বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইসরাইলের

5_131059

রক্তের নেশায় মত্ত ইসরাইলি সেনারা এবার থামবে বলে মনে হয়। যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়ে তারা আর হামলা চালায়নি। হামাসও ওই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মিসরের মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি গাজা থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে ইসরাইল ঘোষণা দিয়েছে। লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এ ঘোষণাও দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তবে তারা হুশিয়ারি দিয়েছে হামাস যদি রকেট ছোড়ে তাহলে তার উপযুক্ত জবাব দেয়া হবে। তাই ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক মিনিট আগেও হামাসের রকেট নিক্ষেপ ও ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। সোমবার মধ্যরাতে ইসরাইল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় (৫.০০ জিএমটি) এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় দুই পক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এএফপি, বিবিসি।
সর্বশেষ শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি হামাস ও ইসরাইল মেনে চলার প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। সোমবার কায়রোতে আলোচনায় যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে এ অগ্রগতি হয়। তবে মাত্র একদিন আগে ইসরাইলের এককভাবে ৭ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি হামাস মেনে নেয়নি। বরং ওই যুুদ্ধবিরতিকে তারা ইসরাইলের নতুন কৌশল বলে ঘোষণা করে।ইসরাইলের এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধবিরতির জন্য তার দেশের কয়েকজন প্রতিনিধি কায়রোতে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় অংশ নেবেন। ইতিমধ্যে ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস ছাড়াও ফিলিস্তিনের কয়েকটি প্রতিনিধি দল সেখানে রয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি জানিয়েছেন, তারা শান্তি বজায় রাখতে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইতিমধ্যে মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসরকে আশ্বস্ত করেছেন।অস্ত্রবিরতি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগেও হামাস ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে রকেট নিক্ষেপ করে। এ সময় ইসরাইলের আশোদ, আশকেলন, জেরুজালেম ও তেলআবিবে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়। একইভাবে ইসরাইলি বিমান বাহিনীও গাজায় কমপক্ষে পাঁচ দফা অভিযান চালায়। হামলা শুরুর পর সোমবার রাতটি ছিল শান্ত। ওইদিন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।ইসরাইলি সেনাবাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা গাজা উপত্যকা থেকে সব সৈন্য সরিয়ে নেবে। হামাসের সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর তারা এ ঘোষণা দিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিটার লার্নার বলেন, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করছি। এ সময় গাজার বাইরে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সেনাসদস্যরা মোতায়েন থাকবে। আমাদের সেনাবাহিনী পুরোপুরি লক্ষ্য অর্জন করেছে। তারা গাজার ৩২টি সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে।জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন মাসব্যাপী গাজা সংঘাতের ঘটনায় ইসরাইল ও হামাসকে ‘সর্বোচ্চ সংযত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এক মাস সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শুরু করতে ইসরাইল ও হামাস সম্মত হওয়ার পর তিনি এ আহ্বান জানান। অস্ত্রবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘ মহাসচিবের দফতর থেকে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রবিরতি ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কায়রোতে যতদ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু করতে বান উভয় পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রেসিডেন্ট আব্বাসের নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি দলের ইতিবাচক ভূমিকাকে স্বাগত জানান। জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করে বান কি মুন বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা স্থায়ীভাবে সহিংসতা বন্ধের একমাত্র উপায়।জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের দূতরা এ সংকট বিষয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সাধারণ অধিবেশনে বসার কথা রয়েছে।৮ জুলাই শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সর্বমোট ১৮৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং সাড়ে ৯ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তবে জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১৮১৪। এদের মধ্যে ১৫২৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে ওসিএইচএ। তারা জানায়, নিহতদের ৮৬ শতাংশ অর্থাৎ ১৩১২ জন সাধারণ মানুষ। এদের মধ্যে আবার ৪০৮ জন শিশু ও ২১৪ জন নারী রয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, ৩ লাখ ৭৩ হাজার শিশুর জরুরি ভিত্তিতে মানসিক চিকিৎসা দরকার। ওসিএইচএ আরও জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২১৫ জন যোদ্ধা। সংস্থাটি জানায়, জাতিসংঘ পরিচালিত ৯০টি স্কুলে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৭০ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে। ২ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে তাদের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে ৬৪ ইসরাইলি সেনা ও তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে ওসিএইচএ জানিয়েছে। তবে হামাসের দাবি, তাদেও যোদ্ধাদের হামলায় অন্তত ১৩০ ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছে।৮ জুলাই থেকে ইসরাইলের ভূখণ্ডে বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এর নাম দেয়া হয় অপারেশন প্রোটেক্টিভ এজ। হামাসের রকেট নিক্ষেপের অভিযোগে এ হামলা শুরু করা হয়। এরপরে হামাসের তৈরি করা সুড়ঙ্গ ধ্বংসের নাম করে ১৭ জুলাই থেকে ইসরাইলি বাহিনী স্থল অভিযান শুরু করে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর দাবি ২৯ দিনের অভিযানে তারা গাজা উপত্যকায় ৪ হাজার ৬৮৬টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সময় গাজা থেকে ইসরাইল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ২ হাজার ৫৬০টি রকেট ও মর্টার শেল ছুড়েছে হামাস।