শুক্রবার, ১৫ অক্টোবর ২০২১, ৩০ আশ্বিন ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সাত খুন নিয়ে গণশুনানি- ‘আলামত প্রমাণ করে হত্যাকাণ্ড র‌্যাব করেছে

23210_f3

 

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের মামলায় দু’দিনব্যাপী গণশুনানির প্রথম দিনে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য অনেকে নাম লেখান। কিন্তু সাক্ষ্য দিতে পারেন মাত্র ৬ জন। আলোচিত ওই ঘটনায় সাক্ষ্য দিতে না পেরে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে গতকাল সাক্ষ্য দিয়েছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা। বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত  নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার ভেতর সার্কিট হাউজে এই গণশুনানি নিয়েছে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি। আগামী বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো এ শুনানি চলবে। শুনানিতে সাক্ষ্যপ্রদানকারীরা বলেন, নূর হোসেন টাকা খরচ করে র‌্যাবকে দিয়ে ৭ জনকে হত্যা করিয়েছে। লাশের সঙ্গে বাঁধা ইট, দড়ি, বস্তা এবং হত্যাকাণ্ডের ধরন ও আলামত প্রমাণ করে এই হত্যাকাণ্ড র‌্যাব করেছে। যে তিন র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার অভিযোগ উঠেছে সেই র‌্যাব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব তথ্য বের হয়ে আসবে। কেউ কেউ বলেন, যেভাবে গণশুনানি হচ্ছে এতে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? এখানে সাক্ষ্য দিয়ে যে আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবো এর নিশ্চয়তা কি? তখন তদন্ত কমিটি বলেন, আপনাদের নিরাপত্তা দেয়া হবে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শুনানিতে সাক্ষ্যপ্রদানকারীরা হচ্ছেন ফতুল্লা মাসদারইর এলাকার জামাল উদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জের নুর হোসেন মুন্না, সিদ্ধিরগঞ্জের আজিপুর এলাকার আবুল কাশেম, সিদ্ধিরগঞ্জের এডভোকেট মজিবুর রহমান, এডভোকেট রাসেল ও ঠিকাদার শাহীন আজাদ। এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল শুনানিতে অংশ নিতে নাম লিপিবদ্ধ করলেও শেষ পর্যন্ত শুনানিতে অংশ না নিয়েই চলে যান। সার্কিট হাউসের মতো সংরক্ষিত এলাকায় এ শুনানির ব্যবস্থা করায় হতাশ হয়েছেন ওই ঘটনায় হাইকোর্টে রিট দায়েরকারী ‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৬ দিনেও কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আর সংরক্ষিত এলাকায় শুনানির ব্যবস্থা করায় সাক্ষীদের মধ্যে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করেছে। গণশুনানির কার্যক্রম কোন পাবলিক প্লেসে করার প্রয়োজন ছিল। এতে সাক্ষীরা সহজে তাদের সাক্ষ্য দিতে পারতেন। আসামিদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোন আসামি পালিয়ে গেলে সেজন্য সরকার দায়ী। পুলিশ প্রশাসন মামলা নিতে গড়িমসি করেছে। কাদের কারণে আসামিরা পালিয়ে গেছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৭ অপহরণ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফতুল্লার মাসদাইরের জালাল উদ্দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে বসে প্রস্রাব করছিলেন। ওই সময় তিনি র‌্যাবের একটি গাড়ি ও একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস (১২/১৩ সিটের) পূর্ব থেকেই সেখানে অবস্থান করতে দেখেন। হঠাৎ সেখানে দু’টি প্রাইভেটকার থামানো হয়। সাদা রঙের প্রাইভেটকারে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫ জন ও নীল রঙের প্রাইভেটকারে আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালকসহ দু’জন ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের লোকজন ওই প্রাইভেটকার দু’টি থেকে তাদের নামিয়ে কালো রঙের মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয়। পরে কালো রঙের মাইক্রোবাসটি ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয়  স্টেডিয়াম সংলগ্ন তক্কার মাঠের বিপরীতে লামাপাড়া মার্কাজ মসজিদের সামনের সড়ক দিয়ে চলে যায়। ঘটনার সময় লিংক রোডের অপর প্রান্তে একটি প্রাইভেটকারে ছিলেন নূর হোসেন।
শাহিন আজাদ বলেন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগীকে সাধারণ মানুষ অপহরণ করে নিতে পারবে না। সাহসও করবে না। হোসেন চেয়ারম্যান একা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে না। সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও র‌্যাব ছিল। এতগুলো মানুষকে এক সঙ্গে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া একমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই করতে পারে। নূর হোসেন শামীম ওসমানের লোক। নূর হোসেনই র‌্যাবকে টাকা দিয়ে নজরুল ইসলামসহ অন্যদের হত্যা করিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে সরাসরি হাত রয়েছে নূর হোসেনের। নূর হোসেন নজরুল ভাইয়ের পেছনে লেগে আছে অনেক দিন আগে থেকে। নূর হোসেনের কোন বৈধ ব্যবসা নেই। তাকে গ্রেপ্তার করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাছাড়া ৩ র‌্যাব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছে। তারা গ্রেপ্তার হলেও হত্যাকাণ্ডের সব কিছু জানা যাবে।
