বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৭ মাঘ ১৪২৯খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

শুধু নির্বাচন গণতন্ত্রের মাপকাঠি নয় : ড. কামাল

image_165349.dr. kamal
শুধু নির্বাচন গণতন্ত্রের মাপকাঠি নয়’ বলে জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, শুধু নির্বাচন দিয়েই কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।আজ শনিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘বাংলাদেশের শাসন পরিস্থিতি ২০১৩ : গণতন্ত্র, দল এবং রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।অবস্থার পরিবর্তনে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, কেবল আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংলাপ হলে চলবে না। সংলাপ হতে হবে ছোট-বড় সব দলের মধ্যে। তবে সংবিধানের মূলনীতি মেনেই সংলাপে বসা উচিত।বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা কামাল হোসেন বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে সব বিষয়ে সব দলের ঐক্য হবে না এটাই স্বাভাবিক, তবে সংবিধানের মৌলিকতার বিষয়ে সব দলের ঐক্য থাকতে হবে।সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ৫ জানুযারি নির্বাচন না হলে দেশে ওয়ান ইলেভেনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত। সরকারের দায়িত্ব হলো এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করা, মহাজোট সরকার সেটাই করেছে।এ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও একই কথা বলেন এবং তিনি সেইসঙ্গে সরকারকেই দায়ী করেন।’দলের ভেতর গণতন্ত্রের পাশাপাশি দেশে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারও থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার অনুপস্থিত। গণতন্ত্রের জন্য স্পেস দরকার। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে সে স্পেস আজ পাওয়া যাচ্ছে না।’অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন সংলাপের জন্য দুই প্রধান দলকেই ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগকে সংলাপে আসার, বিএনপিকে জামায়াত ত্যাগ করার এবং জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধীদের ত্যাগ করার পরামর্শ দেন তিনি।ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের এই অনুষ্ঠানে বিআইজিডি’র নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা, বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে ছিলেন।প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাষ্ট্র, জনগণ, গণতন্ত্র, রাজনীতি, দল, ক্ষমতা, সংবিধান, বাক স্বাধীনতা, সহিংসতা, রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন, মনোনয়ন পদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব, প্রভাব, কমিটি কার্যক্রম, রাজনেতিক দলের নিয়ন্ত্রণ, সংসদীয় প্রতিনিধিত্বসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এটি বিআইজিডির এ ধরনের সপ্তম প্রতিবেদন।