বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সাকার স্ত্রী, ছেলে ও উকিলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

rlrtrv4j_122254

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরীর ব্যাপারে রায়ের খসড়া ফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহজাহান আসামিদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী ২০১৩) অনুযায়ী অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে ২৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। ২১ ধরনের আলামত জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
অভিযোগপত্রে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের দুই সহকারী আইনজীবী এ কে এম মাহবুবুল হাসান ও মেহেদী হাসান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিস সহকারী (সাঁটলিপিকার) ফারুক হোসেন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়ন আলীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কম্পিউটারে সংরক্ষিত ফাইল থেকে পেন-ড্রাইভের মাধ্যমে রায়ের খসড়া সরবরাহ এবং পরে অনলাইনে প্রকাশ ও প্রচার করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে অপরাধ করেছেন। প্রসঙ্গত অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের মধ্যে ফারহাত কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও মেহেদী হাসান পলাতক। ব্যারিস্টার ফখরুলসহ অন্যরা কারাগারে আছেন।
শাহবাগ থানার সাধারণ শাখা কর্মকর্তা (জিআরও) মাহবুবুর রহমান জানান, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ-সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন রায় ঘোষণার আগে সাকার পরিবারের সদস্যরা রায়ের খসড়া বাঁধাই করে ট্রাইব্যুনালে যান। রায় ঘোষণার পর তাঁরা অভিযোগ করেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনাল সেটা ঘোষণা করেছেন। আগের রাতে একটি ওয়েবসাইটসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রায়ের খসড়া প্রকাশিত হয়। পরের দিন ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে স্বীকার করা হয়, রায়ের খসড়া ট্রাইব্যুনাল থেকে ফাঁস হয়েছে। একই সঙ্গে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। পরে সাধারণ ডায়েরির অভিযোগের তদন্তে নামে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার, চারটি পেন-ড্রাইভ এবং সাকার আইনজীবীর চেম্বার থেকে সিপিইউ, প্রিন্টার ও সিডিসহ কম্পিউটার জব্দ করে। ৩ অক্টোবর শাহবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করে ডিবি পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বছরের ১০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়ন আলী ও ১৩ অক্টোবর সাঁটলিপিকার ফারুক হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁরা জানান, ব্যারিস্টার ফখরুলের পরিকল্পনায় তাঁর সহকারী মেহেদী হাসান পেন-ড্রাইভের মাধ্যমে রায়ের খসড়া কপি ট্রাইব্যুনাল থেকে সরিয়ে নিয়ে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন। ওই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত বছরের ২০ নভেম্বর সেগুনবাগিচার পাইওনিয়ার রোডের চেম্বার থেকে ফখরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। চেম্বার থেকে দুটি সিপিইউ, একটি প্রিন্টার, ৫০-৬০টি সিডি ও বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ।