রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৯ কার্তিক ১৪২৮খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সাত খুনের পরবর্তী অগ্রগতি প্রতিবেদন ৪ জুন

7-murder_99574

নারায়ণগঞ্জের সাত অপরহণ ও খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির পরবর্তী অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ৪ জুন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির এক সপ্তাহের প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের পর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
হাইকোর্ট নির্দেশিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তাদের প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার তা আদালতে দাখিলের পর এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নারায়নগঞ্জের সাত অপহরণ ও খুনের ঘটনাসহ র‌্যাবের সাম্প্রতিক ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন আদালত।শুনানি চলাকালে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্ণেল জিয়াউল আহসানের একটি বক্তব্যের প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আদালত। আদালত বলেন, র‌্যাবের এ কর্মকর্তা পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন, নূর হোসেন কলকাতায়, শহীদ চেয়ারম্যান জড়িত কি না দেখছি। হাইকোর্ট বলেন, আমরা বলেছিলাম এ মামলার তদন্তের সঙ্গে যেন কোনোভাবে র‌্যাব জড়িত না হয়। র‌্যাব কর্মকর্তার বক্তব্য মামলার সাক্ষীর জন্য হুমকিস্বরূপ এবং আদালত অবমাননাকর।সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এস এম নাজমুল প্রতিবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত দুপুরে শুনানি করেন।প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জনের এবং পরদিন আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় গত ৫ মে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারির পাশাপাশি অন্তর্র্বতীকালীন আদেশ দেন।আদেশে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় প্রশাসন, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কোনো গাফিলতি আছে কি-না, তাসহ পুরো ঘটনা তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মো. আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই উপ-সচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। এ কমিটিকে আগামী ৪ জুন তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।