বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০খবরিকা অনলাইনে আপনাকে স্বাগতম।

শাস্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন সাকিবের

1_18762

নিষিদ্ধ হওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ঘর থেকে বের হননি। সময় কাটিয়েছেন পরিবারের সঙ্গে। অবশেষে গতকাল প্রথম জনসমক্ষে দেখা দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিরপুর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন করেন। হাতে লেখা আবেদনপত্রটি সাবেক টাইগার অধিনায়ক জমা দেন বিসিবির ভারপ্রাপ্ত সিইও নিজামুদ্দিন সুজনের কাছে। চিঠি পেলেও পরিচালনা পর্ষদের সভার আগে কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না বিসিবি। তবে বিসিবির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, সাকিবের শাস্তি না কমার সম্ভাবনাই বেশি। যদি শাস্তি কমানো হয়, তাহলে দেশবাসীর কাছে ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান অনেক হালকা হয়ে যাবে।ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে চলাকালীন টিম ম্যানেজমেন্টের অনুমতি না নিয়ে সাজঘর ছেড়েছিলেন সাকিব। এরপর গ্যালারিতে এক ক্রিকেটপ্রেমীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) খেলতে ঢাকা ছাড়েন অনাপত্তি পত্র না নিয়ে। ছাড়পত্র না নিয়ে ঢাকা ছাড়ায় বিসিবি তাকে অনুশীলনে যোগ দিতে বলে। সিপিএল খেলতে না পারায় বিরক্ত সাকিব ফোনে কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহের সঙ্গে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডে ছাড়ার হুমকি দেন। সাকিবের হুমকি কোচ ই-মেইলে জানান বিসিবিকে। ঢাকায় ফিরে অবশ্য কোচের সঙ্গে বাদানুবাদের বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন সাকিব। তবে ৭ জুলাই বোর্ড সভার আগে সবকিছু স্বীকার করেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কাছে। এরপরই সভায় পরিচালনা পর্ষদ সব ধরনের ক্রিকেটে ছয় মাস নিষিদ্ধ করে সাকিবকে এবং দেশের বাইরে খেলার বিষয়েও দেড় বছরের বিধিনিষেধ আরোপ করে।বিসিবির সিদ্ধান্তের পর দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে দেশবাসী। একটি জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ১ লাখ ২১ হাজার লোকের ওপর জরিপ চালায়। তাতে দেখা যায়, সাকিবকে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে ৪৭ শতাংশ লোক এবং শাস্তির বিপক্ষে মত দেন ৪৭ শতাংশ।শাস্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান সাকিব। তারপরও গত ১৬ জুলাই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানোর অনুরোধ করেন বোর্ড সভাপতির সঙ্গে দেখা করে। সভাপতি নিষেধাজ্ঞা কমানোর বিষয়ে কোনো কিছুই বলেননি। বিসিবি সভাপতির সঙ্গে দেখা করার পর থেকেই ক্রিকেট পাড়ায় ভেসে বেড়াতে থাকে সাকিবের শাস্তি কমে যাচ্ছে। বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসের বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও জোরালো হয়। জালাল জানিয়েছিলেন, আগে আবেদন করতে হবে সাকিবকে। তারপর ভাববে বোর্ড। মিডিয়া চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পর গতকাল নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার আবেদন করেন সাকিব।শাস্তি কমানোর আবেদন করার পর কোচ হাতুরাসিংহের সঙ্গে দেখা করেন সাকিব। কোচ তাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর মিডিয়ায় নিজের আবেদন পত্রটি পড়ে শোনান। সালাম জানিয়ে শুরু করেন আবেদনপত্র। এরপর নিজের অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন, ‘আমার কোনো আচরণে বিসিবি বিব্রত হলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একই সঙ্গে দর্শক, যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে সবসময় থাকেন, তাদের সঙ্গে বাজে আচরণের জন্যও দুঃখিত। স্বীকার করছি আমি একজন পেশাদার এবং বোর্ডের চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার হিসেবে অনেক সময় শৃঙ্খলা মেনে চলা কিংবা যথাযথ আচরণ করতে পারিনি।’ তবে ভবিষ্যতে এসব না করার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন দেশসেরা অলরাউন্ডার, ‘ভবিষ্যতে পরিণত আচরণ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আমি।’ অসদাচরণ, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, কোচের সঙ্গে বাদানুবাদের বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে বলেন, ‘বোর্ডের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’ আবার এও বলেছেন ক্রিকেটের বাইরে থাকার কথা চিন্তা করা তার পক্ষে অসম্ভব। দেশের পক্ষে খেলা সবসময়ই গর্বের বলেন সাকিব, ‘ক্রিকেট খেলা থেকে দূরে থাকার মতো কষ্ট আর কিছুই হতে পারে না। ক্রিকেট আমার জীবন। অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে আমি বিসিবির লোগো ও দেশের জার্সি পরে খেলছি। এটাই আমার কাছে সবচেয়ে গর্বের বিষয়। বাংলাদেশ দল আমার কাছে সব কিছুর ঊর্ধ্বে। বাংলাদেশের জন্য সব কিছু উজার করে খেলতে প্রস্তুত।’নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে আবেদন করেছেন সাকিব। বিসিবির পরবর্তী ধাপ কি? এ প্রসঙ্গে বিসিবির ভারপ্রাপ্ত সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তার লিখিত আবেদন পেয়েছি। এখন বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় অনেকভাবেই হতে পারে। বোর্ড সভাপতি নিজে নিতে পারেন। বোর্ড সভায় হতে পারে, কিংবা বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটিও নিতে পারে।’ দেশসেরা অলরাউন্ডারের আবেদন নিয়ে কবে পরিচালনা পর্ষদ আলোচনায় বসবেন, সেটা নিশ্চিত হয়নি। তেমনি স্পষ্ট করে সাকিবও জানতে পারেননি কবে থেকে আবার ব্যাট-বলের অনুশীলনে নামতে পারবেন।