খ্যাতনামা শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী মিলিয়ে ৯৯ জন। চিঠিটি সংক্ষিপ্ত আকারে গত ১৯ জুলাই গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ‘আটকেপড়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল আবারও তার পূর্ণ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেছে, বিশেষ করে অধিকৃত গাজা অঞ্চলে তাদের সামরিক আগ্রাসন নৃশংস এবং অবৈধ। গাজায় ইসরায়েলের চলমান এই হামলায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রাণহানি বাড়ছে, শত শত মানুষ আহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্য খাতসহ বেসামরিক নাগরিকদের স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে।’ চিঠিতে বলা হয়, অস্ত্র আমদানি-রপ্তানি এবং ইসরায়েলের সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সহযোগিতা দেওয়ার মধ্যে দিয়ে ইসরায়েলের এই সামরিক আগ্রাসন, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে তাদের সমর্থনের বিষয়ে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। গাজাবাসীর সঙ্গে সংহতি জানানো দেশগুলোর এখনই ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।২২ ইসরায়েলি সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে তেলআবিব : গাজায় আগ্রাসন চালাতে গিয়ে হামাসের পাল্টা হামলায় নিজের ২২ সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইহুদিবাদী ইসরায়েল। তেলআবিব আজ (সোমবার) আরও বলেছে, বৃহস্পতিবার রাতে গাজায় স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছে। অবশ্য ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেড বলেছে, তারা শনিবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করেছে। এএফপি, বিবিসি, আল-জাজিরা।

উৎস- বাংলাদেশ প্রতিদিন