জেলা জজ আদালতের এপিপি এডভোকেট আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ রাসেল বলেন, নূর হোসেন ও র‌্যাব জড়িত থাকার বিষয়টি পানির মতো পরিষ্কার। নূর হোসেন অর্থের যোগানদাতা। ৬ কোটি টাকার ভাগ ডিসি, এসপিসহ অনেকেই পেয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নূর হোসেন বাহিনীর নামে ১২টি অস্ত্রের লাইসেন্স নিলেও বেনামে ২০-২৫টি অস্ত্র ছিল। তার আতঙ্কে কেউ এলাকায় শান্তিতে বসবাস করতে পারতো না। যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্য, হাউজি, অসামাজিক কার্যকলাপসহ এহেন কাজ নেই যা নূর হোসেন করতো না। প্রশাসনের শেল্টারেই তার আধিপত্য বিস্তার ঘটেছে। তার উত্থানের পেছনে গডফাদারের হাত রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এডভোকেট মজিবুর রহমান বলেন, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার তার গাড়িচালকসহ অপহৃত হওয়ার পর আমরা তিন দিন আন্দোলন করেছি। তাদের উদ্ধারের প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। কিন্তু প্রশাসন তাদের উদ্ধারের তেমন একটা তৎপরতা দেখায়নি। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে লাশ ভাসার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যাই এবং দাদার (চন্দন সরকারের) লাশ দেখতে পাই। আমরা এ নির্মম হত্যকাণ্ডের বিচার চাই।
নিহত নজরুলের বড় ভাই আবদুস সালাম বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তদন্ত কমিটির কাছে গিয়ে বলেন, নিহত ৭ জনের মধ্যে  ৬ জনই সিদ্ধিরগঞ্জের। সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক লোক শুনানিতে অংশ নিতে আসতো। এত দূর এসে নিরাপত্তার কারণে আসতে ভয় পাচ্ছে। আপনারা (তদন্ত কমিটি) যদি সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়ে গণশুনানি করেন তাহলে স্বতঃর্স্ফূতভাবে লোকজন সাক্ষ্য দিতে আসবে। তদন্ত কমিটির কাছ থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা জানান আবদুস সালাম।
১৫ই মে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আবারও সার্কিট হাউসে গণশুনানি হবে।
অপহরণের ঘটনাসহ মৃতদেহ উদ্ধারের সময় যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তারা সাক্ষ্য দিতে পারবেন।
এর আগে, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিহত ৭ জনের পরিবারের ২৫ সদস্যের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার মৃতদেহ উদ্ধারস্থল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কমিটির সদস্যরা।
‘র‌্যাবের সহায়তায় নূর কলকাতায় পালিয়েছে’
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর নূর  হোসেনকে ভারতের কলকাতায় পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে র‌্যাব- এমন অভিযোগ করেছেন নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম শহীদ চেয়ারম্যান। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান একটি সাক্ষাৎকারে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেন এবং সাত খুনের সঙ্গে শহীদ চেয়ারম্যান জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান। এই সাক্ষাৎকারের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শহীদুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি সাংবাদিক সম্মেলন করবো। পত্রিকা অফিসে প্রতিবাদ পাঠাবো। তিনি অভিযোগ করেন, ‘জিয়াউল আহসানই নূর হোসেনকে কলকাতায় পার করে দিয়েছে।’
এমন অভিযোগ কেন করছেন জানতে চাইলে শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, সাত খুনের ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবের কর্মকর্তারা যে জড়িত সেটি পরিষ্কার হয়ে উঠছে। এখন র‌্যাবকে বাঁচাতে জিয়াউল হাসান নিজেই নূর হোসেনকে কলকাতায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। তারা সবাই মিলে র‌্যাবকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবার দাবির পরেও অভিযুক্ত র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। এমনকি আদালতের নির্দেশের পরেও তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তার মানে কি? র‌্যাব চেষ্টা করছে র‌্যাবকে বাঁচাতে।’
পাঁচ পরিবারের সাক্ষাৎ
জড়িতদের খুঁজে এনে বিচার করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনে জড়িতদের খুঁজে এনে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার গণভবনে নারায়ণগঞ্জের অপহরণের পর খুন হওয়া পাঁচ জনের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাত করতে গেলে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অমানবিক এ হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তারা কেউ রেহাই পাবে না। হত্যাকারীরা যে অবস্থানের  হোক, যে দলেরই হোক কাউকে ছাড়া হবে না। তাদের খুঁজে এনে বিচার করা হবে। শাকিল বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে। এজন্য ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ  থেকে র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের অপসারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরে সরকার নীরব বসে থাকেনি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব, পুলিশ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনার পরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রকৃত খুনি অপরাধীকে গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আমি সব হারিয়েছি। স্বজন হারানোর বেদনা বুঝি। আপনারা যারা স্বজন হারিয়েছেন আমি তাদের সঙ্গে আছি। এর আগে রোববার নিহত আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গতকাল দেখা করেন, নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান খান, চালক জাহাঙ্গীর, তাজুল ইসলাম এবং লিটনের পরিবারের সদস্যরা।
