শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সরকার নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চালু করতে চায়: ফখরুল

a12

সরকার দেশে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চালু করতে চায় বলে অভিযোগে করেছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। সর্বশেষ তারা গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সমপ্রচার নীতিমালা করেছে। উদ্দেশ্য একটাই গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের দেশের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চালু করা। কিন্তু অবৈধভাবে কেউ বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, শুক্রবার ১৫০০ পুলিশ দিয়ে সরকার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয় ঘিরে রেখেছিল। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের ভেতরে দলের চেয়ারপারসনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান হবে জেনে পুলিশ এই কাজ করেছে। ঘরের ভেতরে অনুষ্ঠান হবে এতেই তাদের এত ভয়! এ থেকে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে মাটি নেই। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে যখন বিশেষ ক্ষমতা আইন, জরুরি অবস্থা জারি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তখন মাত্র ১১ মিনিটে তারা সংসদে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা পাস করেছিল। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের বাতাস বইছে। এ জন্য তারা গণতন্ত্রের আবরণে সব নিয়ন্ত্রণ করে দেশে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছে। ১৫ই আগস্ট রাতে বেসরকারি টেলিভিশনে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের বাকশাল প্রসঙ্গে দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এনডিপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক তথ্যমন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের বর্ণাঢ্য জীবন-ইতিহাস তুলে মির্জা আলমগীর বলেন, ৫০-৬০ এর দশকে যেসব নেতা দেশে প্রগতিশীল আন্দোলন করেছেন, তাদের মধ্যে আনোয়ার জাহিদ ছিলেন পথিকৃৎ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বতন্ত্র পরিচিতির বিষয়ে তিনি কখনওই আপস করেননি। সংগঠনের চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা জামাল হায়দার, ন্যাপ সভাপতি জেবেল রহমান গানি, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মোবিন, এনপিপি সভাপতি ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।