শনিবার, ২৭ জুলাই ২০২৪, ১২ শ্রাবণ ১৪৩১খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

শেখ হাসিনা জানেন এখন নির্বাচন হলে ‘তাঁর দল জিতবে না

image_134220.hasina pm
মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে এই বক্তব্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য আমেরিকা সফররত প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘‘কিসের মধ্যবর্তী নির্বাচন? এমন কি সমস্যা হয়েছে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন? কার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের দলকে ক্ষমতায় আনতেই মধ্যবর্তী নির্বাচন?”
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এই সংবাদ সম্মেলনে এক প্রবাসী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রাখেন। বিরোধী দলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল সংলাপে বসবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘সংলাপটা আবার কী? সংলাপ কার সাথে? বিরোধী দল? কে বিরোধী দল? সংসদীয় গণতন্ত্রে কারা বিরোধী দল? এর ডেফিনেশন কি?”
প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহেদুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নৈতিকতার ভিত্তি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে তখন কোন সরকার প্রধান এমন কথাই বলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য এই নির্বাচন। নির্বাচনের পরে সবার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নির্বাচনের দিনক্ষন ঠিক করা হবে। এখন তিনি উল্টো কথা বলছেন।”
শাহেদুজ্জামান বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নিজেও জানেন এখন কোন নির্বাচন হলে তার দলের পক্ষে জেতা হবে না। কারণ জনগন তাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাই তিনি বলে ফেলেছেন, কার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন? বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতেই মধ্যবর্তী নির্বাচন?”
অধ্যাপক শাহেদুজ্জামান বলেন, ‘‘অনেক নিরপেক্ষ বিশ্লেষকও এখন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছেন। দিন যত যাবে সরকারের ভিত্তি ততই দূর্বল হয়ে পড়বে।”
বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি হয়তো এখন সে ধরনের কোন আন্দোলন করতে পারেনি, তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, বিএনপি কিন্তু ভেঙেও যায়নি। দলটি শক্তভাবে মাঠে নামলে জনগণ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেবে। ফলে এখনই প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এমন একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
নিউইয়র্কের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় জাতীয় পার্টি এখন বিরোধী দল হিসাবে রয়েছে।” বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দলের সংসদের বাইরে থাকা নিয়ে প্রবাসী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘বাইরে আছে তো, বাইরে আছে। আমি কি করবো? নির্বাচন করে নাই- তো করে নাই। রাজনীতিতে কেউ ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার খেসারত তাকেই দিতে হবে।”
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মানবতা বিরোধী অপরাধে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাজা কমে আমৃত্যু কারাদণ্ড হওয়ার পর সরকারি দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আঁতাতের যে অভিযোগ উঠেছে তাও উড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘আঁতাত হলে বিচার হয়? মৃত্যুদণ্ড হবে কি না- সে সিদ্ধান্ত নেবে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগে তো হস্তক্ষেপ করতে পারি না।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত যত কথা দিয়েছেন তার একটিও রাখেননি। ১৯৮৬ সালেও চট্টগ্রামে একটি সমাবেশে শেখ হাসিন বলেছিলেন, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেঈমান। এর পরদিন ঢাকায় এসে তিনি নির্বাচনের যাওয়ার ঘোষণা দিলেন।”
এম কে আনোয়ার বলেন, ‘‘এবার শেখ হাসিনা নিজেই বললেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য নির্বাচন। নির্বাচনের পরই সবার সঙ্গে আলোচনা করে নতুন নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। এবারও তিনি কথা রাখলেন না।”
আন্দোলন করে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলতে চাই না। তাই নরম কর্মসূচী পালন করছি। ঈদের পর টানা আন্দোলনে যাবো। সরকার যদি আমাদের আন্দোলনে বাধা দেয় তাহলে আমরাও সেভাবেই জবাব দেব। আন্দোলন করেই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো হবে।’