বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সিলেটে ছাত্রদল নেতা খুন

29908_b2

সিলেটে ছাত্রদল নেতা জিল্লুর হক জিলুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল সন্ধ্যায় মদিনা মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকা-ের পর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেট। রাতে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় বিক্ষোভ করে। অপরদিকে ছাত্রদলের অপর একটি গ্রুপ নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় ভাঙচুর চালায়। এদিকে হত্যা ঘটনায় ছাত্রদলের মীরবক্সটুলা গ্রুপকে দায়ী করেছে জিলুরের সহকর্মীরা। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জে। তিনি গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। সিলেট নগরীতে বসবাসকারী জিলুর প্রথমে মীরবক্সটুলা গ্রুপের নেতা ছিলেন। পরে গ্রুপ বদল করে মীরাবাজার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। ইলিয়াস মুক্তি আন্দোলনেরও নেতা ছিলেন তিনি। বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক মামলার আসামিও ছিলেন। প্রায় দুই মাস কারাবরণের পর গত মাসে জিলু জেল থেকে বের হন। খুনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত জিলুর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টায় জিলু মদিনা মার্কেট এলাকার একটি দোকানের সামনে তার সহপাঠীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ঠা-া পানীয় পান করছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী পাঠানটুলা থেকে ৩টি মোটরসাইকেলে ৬ সন্ত্রাসী এসে তাকে মারধর শুরু করে। তখন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন জিলুর। কিন্তুসন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র থাকায় জিলু পাশের একটি গলি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ক্যাডাররাও সন্ত্রাসীরা গলির ভেতরে ধাওয়া করে তাকে নির্মমভাবে কোপাতে থাকে। জিলু এ সময় ‘বাচাঁও’ ‘বাচাঁও’ বলে চিৎকার করলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হামলার সময় জিলুর সঙ্গে থাকা ছাত্রদলকর্মী ভুলন কান্তি তালুকদার হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মদন মোহন কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি কাজী মেরাজ আহমদ, জামাল আহমদ ওরফে কালা জামাল, দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকির, ইমাদ উদ্দিন, সালেহ আহমদ, নেছার আলম, ওদুদ মিয়া, কাওসার, সায়েমসহ বেশ কয়েকজন জিলুর ওপর হামলা চালিয়েছে। গ্রুপ পরিবর্তন করায় জিলুর উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন ভুলন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবদুল আহাদ খান খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গ্রুপিং কোন্দলের কারণেই জীবন দিতে হলো জিলুকে। এদিকে, হামলা শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় রামদাসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে পুলিশ আরেকজনকে আটক করে। জালালাবাদ থানার ওসি গৌসুল হোসেন জানিয়েছেন, হত্যাকা-ের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে হাসপাতালে জিল্লুরের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার রাজনৈতিক কর্মীরা। মা ও বোনের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। খুনের ঘটনার পরপরই জিলুরের রাজনৈতিক সহকর্মীরা নগরীর সুবিদবাজার এলাকায় জামাল ওরফে কালা জামালের আস্তানায় ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা বিক্ষোভ করে। রাত সোয়া ৮টার দিকে ছাত্রদলের মীরাবাজার গ্রুপসহ আরও কয়েকটি গ্রুপের কর্মীরা হাসপাতাল থেকে মিছিল বের করে। মিছিল শেষে আয়োজিত সমাবেশে তারা খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আহাদ খান জামাল, মহানগর নেতা মতিউল বারী চৌধুরী খুরশেদ, আবদুল কাইয়ূম সহ সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।