বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

সংসদের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের তাগিদ মুনের

29053_f1

এবার আরও স্পষ্ট বার্তা দিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি তাগিদ দিয়েছেন সঙ্কট সমাধানে সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার। গতকাল জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন (৫ই জানুয়ারি) আয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় বান কি-মুন আবারও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে ১৯শে জুন ওই বৈঠকটি হয়। ওই তারিখেই মহাসচিবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘রিডআউট অব দ্য সেক্রেটারি জেনারেল্‌স মিটিং উইথ হিজ এক্সেলেন্সি মি. আবদুল হামিদ, প্রেসিডেন্ট অব বাংলাদেশ’ শিরোনামে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়। তিন প্যারার ওই বিবৃতির প্রথমাংশে বলা হয়, হামিদ-মুন বৈঠকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, মৃত্যুহার কমানো ও দারিদ্র হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় প্যারায়-বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের অবদানের জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টকে বান কি-মুনের ধন্যবাদ জানানোর বিষয়টি স্থান পায়। বৈঠকে আগামী সেপ্টেম্বরে জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের বিষয়টি মহাসচিবকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সেটিও স্থান পেয়েছে ওই অংশে। বিবৃতির তৃতীয় ও শেষাংশে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন না হওয়া এবং ওই নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোট সংসদের বাইরে চলে যাওয়াসহ সৃষ্ট সঙ্কট উত্তরণে গুরুত্বের সঙ্গে কয়েকটি তাগিদ দেন বান কি-মুন। ওই নির্বাচনের আগে তিনি দেশের শীর্ষ দুই নেত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। চিঠি দিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার জোর তাগিদ দিয়েছেন। চূড়ান্ত মুহূর্তে তার দূত অস্কার ফার্নানদেজ তারানকোকে পাঠিয়েছেন। ওই দূতের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি অবস্থানে থাকা সরকার ও বিরোধী পক্ষের নেতারা এক টেবিলে আলোচনায় বসেছেন। কিন্তু তারা কোন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। ওই ঘটনায় মুন যে ব্যথিত হয়েছিলেন সেটি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকেও স্মরণ করেন। তবে সঙ্কট নিরসনে তিনি যে এখনও আশাবাদী তা বৈঠকে জানিয়েছেন। তিনি ‘সামাজিক ও রাজনৈতিক সমপ্রীতি এগিয়ে নিতে’ দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন: বিএনপি
স্টাফ রিপোর্টার: প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদকে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ‘বেটার’ মনে করা হয়। যখন তিনি প্রেসিডেন্টের শপথ নেন, তখন নিরপেক্ষ থাকার শপথ নেন। এখন বিদেশে গিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে বলছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে। জনগণ সে নির্বাচন বর্জন করার পরও প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি নিরপেক্ষ নন। গতকাল সকালে রাজধানীতে আলাদা দু’টি অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ভোটাধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও মাহমুদুর রহমান’-এর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পেশাজীবীদের এক সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন। প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, কোথায় দেখলেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে? গোটা দেশের মানুষ তো নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতারা জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনকেও বলেছিলেন, এটি সাংবিধানিক ধারা রক্ষার নির্বাচন। এখন প্রেসিডেন্ট যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আওয়ামী লীগ নেতাদের ভার্সন। মির্জা আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছে। এখন তারা ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছেন। সুইস ব্যাংকে টাকা পাঠাচ্ছেন। কানাডা-মালয়েশিয়ায় বাড়ি করছেন। আপনারা এত সহজে ক্ষমতা ছাড়বেন না। কিন্তু প্রস্তুতি নিন, জনগণ ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন- কত বলবো, বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। শুনতে শুনতে আপনারাও ক্লান্ত। তবে রাজনীতিতে হতাশার কোন স্থান নেই। সরকারকে হটাতে আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না দিয়ে দেশে যে অবস্থা তৈরি হবে তার দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, কালশীর ঘটনায় সরকারদলীয় ব্যক্তিরা জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কিন্তু সরকার গডফাদারদের অস্ত্র-গুলি দিয়ে জনগণকে নির্যাতন-নিপীড়ন ও হত্যা করে সরকার টিকে থাকতে চাইছে। তাই শামীম ওসমান ও হাজারীদের মতো গডফাদারদের লালন করছে। কোন স্বৈরশাসক বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। নমরুদ-ফেরাউন থেকে শুরু করে এরশাদ পর্যন্ত কেউই ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, আওয়ামী লীগও পারবে না। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে রিট প্রসঙ্গে মির্জা আলমগীর বলেন, এক ভদ্রলোক হাইকোর্টে ওই রিট আবেদনটি করেছিলেন। এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক নেই। তাঁরা চান রাজনৈতিক বিষয়ের রাজনৈতিক সমাধান। আদালতের নির্দেশে সব হলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। কারণ আদালত তাঁকে ‘রং হেডেড’ বলেছিলেন। আইন করে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনেরও বৈধতা দেয়া যাবে না। জনগণের ভোট ছাড়া নির্বাচন বৈধ হয় না। সরকারের এসব কথার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। কারাগারে থাকা অবস্থায় মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা আলমগীর বলেন, তিনি একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। আমি তাকে বলেছিলেন, জামিনের জন্য আবেদন করুন। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন, এ আদালতের কাছে আমি জামিন চাইবো না। কারণ এ আদালত আমার ন্যায়বিচার করবে না। নীতির প্রশ্নের কোন আপস না করায় সরকারের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পাবেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমরা এমন এক দেশে বসবাস করছি যে দেশে গডফাদারদের নির্দেশে হত্যাকা- ঘটছে। কিন্ত সেই গডফাদারদের গ্রেপ্তার না করে তাদের রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে সত্য কথা বলার কারণে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মতো মানুষদের গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে নেতাকর্মী ও পেশাজীবীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো জাতির বিবেক আজ ঘুমিয়ে পড়েছে। সরকারের অন্যায়ের প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করার জন্য আমরা কাজ করছি কিনা তা নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করে দেখুন। মানুষের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে দেশে দুর্নীতি হবে না- এমন নিশ্চয়তা জাতিকে দিতে হবে। বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে সমাবেশে সদস্যসচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এ্যাব-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আনহ আকতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যপরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. বোরহান উদ্দিন বক্তব্য দেন। এর আগে সকালে নয়া পল্টনের হোটেল ভিক্টোরিতে আয়োজিত বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। অথচ প্রেসিডেন্ট একটা আস্থার জায়গা। তিনি জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। জনগণের কথা না বলে দলীয় কথায় কাজ করছেন তিনি। আমরা প্রত্যাশা করি প্রেসিডেন্ট দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করবেন।