সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

হাতে পরার স্মার্টফোন !

SS-2

মানুষের ইচ্ছা শক্তির চেয়ে হয়তো কল্পনা শক্তি বড়। কিন্তু তারপরেও আমরা অনেক সময় এমন কিছু দেখি যা কল্পনা শক্তিকেও হার মানায়। যেমন, আপনি যদি সিনেমার ফাইট পছন্দ করে থাকেন তবে আপনি হলিউড বা বলিউড নয়, দেখতে পারেন দক্ষিণি সিনেমা বা তামিল সিনেমা। সেখানে আপনি এমন কিছু ফাইটের দৃশ্য দেখবেন যা আপনার কল্পনা শক্তিকেও হার মানাবে।

হাতে পরার স্মার্টফোন !

তেমনি প্রযুক্তির অগ্রগতি যেভাবে ডালপালা মেলছে তাতে আপনার ইচ্ছা শক্তির সঙ্গে সঙ্গে কল্পনা শক্তিও নিশ্চিতভাবে হার মানবে। তার চেয়ে বড় কথা মোবাইল ফোন প্রযুক্তি এতো দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে যে, এখন মানুষের পক্ষে এর র্ট্যাক রাখাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। স্যামসাং বাঁকানো পর্দার স্মার্টফোন এনে পুরো টেক ওয়ার্ল্ডে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। তারপর তারা ঘোষণা দিয়েছে ভাঁজ করে রাখা যাবে এমন টেলিভিশন আনার।

কিন্তু সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চীনের স্বল্পখ্যাত মোবাইল কোম্পানি মোক্সি গ্রুপ ঘোষণা দিল তারা শুধু স্মার্টফোনের পর্দাই বাঁকাবে না, বাঁকাবে পুরো স্মার্টফোন! চীনের চংকিং ভিত্তিক মোবাইল কোম্পানিটি চলতি বছরেই এই সুবিধার ১০০,০০০ পিস স্মার্টফোন বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মোক্সি স্মার্টফোন দাম হবে ১০৬২ ডলারের মতো।

দাম যাই হোক, এই স্মার্টফোনের কারসাজি আপনাকে আকৃষ্ট করবেই। কারণ এই স্মার্টফোন শুধু বাঁকানোই যাবে না, এটাকে আপনি বাঁকিয়ে হাতের ব্রেসলেটও বানাতে পারবেন! যা আপনি ফ্যাশনেবল ব্রেসলেট হিসেবে হাতে পড়তে পারবেন। তারপরেও চাঁদের কলঙ্কের মতো এই স্মার্টফোনেও ছোট একটা সমস্যা আছে। তবে সেটাকে ছোট না বলে বড় বলাই শ্রেয়।

কারণ, এই অত্যাধুনিক যুগে যতই স্মার্ট হোক না কেন, আপনি নিশ্চয়ই সাদাকালো ডিসপ্লের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে চাইবেন না! হ্যাঁ, মোক্সি গ্রুপ আপাতত যে স্মার্টফোনগুলো বাজারে ছাড়বে তার সবগুলোই সাদাকালো ডিসপ্লের। তবে পরের ভার্সনে তারা কালার ডিসপ্লের স্মার্টফোন আনার ঘোষণা দিয়েছে।

ওই যে একটা কথা আছে না ‘প্রথম’। তারা সাদাকালো আনুক বা যাই আনুক বিশ্বের প্রথম ভাঁজ করা যায় এমন স্মার্টফোন বাজারে আনার কৃতিত্ব নিতে চাইছে। কেননা এরকম স্মার্টফোন আনার পরিকল্পনা আরো নামিদামি মোবাইল কোম্পানিরও আছে। কিন্তু তাদের টেক্কা দিয়ে মোক্সি গ্রুপ এ বছরই নিয়ে আসছে। হোক না সেটা সাদাকালো ডিসপ্লের।

মোক্সির এক্সিকিউটিভ চোংসেং জু বলেন, ‘সাদাকালো ডিসপ্লের স্মার্টফোন বানানো সবচেয়ে সহজ! তাছাড়া কালার ডিসপ্লের স্মার্টফোনে ব্যাটারির পাওয়ারও লাগে বেশি। আমরা আপাতত এটা চীনের জন্যে প্রস্তুত করছি, যদি অন্যদেশে চাহিদা থাকে তবে আমরা সেটা দেখবো।’

কানাডার কুইনস ইউনিভার্সিটির হিউম্যান মিডিয়া ল্যাবের ডিরেক্টর রোয়েল ভার্টিগাল বলেন, ‘যদি মোক্সি গ্রুপের স্মার্টফোনে স্ক্রিন তৈরিতে ফ্লেক্সিবেল ই-ইনক ব্যবহার করে থাকে তবে সেটা হবে সত্যিকার অর্থে ব্যর্থ। কারণ আমরা বছর পাঁচেক আগেই এই প্রযুক্তির একটি বাঁকানো স্মার্টফোনের খসড়া (প্রোটোটাইপ) তৈরি করেছিলাম। যার ডিসপ্লে খুব একটা ভালো ছিলনা। এবং এতে ভিডিও চালানো যেত না।’

তবে চোংসেং জু বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, তারা ই-ইনক প্রযুক্তিই ব্যবহার করছেন। এমনকি এই প্রযুক্তি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনও তাদের কিন্ডল ডিভাইস এর জন্যে ব্যবহার করছে। তাই আগে ই-ইনক এর পারফরম্যান্স কেমন ছিল সেটা দেখার বিষয় না। এখন এটা অনেক স্মার্টফোনের স্ক্রিনেই ব্যবহার হচ্ছে।

যাই হোক নতুন প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকবেই। এখন দেখা যাক বাজারে এটা কেমন সাড়া ফেলে। তাছাড়া এই এইচডি স্ক্রিনের যুগে সাদাকালো ডিসপ্লে গ্রাহকরা কীভাবে নেন সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় কথা যারা ব্যতিক্রম কিছু পছন্দ করেন তাদের কাছে এটা ভালোই কদর পাবে। বিশেষ করে যারা ফ্যাশন সচেতন। তাই আমরা অপেক্ষা করি যখন এটা বাজারে আসবে তখন এর বাজার প্রতিক্রিয়া কেমন সেটা দেখার জন্যে।