নূর হোসেনের সহযোগী রতন গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের মূলহোতা কাউন্সিলর নূর হোসেনের সহযোগী পরিবহন চাঁদাবাজ রফিকুল ইসলাম রতন (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে কোথায় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মঈনুর রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম রতন নূর হোসেনের চার খলিফার একজন। তাকে গতকাল বিকালে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা বলতে রাজি হননি তিনি।  স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম রতন দীর্ঘদিন ধরে ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাইলো গেট শাখা কমিটির দায়িত্বে রয়েছে। কাউন্সিলর নূর হোসেনের অন্যতম শিষ্য হিসেবে ওই এলাকায় ট্রাক থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলতো সে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নূর হোসেনের সঙ্গে আছে রতন। ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের পর নূর হোসেন পালিয়ে গেলে সুর পাল্টিয়ে কিছু দিনের মধ্যেই বিএনপির পরিবহন চাঁদাবাজদের সঙ্গে মিশে যায় রতন। মহাজোট ক্ষমতায় এলে নূর হোসেন দেশে এলে রতন তার পুরনো নেতার দলে ভিড়ে যায়। গত ৫ বছর নূর হোসেনের সহযোগী হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো এলাকায় ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে রতন। গতকাল দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের মাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, রতন গত বছর সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা করে সার্জেন্ট জিয়াসহ ট্রাফিক পুলিশদের আহত করার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি। এ ছাড়াও চট্টগ্রামের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে।
নূরের মাদক সিন্ডিকেটের এক সদস্য গ্রেপ্তার: নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের মাদক সিন্ডিকেটের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তার নাম রাসেল আলী। তার কাছ থেকে ২৫ বোতল ফেনুিুসডিল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, সাত খুনের মামলার প্রধান আসামিু নূর হোসেনের কাছ থেকে সে ফেনসিডিল এনে বিক্রি করতো। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর কদমতলীর দক্ষিণ দনিয়া থেকে রাসেলকে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দনিয়ার দাসপাড়ার ১৪৩৫ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ রাসেলকে আটক করা হয়।নারায়ণগঞ্জে আইনজীবীদের বিক্ষোভ মিছিলনারায়ণগঞ্জে সাত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল দুপুরে আদালতপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আইনজীবীরা। এর আগে আইনজীবীরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে আইনজীবীরা খুনিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাবেক সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, এডভোকেট বারী ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাকির হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুল হামিদ ভাষানী, এডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল, এডভোকেট মশিউর রহমান শাহীন, এডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল প্রমুখ।  নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, আমরা পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করছি। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলবে। মঙ্গলবার আমরা ফের মানববন্ধন পালন করব। এর আগে আইনজীবীরা সকালে কর্মবিরতি পালন করেন। আইনজীবীদের পক্ষ থেকে একটি দল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত তদন্ত কমিটির সঙ্গে দেখা করে আসামিদের পক্ষে সাফাই সাক্ষী গ্রহণ না করার জন্য মৌখিকভাবে অনুরোধ জানান।
নারায়ণগঞ্জে এবার গার্মেন্ট কর্মকর্তা নিখোঁজ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় এবার অলিউল্লাহ (৩২) নামে এক গার্মেন্ট কর্মকর্তা নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ওই ব্যক্তি ওসমান গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রাসেল গার্মেন্টের সুপারভাইজার। রোববার বিকালে তিনি ঢাকায় তার কাকার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। অলিউল্লাহ ফতুল্লার পাগলা শাহীবাজার এলাকার সালাম হাওলাদারের ছেলে। গতকাল অলিউল্লাহর স্ত্রী লাইজু বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। লাইজু  জানান, রোববার বিকালে অলিউল্লাহ তার চাচার বাড়ি ঢাকা ম্যাচ এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।  অলিউল্লাহর কোন সন্ধান না পেয়ে গতকাল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে জানান লাইজু। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান থানায় ডায়েরি করার খবর নিশ্চিত করেন।